ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ, পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হলো নমুনা


রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ, পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হলো নমুনা

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তে যুক্ত হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত একটি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

উদয় কুমার মণ্ডল আরো জানান, মাংস বিক্রেতার নাম এবং মুঠোফোন নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব ব্যক্তিরা ওই বিক্রেতার কাছ থেকে মাংস কিনেছেন, তাদের পরিচয় এবং যোগাযোগের তথ্যও সরবরাহ করা হয়েছে। রান্না করা মাংসের নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় গরুবাহী ট্রলি খাদে পড়ে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন নিহত

বুধবার (২২ জুলাই) পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীদের পিকনিকের রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর রান্না করা মাংস নিয়ে তারা মাংস বিক্রেতা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং পাইকগাছা থানায় যান।

মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা জানান, ওই দিন সকালে পাইকগাছা বাজারের একটি দোকান থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা হয়েছিল। পিকনিকের জন্য রান্না করার সময় তারা দেখেন, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু মাংস বিক্রেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি হলো, তিনি ভালো মানের মাংস বিক্রি করেছেন এবং মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি।

পাইকগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এই ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা করার সক্ষমতা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেই এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধাও তাদের নেই।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বা কেমিক্যাল পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। যদি মাংসে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাংসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তারা কোনো লিখিত অভিযোগ প্রদান করেননি।

ওসি বলেন, তিনিও মাংসের সবুজ রং ধারণের বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের তুমুলিয়া ইউনিয়নের প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষী বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘরের মাঠে আনতে মরক্কোর বিশাল প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ এম


শতবর্ষী বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘরের মাঠে আনতে মরক্কোর বিশাল প্রস্তুতি

বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসরের ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজনের স্বাগতিক অধিকার পেতে এখন স্পেন এবং মরক্কো মুখোমুখি অবস্থানে আছে। প্রথম আসরের ঠিক ১০০ বছর পর, ২০৩০ সালের ঐতিহাসিক এই বিশ্বকাপ তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশের মধ্যে আয়োজিত হতে চলেছে।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের দেশের মাটিতে দেখতে মরক্কো খুবই আগ্রহী, আর সেই কারণে তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু করেছে। তবে মরক্কোর এই বিশাল স্বপ্নের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্পেনের ঐতিহাসিক ভেন্যু 'সান্তিয়াগো বার্নাবু'। এই স্টেডিয়ামটি, যা রিয়াল মাদ্রিদের ১৯১ কোটি ডলার ব্যয়ে নতুন রূপে সংস্কার করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ফাইনাল আয়োজনের মূল দাবিদার হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

কাসাব্লাঙ্কার প্রায় ২৫ মাইল উত্তরে 'এল মনসুরিয়া'-তে নির্মাণাধীন 'গ্র্যান্ড স্টেডিয়াম হাসান ২'-এর কাজ এগিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন নতুন ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে। এই স্টেডিয়ামটিতে একসাথে ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখতে পারবেন—যা উত্তর কোরিয়ার 'রুংরাডো ফার্স্ট অফ মে' স্টেডিয়ামের চেয়ে ১,০০০ আসন বেশি।

২০২৮ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা এই স্টেডিয়ামটিতে মরক্কো জাতীয় দলের পাশাপাশি স্থানীয় দুটি বিখ্যাত ক্লাব 'রাজা সিএ' এবং 'ওয়াইদাদ এসি' তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।

মরক্কোর নিজস্ব সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে একটি 'মুসেম' তম্বুর আদলে চোখধাঁধানো অ্যালুমিনিয়ামের ছাদ ডিজাইন করা হয়েছে। এই নকশাটি তৈরি করেছে খ্যাতনামা আর্কিটেকচারাল ফার্ম 'পপুলাস' এবং মরক্কোর স্থপতি প্রতিষ্ঠান 'ওয়ালালো + চয়'.

বিস্তারিতভাবে দেখা গেলে, বিশাল বাগানঘেরা আশপাশের এলাকা এবং অন্তত ১২ হাজার ভিআইপি ও অতিথির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি ফিফার যেকোনো চাহিদার সঙ্গে একদম হুবহু মিলে যায়। বিলিয়ন ডলারের মেগা-স্টেডিয়ামগুলোর এই যুগে, সরকার মাত্র ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে প্রকল্পটি শেষ করার পরিকল্পনা করেছে, যা সত্যিই খুবই সাশ্রয়ী। কোনো অর্থহীন বা বোঝা হয়ে থাকা প্রকল্পের পরিবর্তে স্টেডিয়ামটিকে মূল কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে চারপাশে একটি প্রাণবন্ত খেলাধুলা ও বিনোদন জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ এম


বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ও ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে। ঠিক এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের পর প্রায় সব আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখার নতুন উপায় হিসেবে হোয়াইট হাউস এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের মতে, ৩০১ ধারার আওতায় নেয়া এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি আগের শুল্কের তুলনায় শক্তিশালী। কারণ অতীতেও এই ধারা আদালতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে গেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) শেষ হবে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্যগুলো নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে না।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদাররাও একই মানদণ্ড অনুসরণ করার। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

গ্রিয়ার আরও বলেন, যেসব দেশ এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না। কারণ এসব চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২.৫ শতাংশ হবে। আর চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক।

ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, নতুন শুল্ক মূলত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত বর্তমান শুল্ক কাঠামোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের স্থান নেবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তার দাবি, নতুন শুল্ক কেবল আগের শুল্কের বিকল্প নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার অংশ হিসেবে এটি চালু করা হয়েছে। তার মতে, অন্য দেশগুলো এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকায় তারা অন্যায় বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান-উভয় দলই দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সেই আহ্বানেরই প্রতিফলন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন প্রয়োজনে শুল্কসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক উপায় ব্যবহার করে নীতিগত লক্ষ্য অর্জন করবে।

নতুন শুল্ক থেকে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো যেসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই ২৩২ ধারার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্ক রয়েছে, সেগুলো অব্যাহতি পাবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্কের বাইরে থাকবে। কারণ এসব পণ্য উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ এবং এগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন উপাদান ব্যবহৃত হয়।

৩০১ ধারার আওতায় আরোপিত এই চূড়ান্ত শুল্ক কাঠামো মূলত ১ জুন প্রস্তাবিত জোরপূর্বক শ্রম শুল্কেরই অনুসরণ করেছে। যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে, তাদের পণ্যে ১০ শতাংশ এবং যেসব দেশে এ ধরনের আইন বা প্রয়োগ অপর্যাপ্ত, তাদের পণ্যে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে আইন সংশোধন ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা এখন ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।

গণশুনানির পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য, পশু ও বীজজাত পণ্য এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থকেও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করেছে।

সূত্র- রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ দেশের পাসপোর্ট-তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ এম


পাঁচ দেশের পাসপোর্ট-তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে

একসময়কার প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক পরিচয় প্রদান করে এবং পাঁচটি দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হননি। দুবাই পুলিশের কাছ থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য একটি চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারও আনুষ্ঠানিকভাকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতার ইঙ্গিত এসেছে। এই চিঠি চালাচালির প্রক্রিয়ায় দ্রুত বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশের এই অভিযানকে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানগুলোর একটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আইনি জটিলতা দূর করে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদের বিচার সম্পন্ন করা হলে দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির একটি মাইলফলক রচিত হবে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, ‘বিদেশ থেকে অপরাধী ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। সব বাধা দূর করে বেনজীর আহমেদকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারলে এটি সরকারের জন্য বড় একটি সাফল্য হবে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা স্পষ্ট বার্তা পাবে যে দুর্নীতি করে বিদেশে পালিয়ে থাকা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদি তাঁকে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দিতে সক্ষম হবেন, তাহলে পুলিশ বাহিনীও একটি বার্তা পাবে যে পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত রক্ষা পাওয়া যাবে না।’

জানা গিয়েছে, যখন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে, তখন তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক দাবি করে ওই দেশের পাসপোর্ট দেখান। তবে পরবর্তী নিবিড় তল্লাশির মাধ্যমে তাঁর কাছে ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি দেশের পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পাসপোর্ট এবং পর্তুগালসহ আরো দুটি দেশের পাসপোর্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এর মাধ্যমে ই-মেইলে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে। গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে ফেরত আনার প্রস্তুাব পাঠানোর বিষয়টি সেদিন জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুবাই থেকে চিঠি পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে বেনজীরকে ফেরত আনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দুবাই পুলিশ ওই প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্রুত ফিরতি চিঠি পাঠিয়েছে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বেনজীর আহমেদ কি না। সেই চিঠির সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তারের নথিপত্র ও ছবিও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলার নথি সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিলম্ব না করে আরবি ভাষায় একটি চিঠি পাঠিয়েছে যার মধ্যে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মামলার নথি সহ বেশ কিছু বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে সেই জবাব প্রস্তুত করছে, জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় মোট ৭৪ কোটির বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে বেনজীর দেশে এবং বিদেশে বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক শেয়ার কিনেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয় লুকিয়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দুদকের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলা বিচারাধীন এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ এম


ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল বাতাস, যা ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনজুড়ে দাবানলকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের মুখে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

গরমে দক্ষিণ ইউরোপের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঊর্ধ্বে চলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

কিছুদিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ইতালির সিসিলি দ্বীপ। সেখানে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় হাজার সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য মারা যাওয়ার খবর ইতালি সরকার জানিয়েছে। পাশাপাশি কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের মুখে নিরাপদে আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন জুলি লিওনার্দ নামের একজন ব্যক্তি। তিনি জানিয়েছেন, বিকেলের মাঝামাঝি সময় আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। বোর্দো এলাকার কাছে সমুদ্রতীরবর্তী পাইনবনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।

ফরাসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে লে পর্জের দাবানলে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এখনও কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি এবং হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আগের দিন মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হন।

এদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরো বড় একটি দাবানল নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের শত শত কর্মী কাজ করছেন। এ দাবানলে ইতিমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%