ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরাইলের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু-ওবামা ফের বাগযুদ্ধ


ইসরাইলের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু-ওবামা ফের বাগযুদ্ধ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্পর্ক সবসময়ই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। এক দশক পর, ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে, দুজন আবারও পরস্পরের বক্তব্যের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘নৈতিক উচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসেছে' বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার, তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সমালোচনা করলেও তিনি ওবামার নাম উল্লেখ করেননি।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে থানায় নেওয়ার পর মুসলিম যুবক বরজাহান শাহের মৃত্যু, ক্ষোভ ও বিক্ষোভ

অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নেতানিয়াহুকে সরাসরি এ কথা বলেছিলাম—সংঘাতের এই চক্র ভাঙতে একপর্যায়ে শক্তিশালী পক্ষেরই তার শক্তির কারণে বিশেষ দায়িত্ব থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইলের মনোভাব যদি এমন হয় যে, এখন যেহেতু আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং এই অঞ্চলে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী, তাই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা যা খুশি করব, যা চাই তা-ই নেব এবং কারও সঙ্গে কোনো ধরনের ছাড় দেব না—তাহলে তা স্বল্পমেয়াদে কার্যকর মনে হতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ইসরাইলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালানো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসেরও তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা।

তবে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো ওবামার বক্তব্যের আরেকটি অংশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। ওই অংশে তিনি হলোকাস্টের ভয়াবহতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সামনে রেখে পাইকগাছায় পুলিশের অভিযান, ৯ জন আটক

ওবামা বলেন, ‘হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদি জনগোষ্ঠী নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর বড় অংশের জন্য ইউরোপ দায়ী ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এমন একটি স্থানে আশ্রয় খোঁজা ছিল স্বাভাবিক, যে স্থানের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এটি অস্বীকার করার ওপায় নেই।’

তবে ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ টেনে ওবামা বলেন, ‘এটিও অস্বীকার করার ওপায় নেই যে, তারা এমন একটি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যেখানে অন্য মানুষ বসবাস করত। সেই মানুষদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা স্বাভাবিকভাবেই বলেছিল, এটি একটি অবিচার এবং আমরা আমাদের ভূমি ফিরে পেতে চাই।’

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের শাতো দ্য শঁতিলি জাদুঘরে ১০০ বছর পর প্রদর্শিত হবে বিরল গোলাপি হীরা

- নেতানিয়াহুর পাল্টা জবাব -

ওবামার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তার বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে বহিরাগত দখলদার নয়। আমাদের ইতিহাস কোনো ঔপনিবেশিক প্রকল্প নয়। আমাদের ভূমি চুরি করা জমি নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাই আমাদের মাতৃভূমি। এর নাম জুদেয়া।’

জুদেয়া একটি বাইবেলীয় নাম, যা পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের

ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগের বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই রিপাবলিকানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।

আগামী ২৭ অক্টোবরের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহু বারবার ভোটারদের বলছেন, বিদেশিরা তাকে নির্বাচনে হারাতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনা করেছেন, যিনি ইসরায়েলের কড়া সমালোক হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আসিয়ান অঞ্চলে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


দক্ষিণ আসিয়ান অঞ্চলে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ইন্দোনেশিয়ায় চলমান দাবানলের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকা বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢাকা পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের জলবায়ু ও অগ্নিকাণ্ড পর্যবেক্ষণ সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শনিবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আসিয়ান স্পেশালাইজড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার (এএসএমসি) জানায়, দক্ষিণ আসিয়ান অঞ্চলে সতর্কতার তৃতীয় স্তর (অ্যালার্ট লেভেল-৩) কার্যকর করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত এএসএমসি চার স্তরের সতর্কতাব্যবস্থা ব্যবহার করে। শূন্য থেকে তিন পর্যন্ত এই স্তরগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্তরটি সর্বোচ্চ। যখন কোনো অঞ্চলে আন্তসীমান্ত ধোঁয়া মারাত্মক আকার ধারণের উচ্চ ঝুঁকি দেখা দেয়, তখন এ সতর্কতা জারি করা হয়।

সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের সতর্কতা জারির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুনের উৎস শনাক্ত হওয়া, টানা দুই বা তার বেশি দিন মাঝারি থেকে ঘন ধোঁয়া দেখা দেওয়া, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাতাসের প্রবাহে ধোঁয়া প্রতিবেশী আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

শুক্রবার এ সতর্কতা জারি করা হয়। তবে চলতি বছর এর আগেও দুবার একই ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল—গত ২৬ আগস্ট ও ২৭ মার্চ।

কয়েক মাস ধরে চলা এই ধোঁয়াশায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে, শুক্রবার সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত সাতটি কোম্পানিকে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায় এখনো আসতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে ইতালিতে তদন্ত শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


ইসরাইলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে ইতালিতে তদন্ত শুরু

ইতালির সরকারি প্রসিকিউটররা গাজামুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার কর্মীদের প্রতি নির্যাতন, অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজসহ ১৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন।

শুক্রবার রোমের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সদস্যদের আটকের ঘটনায় তদন্তটি চলছে। আটক ইতালীয় নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের আওতায় রয়েছেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামিরও।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আটক কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং টিজার ও রাবার বুলেট দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। অন্তত ১৫টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।

২০২৬ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী প্রায় ৫০টি নৌযান থেকে ৪৩০ জন ফ্লোটিলা কর্মীকে আটক করে। ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ইসরাইলি অবরোধ ভাঙাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ইতালির প্রসিকিউটররা জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ইসরাইলের কাছে বিচারিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে কৃত্রিম টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের ভিড়, বাড়ছে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


চীনে কৃত্রিম টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের ভিড়, বাড়ছে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’

চীনে বর্তমানে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার পরিবর্তে মারাত্মক কৃত্রিম দুর্যোগের অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং প্রকৃত দুর্যোগ ও ট্র্যাজেডির স্থানগুলো পরিদর্শনের একটি নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা দুর্যোগকেন্দ্রিক পর্যটন। নতুন এই ধাঁচের ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম দুর্যোগের মুখে জীবনরক্ষার কৌশল শেখা এবং দেশের অতীত ট্র্যাজেডি উপলব্ধি করা।

দ্য গার্ডিয়ান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কৃত্রিম দুর্যোগ অভিজ্ঞতা প্রদানকারী কেন্দ্র ও জাদুঘর গড়ে উঠেছে। হ্যাংঝৌ-এর ‘লুজিং বেস’ নামক ২০২,০০০ বর্গমিটার জায়গায় কৃত্রিমভাবে টাইফুন ও ভূমিধসের মতো আবহাওয়া তৈরি করা হয়। এখানে হাজারো মানুষ অর্থের বিনিময়ে এসে দুর্যোগের ভয় এবং তা থেকে বাঁচার উপায় শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। বেইজিং ও গুয়াংঝৌ শহরেও ৪ডি প্রযুক্তি এবং বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে জনগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১০টি টাইফুন এবং রেকর্ড গরমের কারণে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই কারণে সংকটকালীন সময়ে কিভাবে শান্ত থাকতে হয় এবং নিজেকে রক্ষা করতে হয়, তা শেখানোর জন্য স্থানীয় সরকারগুলোকে বাস্তবভিত্তিক দুর্যোগ শিক্ষার প্রসার ঘটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম পরিবেশের পাশাপাশি অনেকেই বেছে নিচ্ছেন প্রকৃত ট্র্যাজেডির স্থানগুলোকে। ২০০৮ সালে সিচুয়ানে ৮.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৭০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। ধসে পড়া সেই শহর কিংবা নানজিং গণহত্যার মতো ট্র্যাজেডির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে তরুণদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিনামূল্যে হলেও আগে থেকে বুকিং দিয়ে এসব স্থানে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্মের পর্যটকরা শুধু সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য নয়, বরং স্থান ও ঘটনার গভীর অনুভূতি পেতে চায়। দুর্যোগের মুখে কিভাবে টিকে থাকতে হয় তা শেখার পাশাপাশি, দেশের অতীত কষ্ট ও ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং দেশকে শক্তিশালী করার উদ্দীপনা পেতে তরুণরা এই ‘ডার্ক ট্যুরিজমে’ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ আহরণে জেলেদের অতিমাত্রায় আগ্রহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ আহরণে জেলেদের অতিমাত্রায় আগ্রহ

নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলে এবার জেলেদের মধ্যে ইলিশ আহরণের প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সরকার দক্ষিণ উপকূলের ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারের জন্য ২৫ কেজি করে মোট ১৬,১৫৭.২৫ টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ সম্পন্ন করেছে। বরিশাল অঞ্চলের ৩,৫৮,৫১৬ জেলে পরিবারের মধ্যে ৮,৯৬২.৯ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উৎপাদিত ও আহরিত ইলিশের ৬৮ ভাগ বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নদ-নদী থেকে আহরণ করা হচ্ছে। এই কারণে বরিশালকে ‘ইলিশের রাজধানী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলের ৭,১৩৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং সারা দেশে এই মাছের আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ রয়েছে। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ডসহ নৌবাহিনী কাজ করছে। বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৪শ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইন অমান্য করায় ৩শ জেলে ও মৎস্যজীবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ কোটি টাকার ১.২৫ কোটি মিটার নিষিদ্ধ জাল বাজেয়াপ্ত করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানিক দল। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪শ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানিক দল বিভিন্ন নদী ও আড়ত থেকে প্রায় ৫০ টন ইলিশ আটক করে তা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিতরণ করেছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন দল ইতোমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রায় ৫শ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, আড়াই হাজার মাছঘাট, ৬ হাজারের মতো মাছের আড়ত ও আরও সাড়ে ৬ হাজার বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে অভিযানিক দলের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায় চোরাই মাছ শিকার ও বিপণন অব্যাহত রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে সফলতা অর্জনের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মাছের মোকাম পরিদর্শন করেছেন। তিনি বরিশালে জেলে ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে আলোচনা সভায় নদ-নদীর প্রবাহ হ্রাস, নাব্যতা সংকট ও নদী দূষণের বিষয়গুলো স্বীকার করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইলিশের বংশ বিস্তারে নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চলমান ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালনে তিনি জেলে ও মৎস্যজীবীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ১৩ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশের সহনীয় আহরণ ও উৎপাদন ৫,৭১,৩৪২ টন থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫,০০,২৮৮ টনে হ্রাস পায়। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রজনন মৌসুমে বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মা ইলিশের দল ৮,৮৪,৮০২ কেজি ডিম ছাড়লেও ২০২৫ সালে তা ৭,৯১,৫৬৪ কেজিতে হ্রাস পায়। ফলে ২০২৪ সালে জাটকার উৎপাদন ৪৪,২৪০ কোটি থেকে ২০২৫ সালে ৩৯,৫৭৮ কোটিতে হ্রাস পায়। গত বছরের ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বরিশাল অঞ্চলসহ সারা দেশের বিচরণক্ষেত্রসমূহে ইলিশের প্রজনন সফলতার হার ৪৯.২৭% বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আগের কয়েকটি বছরে প্রজনন সফলতার হার ৫২-৫৪% পর্যন্ত ছিল। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন অনুসন্ধানে গত বছর বরিশাল অঞ্চলে প্রজনন সফলতার এই হার সর্বাধিক ছিল বলে জানা গেছে।

ইলিশের জীবনচক্রে স্বাদু পানি থেকে সমুদ্রের নোনা পানিতে এবং সেখান থেকে পুনরায় স্বাদু পানিতে অভিপ্রায়ণ করে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, উপকূলের ৭ হাজার ১৩৪ বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন ক্ষেত্রে মুক্ত ভাসমান অবস্থায় ডিম থেকে ফুটে বের হয়ে ইলিশের লার্ভা, স্বাদু পানি ও নোনা পানির নার্সারি ক্ষেত্রসমূহে বিচরণ করে খাবার খেয়ে বড় হতে থাকে। নার্সারি ক্ষেত্রসমূহে ৭-১০ সপ্তাহ ভেসে বেড়ানোর পর জাটকা হিসেবে সমুদ্রে চলে যায় পরিপক্কতা অর্জনে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ১২-১৮ মাস অবস্থানের পর পরিপক্ক হয়ে পূর্ণাঙ্গ ইলিশ হিসেবে প্রজননের লক্ষ্যে আবার স্বাদু পানির নার্সারি ক্ষেত্রে ফিরে এসে ডিম ছাড়ে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের ইকোসিস্টেমে সারা বছরই ৩০ ভাগ ইলিশ ডিম বহন করে এবং পরিপক্ক হয়ে ডিম ছাড়ে। প্রতিদিন স্রোতের বিপরীতে ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে চলা অভিপ্রয়াণী ইলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল মাছ। তার অভিপ্রয়ণের পথ বাধাগ্রস্ত হলে এবং পানি দূষণসহ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে সে তার গতিপথ পরিবর্তন করে সহনীয় আবাস ও বিচরণস্থল খুঁজে নেয়। এসব কারণেই ইতোপূর্বের বিচরণস্থল পরিবর্তন করে গত বছর বরিশাল অঞ্চলকেই ইলিশের প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

২০০৫ সালেই প্রথম ‘হিলসা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর আওতায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১০ দিন ইলিশের আহরণ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশে ২০১১ সালে তা ১১ দিন এবং ২০১৫ সালে ১৫ দিন ও ২০১৬ সাল থেকে ২২ দিনে উন্নীত করা হয়েছে।

আগামী ২৮ অক্টোবর মধ্যরাতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%