১২:১৬ পি.এম
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পনে বিশাল এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এর ফলস্বরূপ অন্তত ১৩ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মঙ্গলবার আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে বড় ধরণের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।
কুমামোতো শহরের কাছে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় শপিং মলে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্প ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণে মলটির একটি অংশ ধসে পড়ে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত আটজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। মল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের ২৭০০ কর্মচারীর মধ্যে এখনো চারজন নিখোঁজ বিদ্যমান।
উদ্ধারকাজকে তীব্রতর করার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত সেনা সদস্য ও জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, "সময় যত গড়াচ্ছে, বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছে, তাই প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান।" শপিং মলটির ধ্বংসস্তূপ ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় জোরদার উদ্ধার অভিযান চলছে। ইয়াতসুশিরো শহরের বেশ কয়েকটি ভবন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে ব্রিজের একটি অংশ। এ ছাড়াও একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়ে, যার ফলে আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
এখন বিদ্যুৎহীনতা ও তীব্র গরমের কারণে নতুন সংকট তৈরি হয়ে গেছে জাপানে। তাপমাত্রার পারদ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে হিট স্ট্রোকের বিষয়ে সতর্ক করছে। এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং অতিরিক্ত রোগীদের চাপের কারণে তারা নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এই বিপর্যয়ের ফলে সনি, টয়োটা ও হোন্ডার মতো একাধিক শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের স্থানীয় কারখানার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন