ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ৮০০ শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান


গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ৮০০ শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ৮০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের শিক্ষকরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ‘বেঁচে থাকার এক বাস্তব লড়াই’ করছেন। তাদের নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে চীনা নাগরিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় ৪ পুলিশ গ্রেপ্তার

মন্ত্রণালয়ের দাবি, গাজা ও পশ্চিম তীরের শিক্ষা খাত ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে ‘ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের’ শিকার হয়েছে। বর্তমানে ১৭০-এরও বেশি শিক্ষক ইসরাইলের হেফাজতে রয়েছেন এবং তারা ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে আটক আছেন।

শিক্ষকদের দুর্ভোগ চলাচলে বিধিনিষেধ ও শত শত চেকপোস্টে হয়রানির কারণে আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তা, মধ্য পশ্চিম তীরের আল-মুগাইয়ির গ্রাম, জর্ডান উপত্যকা এবং ‘এরিয়া সি’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।

১৯৯৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন অসলো-২ চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে: এ, বি ও সি। এর মধ্যে ‘এরিয়া এ’ ফিলিস্তিনি বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ‘এরিয়া বি’ ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসন ও ইসরাইলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত ‘এরিয়া সি’ পুরোপুরি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে।

ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের ওপর নিপীড়নের পাশাপাশি তীব্র আর্থিক সংকটও তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। ফিলিস্তিনের করের অর্থ আটকে রাখার কারণে শিক্ষকদের আর্থিক ও মানসিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: লিবিয়া ও তুরস্কের মধ্যে নতুন সামুদ্রিক চুক্তি অনুমোদন

‘ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ’ নামে পরিচিত এই অর্থ আমদানি করা পণ্যের ওপর ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হয়ে যে কর আদায় করে, তা থেকে আসে। ১৯৯৪ সালের প্যারিস প্রটোকলের আওতায় এসব অর্থ ফিলিস্তিনের কাছে হস্তান্তরের কথা।

২০১৯ সাল থেকে ইসরাইল এসব রাজস্ব থেকে অর্থ কেটে রাখা শুরু করে এবং পরে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের পুরো বেতন পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে।

ফিলিস্তিনের মোট সরকারি রাজস্বের প্রায় ৫৬ শতাংশই আসে এই ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ থেকে। ফলে এসব অর্থ আটকে রাখায় বেতন পরিশোধ, সরকারি সেবা প্রদান এবং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং শিক্ষা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: কাতার জানাল, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলছে

এছাড়া আটক শিক্ষকদের মুক্তি এবং আটকে থাকা আর্থিক পাওনা পরিশোধের জন্য বিশ্বজুড়ে শিক্ষক সংগঠনগুলোকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিকের ৬ শিক্ষার্থী বালি আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে পদক জিতেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিকের ৬ শিক্ষার্থী বালি আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে পদক জিতেছে

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে নীলফামারীর সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। 'ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ, লিডারশিপ অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি (আইওইএলএলএস)-২০২৬'-এ অংশগ্রহণ করে তারা ৪টি স্বর্ণপদক, ১টি রৌপ্যপদক এবং ১টি বিশেষ সম্মাননাসহ মোট ৬টি পদক জিতেছে। এই সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটির ৬ শিক্ষার্থী।

২৫ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর বালিতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক দেশ ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নেপাল এবং বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে।

বিজয়ীদের মধ্যে পোস্টার প্রেজেন্টেশনে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে দলগতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করে ইংলিশ ভার্সনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহলা আনজুম, ষষ্ঠ শ্রেণির আরিয়া ইসলাম অদিত্রী এবং বাংলা ভার্সনের সপ্তম শ্রেণির দলনেতা মো. আল ইমতিয়াজ সিয়াম।

স্পেলিং বি প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে ইংলিশ ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ্ আস সাবের। অন্যদিকে ইংলিশ অ্যান্ড লিডারশিপ অলিম্পিয়াড জুনিয়র ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রৌপ্যপদক পেয়েছে বাংলা ভার্সনের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দয়িতা ইসলাম নাবা। পাশাপাশি স্পেলিং বি প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে বিশেষ সম্মাননা পদক লাভ করেছে ইংলিশ ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরশিয়া ইসলাম অরোরা।

শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক জয়ে পুরো প্রতিষ্ঠান পরিবার উচ্ছ্বসিত। এ উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) বিজয়ী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল সৈয়দ শাফিউল ইসলাম মেরাজ, পিএসসি এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাসউদুর রহমান, পিএসসি বলেন, "শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আমরা অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে পেরেছি। এই জয় পুরো দেশের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৯/১১ ধাঁচে বিমান বিধ্বস্তের পরিকল্পনা, সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


৯/১১ ধাঁচে বিমান বিধ্বস্তের পরিকল্পনা, সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ৯/১১-এর মতো হামলা চালিয়ে সেটি ভবন বা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) হেফাজতে থাকা হামামি তদন্তকারীদের কাছে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটের মূল পাইলট স্মিত মাচ্চারকে সরিয়ে দিয়ে বিমানটি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন হামামি। তার উদ্দেশ্য ছিল সন্দেহ তৈরি না করে প্রয়োজনীয় অবতরণের অনুমতি নেওয়া এবং শেষ মুহূর্তে হামলা চালানো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগে হামামি জর্ডানের আকাশসীমায় ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্চার ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের পর হামামি জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্চারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হামলার সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পরে বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামামি এর আগেও হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কথা ভাবলেও শেষ মুহূর্তে এক ক্রু সদস্যের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে তিনি সরে যান বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। পরে জুন মাসে ইসরায়েল সফরের সময় হামলার প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহে মনোযোগ দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন বিমান সংস্থাগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন হামামি। এ কারণেই ফ্লাইদুবাইকে বেছে নেওয়া হয় বলে তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবন কিংবা জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক স্থাপনায় বিমানটি বিধ্বস্ত করার বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে হামামির জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামামির কাছ থেকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাননি এবং ইউএই ও সৌদি আরবের তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এদিকে ইউএইর কর্তৃপক্ষ হামামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামামি বর্তমানে ইউএইর হেফাজতে রয়েছেন এবং তার পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য অন্য কোনো সহযোগীর বিষয়ে তদন্ত চলছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী মাত্রাকে অতিক্রম করেছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে চারদিন এই অঞ্চলের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ের তুলনায় বেশি ছিল।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ১ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী এক বছরে এই অঞ্চলের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।

তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি সাত দিনের গড় হিসাবেও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এই হিসাবের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ, লোহিত সাগরের মাধ্যমে যাতায়াত, বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে রপ্তানি এবং ওমান সাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্যাংকারে হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তেল রপ্তানির এই বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাহাজ চলাচলবিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান মারিস্কসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ইউকেএমটিও জানাচ্ছে, গত ২ অক্টোবর থেকে হরমুজ প্রণালি অথবা এডেন উপসাগরে প্রতিদিন অন্তত একটি করে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পিলারে বিদ্যালয় ভবন, ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পিলারে বিদ্যালয় ভবন, ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৪৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই ওই ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পিলারের পলেস্তারা খসে পড়া এবং কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি একটি প্রবাহমান ওয়াপদার খালের পাড়ে অবস্থিত। ভবনের এক পাশে খালের প্রবল স্রোত। অন্যদিকে ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রায় ৩৬টি পিলারের প্রতিটিতেই ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে পলেস্তারা পুরোপুরি খসে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। ফলে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবনটি পুনর্নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে ফাটল বাড়লেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

শুধু ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকিই নয়, বৃষ্টি হলেই নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। ভিজে যায় বই-খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য আসবাবপত্র। এতে স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে দেয়াল ও পিলারের ফাটল দেখলে তাদের ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ায় বই-খাতা ভিজে যায়। যেকোনো সময় পলেস্তারা বা ভবনের কোনো অংশ খসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে তাদের মধ্যে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক বিমলা ঘটক বলেন, “ভবনের বর্তমান অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূরবী সরকার বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থাও করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”

অভিভাবকরা জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের আশপাশে প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক পরিবারের সন্তানদের জন্য এটিই প্রধান ভরসা। তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, “ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একটি চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির বিমের কংক্রিট ধসে পড়েছে এবং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, “বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির মাধ্যমে ভবনটি যাচাই-বাছাই করে ব্যবহার উপযোগী কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও অবগত আছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে।”

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পিড়ারবাড়ী, নইয়ারবাড়ী, উত্তর শশিকর ও পশ্চিম শশিকর এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিদ্যালয় ভবনটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%