০১:০৯ পি.এম
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে, যেখানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফল উন্নত করা। প্রয়োজনে, শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি হারানোর কোনো আশঙ্কা নেই।
আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তর ও ধর্ষণের অভিযোগে মানববন্ধন
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এবারের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি এবং পাসের হার কমার পেছনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা এবারও রাখা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী মূল্যায়নে বঞ্চিত না হন। গত এসএসসি পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও ভাবছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কত দিনের মধ্যে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হলে ভালো হবে, তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন, এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত
ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে, ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে।
গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে তুলনায় এবারের পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবারে পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই এবং লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন