ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রেস সচিব


তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রেস সচিব

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, ফ্যাক্টচেকিংয়ের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গুজব, গুঞ্জন ও অপপ্রচার রুখতে তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর ভুল তথ্য থেকে জনগণকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নিয়মিত আয়োজন ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’-এ অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

ডিআরইউ’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে অনলাইন পোর্টাল, পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য শুধু সরকারকে বিব্রত করছে বা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং অনিবন্ধিত অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য, গুজব, গুঞ্জন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর জন্য গণমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, তিন মাস যদি এমন সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠান কোনো একটি টেলিভিশনে চলে, কিংবা অন্তত সবগুলো টেলিভিশনে চলে, দেখবেন জনগণ এমনিতেই সচেতন হয়ে যাবে।

আর যারা মিসইনফরমেশন-ডিসইনফরমেশনের এই ব্যবসা খুলে বসেছেন, তারাও নিজেদের গুটিয়ে নেবেন।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। তবে স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তা লেখা নয়। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা সরকার, কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিক নির্ধারণ করবেন না; আইন ও বিধি অনুযায়ী আদালত সেই সীমারেখা নির্ধারণ করবে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বর্তমান সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

সালেহ শিবলী বলেন, সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছে। সরকার সকলের হওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে।

সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে সালেহ শিবলী বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল, তাদের সুদসহ সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সারা দেশের প্রায় ১২ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

অনুষ্ঠানে হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের একটি নির্দিষ্ট টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে হাম ছড়িয়ে পড়ার সময় টিকার সংকট দেখা যায়। ফেব্রুয়ারিতে যখন হাম ছড়ানো শুরু করলো, তখন দেখা গেলো টিকা নেই। এর অর্থ হলো এর আগে পাঁচ বছর ঠিকমতো টিকা দেওয়া হয়নি।

হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, সাধারণত শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দুই মেয়াদে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু বিগত সরকারগুলোর আমলে গত পাঁচ বছরে বহু শিশু টিকার আওতার বাইরে ছিল। ফলে মার্চ থেকে রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে টিকার সংকট তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শোকসন্তপ্ত মায়েদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। সরকার অতীতের ওপর দায় চাপিয়ে বসে থাকেনি।’

‘এপ্রিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে দেশের ৩৫টি জেলায় এবং পরবর্তীতে মে-জুন মাসে এক কোটির বেশি শিশুকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদাকে সম্মান জানানো আমাদের সংস্কৃতির অংশ। তবে সরকারি অফিসে প্রতিদিন শত শত ফাইলে স্বাক্ষর করার সময় নামের পাশে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ লিখে উপস্থাপন করা যৌক্তিক নয়। এ কারণে সরকারি নথিতে এ ধরনের স্ব-সম্বোধনের প্রথা বন্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুধু রাজনীতি বা সরকারের দোষারোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও যোগ্য সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, পলক ও মামুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। তবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার হাদী বাবুল আক্তার বাবলুর গল্পটা ভিন্ন। জীবনের অপূর্ণ প্রেমকে সঙ্গী করে হাতে তুলে নিয়েছেন বাঁশি। সেই বাঁশির সুরেই কেটে গেছে প্রায় ২৫ বছর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৭ সেপ্টেম্বর) আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডের জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাঁশির সুরে দর্শকদের আনন্দ দেন বাবলু। তাঁর বাঁশির সুর শুনতে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরিচিত নানা গানের সুর তুলে উপস্থিত দর্শকদের কিছুটা সময়ের জন্য মাতিয়ে রাখেন তিনি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা গ্রামের হাদী আতিউর রহমানের ছেলে বাবলু। এলাকায় তিনি ‘বাঁশি বাবলু’ নামে পরিচিত। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

জীবিকার প্রয়োজনে দর্জির কাজ ও কৃষিকাজ করেন। পাশাপাশি ফুটবল খেলেন এবং শখের ‘দাবুড়ে’ ঘোড়া নিয়ে বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

তবে এসব পরিচয়ের পাশাপাশি বাবলুর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি একজন বংশীবাদক। প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশি বাজিয়ে আসছেন। বাড়ি থেকে বের হলেই বাঁশি থাকে সঙ্গে। সাইকেলে পথে বের হলে পরিচিত-অপরিচিতরা তাঁকে থামিয়ে বাঁশি বাজানোর আবদার করেন। বিনা পারিশ্রমিকেই তাঁদের আবদার পূরণ করেন তিনি।

রাস্তার মোড়, বাজার, নদীর পাড় কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই বাঁশিতে সুর তোলেন বাবলু। তাঁর সুর শুনতে পথচারীরাও কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান।

বাবলু বলেন, ওস্তাদ মনা মিয়া, জিতেন ঘোষ ও ওস্তাদ কায়েমের কাছ থেকে বাঁশি বাজানো শিখেছি। প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশির সুরে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ২৪ ঘণ্টাই বাঁশি আমার সঙ্গে থাকে। সুযোগ পেলেই সুর তুলি।

তিনি আরও বলেন, কলেজজীবনে প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার পর বাঁশির সুরের মাঝেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। মানুষের আনন্দের জন্য বাকি জীবন কাটাতে চাই। রেডিও-টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পাওয়াটা আমার স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ছিরু বলেন, মাথায় লম্বা চুল আর বাঁশির সুর—দুটিই বাবলুকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এ অঞ্চলে তাঁর বাঁশির সুর শোনেননি, এমন মানুষ খুব কম।

আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, বাঁশি বাংলা সংস্কৃতির প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রগুলোর একটি। বাবলু দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম, হাট-বাজার ও পথে পথে বাঁশির সুর ছড়িয়ে লোকজ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

বাবলুর কাছে এখন বাঁশিই সবচেয়ে আপন। সাইকেলে পথে বের হলে কাঁধে থাকে বাঁশি। সুযোগ পেলেই তাতে সুর তোলেন। আর সেই সুরে নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে মানুষকে আনন্দ দিয়ে চলেছেন ‘বাঁশি বাবলু’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কৃষ্ণসাগরে তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে রাশিয়া হামলা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের দীর্ঘ সময় ধরে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়া হামলা আরও তীব্র করেছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই হামলায় রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের বন্দর এবং জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে দেশটির নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, ইউক্রেনের অর্থনীতিও আরও সংকটের মুখে পড়েছে।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।

ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ইউক্রেনের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় রুশ ড্রোনের হামলার শিকার হয়েছে।’

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ‘হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত এবং আরও তিন নাবিক আহত হয়েছেন।’ তবে ক্যাপ্টেনের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ও আক্রমণের সংখ্যা বেড়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চল নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে বেসামরিক এবং পণ্যবাহী নৌযানের চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন তার বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে সমুদ্রপথে যেসব পণ্য পরিবহন করা হতো, সেগুলোর কিছু এখন স্থলপথে পাঠাতে হচ্ছে।

কিয়েভও সমুদ্রে হামলা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আজভ সাগরের দিকে লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, হামলার তীব্রতা বাড়ার কারণে যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে।

তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদার, দক্ষ এবং যোগ্যতাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার জন্য জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

রাজধানীতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) কর্তৃক আয়োজিত ‘ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ইন অ্যা কমপ্লেক্স গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট-পার্সপেক্টিভস অন জাপান’স ওডিএ অ্যান্ড ফিউচার পার্টনারশিপস’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা জাপান-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সহযোগিতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি।

প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের একটি শক্ত ভিত্তি রয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার এবং সিভিল সার্ভিসের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাইকার সহযোগিতা প্রশংসনীয়।

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই দুই দেশের অংশীদারিত্বের ধরন পরিবর্তন করা প্রয়োজন। প্রথাগত সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন ব্যবসা, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং স্টার্টআপ খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে জোর দিতে হবে।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে এমন অংশীদারিত্ব প্রয়োজন যেখানে জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ থাকবে। সুশাসন, টেকসই অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে পেরে জাপান গর্বিত।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি উল্লেখ করেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কারণে বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগিতার ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও জাপানকে পারস্পরিক সহযোগিতার কৌশল পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

পরবর্তীতে জাইকা হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশনস স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল রায়ুতারো মুরোতানির সঞ্চালনায় এক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম আলী রেজা, অধ্যাপক হিরোশি নাকানিশি এবং জুনকো তাকাহাশি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ উদ্যোগ, জ্ঞান বিনিময়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার আদালত চত্বরে আসামির পলায়ন, তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


কুমিল্লার আদালত চত্বরে আসামির পলায়ন, তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার

কুমিল্লার আদালত চত্বরে পুলিশ হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ এক আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

আসামির নাম রুবেল, যিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের কোটালিয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের একটি দল আজ দুপুরে আসামি রুবেলকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে আসে। আদালত ভবনের নিচে দায়িত্বরত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হঠাৎ করেই হাতকড়াসহ দৌঁড়ে পালিয়ে যায় রুবেল। আদালত চত্বরের মতো সুরক্ষিত এলাকা থেকে আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আসামি পালানোর পরপরই পুলিশ আদালতসহ পুরো এলাকায় সতর্কাবস্থা জারি করে। আসামিকে ধরতে চারদিকে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি ও অভিযান। অবশেষে পুলিশি তৎপরতায় পালিয়ে যাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে রুবেলকে পুনরায় পুলিশের হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়।

আদালত চত্বর থেকে আসামি কীভাবে এবং কার গাফিলতিতে পালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%