০৭:২৬ এম
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তে যুক্ত হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত একটি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
উদয় কুমার মণ্ডল আরো জানান, মাংস বিক্রেতার নাম এবং মুঠোফোন নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেসব ব্যক্তিরা ওই বিক্রেতার কাছ থেকে মাংস কিনেছেন, তাদের পরিচয় এবং যোগাযোগের তথ্যও সরবরাহ করা হয়েছে। রান্না করা মাংসের নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় গরুবাহী ট্রলি খাদে পড়ে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন নিহত
বুধবার (২২ জুলাই) পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীদের পিকনিকের রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর রান্না করা মাংস নিয়ে তারা মাংস বিক্রেতা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং পাইকগাছা থানায় যান।
মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা জানান, ওই দিন সকালে পাইকগাছা বাজারের একটি দোকান থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনা হয়েছিল। পিকনিকের জন্য রান্না করার সময় তারা দেখেন, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু মাংস বিক্রেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি হলো, তিনি ভালো মানের মাংস বিক্রি করেছেন এবং মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি।
পাইকগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় বলেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এই ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষা করার সক্ষমতা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নেই এবং প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধাও তাদের নেই।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন হলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বা কেমিক্যাল পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। যদি মাংসে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাংসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তারা কোনো লিখিত অভিযোগ প্রদান করেননি।
ওসি বলেন, তিনিও মাংসের সবুজ রং ধারণের বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরের তুমুলিয়া ইউনিয়নের প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন