নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৩ পি.এম
পিরোজপুরের নেছারাবাদে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নেছারাবাদের ছারছীনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খলিল আহমেদ। । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. সোহরাব হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, “পরিচ্ছন্নতা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। শুধু প্রশাসন বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতার বার্তা পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বেই একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে।”
বিশেষ অতিথি মো. সোহরাব হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন নেছারাবাদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ, সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) প্রনয় রায়, ছারছীনা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের মানুষকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে অসহায় ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আল-হিকমাহ জেনারেল হাসপাতাল, উত্তর বালিয়াকান্দি, তালপট্টি এলাকার দুর্গাবদ্ধিতে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের উদ্যোগে, ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চ (DCR)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এবং আল-হিকমাহ জেনারেল হাসপাতালের আয়োজনে দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উক্ত ক্যাম্পে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোনজনিত রোগ, চক্ষু, নাক-কান-গলা, ডেন্টাল সার্জারি, মেডিসিন, হৃদরোগ, কিডনি, বাত-ব্যথা, মস্তিষ্ক ও স্নায়ু, ফিজিওথেরাপি, শিশু ও কিশোর এবং প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়াও চক্ষু পরীক্ষা, রক্তের হিমোগ্লোবিন, ইউরিন ও কিডনি পরীক্ষা, থাইরয়েড হরমোন, সিআরপি, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডায়াবেটিস ও লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে ও অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না’
মেডিকেল ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মীর শহিদুর রফিক বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ মেডিকেল ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য। অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বালিয়াকান্দি ও আশপাশের এলাকার অসহায় এবং চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশী মানুষকে ক্যাম্পে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এসময় মেডিকেল ক্যাম্পটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, চেয়ারম্যান মীর শহিদুর রফিক, ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এস. এম. বাকী বিল্লাহ ও উপদেষ্টা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
এছাড়া পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সুমন ইসলাম, নাকিয়া মেহজাবীন সেতু, মহিন উদ্দিন, কামাল হোসাইন, মোঃ কাউছার মিয়া ও মীর রামজিয়া রফিক।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য সন্ধ্যার পর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকায় ক্যাম্পটি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ই নভেম্বর ২০২৬ ইং
তারিখে আল-হিকমাহ জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন হবে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছেন। এসময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার জন্য রাবার বুলেট ছুড়ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আমেরিকার 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ'-এর ভয়াবহ মানবীয় ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রজেক্টের গবেষণা অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৪৫ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, ২০০১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের ফলে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লিবিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
গবেষণার প্রধান তথ্যসমূহ: প্রাণহানি: প্রত্যক্ষ সামরিক হামলায় প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধজনিত মহামারি, খাদ্যাভাব ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন আরও ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।
আফগানিস্তান: ২০০১ থেকে শুরু হওয়া দুই দশকের যুদ্ধে সরাসরি প্রাণ গেছে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষের। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে খাদ্যাভাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশে।
ইরাক: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাতে চালানো অভিযানে ৩ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
ড্রোন ও বিমান হামলা: পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমান ও ড্রোন হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আর্থিক ক্ষতি: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি খরচ হয়েছে ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া যুদ্ধাহত সৈনিকদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ভবিষ্যৎ খরচ ধরা হয়েছে ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার—যার মোট পরিমাণ ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া এই 'অনন্ত যুদ্ধ' (Forever Wars) মানবজাতির ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট ও চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হচ্ছে কি উদীয়মান অর্থনীতির জোট 'ব্রিকস' (BRICS)? এই প্রশ্নটি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি বিশদ বিশ্লেষণে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৭তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের মন্তব্য, পশ্চিমা শাসনব্যবস্থাকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও, বিশ্বরাজনীতির 'বহুমেরুকরণ' (Multipolarity) বা বহুমুখী করার ক্ষেত্রে জোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে, ব্রিকস বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্ব উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থনীতির বিশাল পরিধি থাকা সত্ত্বেও, নীতিগত অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোর যোগদান এবং সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে এই জোটের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অবশ্য, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের অর্থনৈতিক আকার বিশাল হলেও, যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ, ডলারের আধিপত্যের কথা বলা হলেও, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখনও মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়।
এছাড়া, জোটটির গঠিত 'নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' (NDB) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শর্তহীন অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করলেও, এর পরিধি বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের তুলনায় এখনও অনেক সীমিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ব্রিকস কোন পশ্চিমা বা ন্যাটো-বিরোধী সুসংগঠিত সামরিক বা একক ভূরাজনৈতিক জোট নয়। এর মূল উদ্দেশ্য পশ্চিমা আধিপত্যের পতন নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্থায় বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global South) দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও মার্কিন-ইসরায়েল হামলা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর বিপরীত অবস্থান ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্ট করেছে। যৌথ বিবৃতি বা একক পরাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জোটের মধ্যে বৈচিত্র্যময় ও দ্বান্দ্বিক জাতীয় স্বার্থ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক শেন বার্জেস এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকসের সফলতা এই জায়গায় নয় যে তারা রাতারাতি পশ্চিমাকে প্রতিস্থাপন করতে পারছে, বরং তাদের সফলতা এতে যে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থনৈতিক বিকল্প তৈরি এবং বিশ্বরাজনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করাই এখন পর্যন্ত ব্রিকসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ