ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ইলন মাস্ক


কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ইলন মাস্ক

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, যিনি স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে পরিচিত। ট্রিলিয়ন ডলার হল এক হাজার বিলিয়ন ডলার। ১ সংখ্যার পরে ১২টি শূন্য সংযুক্ত করলে একটি ট্রিলিয়ন হয়। বাংলায় একে বলা যেতে পারে এক লাখ কোটি।

মাস্ক বেশ কিছু সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন, অথবা অন্তত সেই অবস্থানের নিকটবর্তী অবস্থানে ছিলেন। ফোর্বস-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদ অর্জন করেন।

এক মাস পর, টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন দেন, যার সম্ভাব্য মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে, যখন তার রকেট নির্মাতা এবং স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পাবলিক হয়, তখন মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

তবে তিনি শুধু তার বিশাল সম্পদ জন্যই পরিচিত নন। স্পেসএক্স-এর প্রধান হিসেবে, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করে আসছেন। মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিষয়গুলো থেকে শুরু করে সমসাময়িক জ্ঞান বিষয়েও তার মতামত প্রকাশ করেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সহায়তা করার জন্য তার ভূমিকা কিছু বিনিয়োগকারীর অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

তার মতামত এবং এক্স কীভাবে জনমত ও আলোচনাকে প্রভাবিত করছে, সেই বিষয়ে সরকারপ্রধান ও আলাদা আলাদা রাজনীতিবিদদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাস্ক।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

ইলন মাস্কের জন্ম স্থান দক্ষিন আফ্রিকার প্রিটোরিয়া শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ভাইয়ের সঙ্গে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাতের তৈরি চকলেট ইস্টার ডিম বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার শৈশব ছিল কঠিন, যা বাবামায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে হয়রানি এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোমের কারণে সামাজিক সংকেত বুঝতে অসুবিধার কারণে প্রভাবিত হয়।

মাস্ক সুযোগ পাওয়ার পরপরই পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছেড়ে যান। প্রথমে কানাডা পরে যুক্তরাষ্ট্র স্থানান্তরিত হন, যেখানে তিনি পেনসেলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়ালেখা শুরু করেন।

২০১০ সালে ম্যারি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে এক প্রবন্ধে, তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন, যার সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হন এবং ২০০০ সালে বিয়ে করেন, লিখেছেন, বিপুল অর্থ উপার্জনের আগেই মাস্ক ছিলেন "না-কে কখনও মেনে না নেওয়া একজন মানুষ"।

আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

"প্রতিযোগিতা এবং আধিপত্য বিস্তারের ইচ্ছা, যা তাকে ব্যবসায় সফল করেছে, ঘরে ফেরার পরও তা থেমে যেত না," বলেছিলেন জাস্টিন। তিনি আরও বলেছিলেন, বিয়ের নাচের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, "এই সম্পর্কে আমিই আলফা।" অর্থাৎ, ইলন মাস্ক নিজেকেই প্রধান বা প্রভাবশালী মনে করেন।

সম্পদ তৈরি করতে গিয়ে, মাস্ক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হন কিন্তু দ্রুত তা ত্যাগ করেন এবং ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন।

এর মধ্যে একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি ও একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা পরে পেপ্যালে পরিণত হয় এবং এই কোম্পানিটি ২০০২ সালে ইবে’র কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়।

মাস্ক সেই অর্থ বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে, যা নাসার তুলনায় কম খরচে বিকল্প তৈরি করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত। একই সময়ে তিনি টেসলায়ও বিনিয়োগ করেন, যেখানে ২০০৮ সালে তিনি প্রধান নির্বাহী হন।

আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

উল্লেখযোগ্য যে, এই দুটি কোম্পানি তাদের নিজ নিজ শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যদিও মাঝে মাঝে এরা আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

ইলন মাস্কের অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সামাজিক মাধ্যম টুইটার অধিগ্রহণের ঘটনা।

তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো এক্স-কে একটি "সবকিছুর অ্যাপ" হিসেবে গড়ে তোলা যা বিভিন্ন ধরনের সেবা এক জায়গায় এনে দেবে। তবে বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, তিনি যখন কিনেছিলেন তখন কোম্পানিটির মূল্য ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে ৯.৪ বিলিয়নে নেমে এসেছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে চলে গেছে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মাস্কের নেতৃত্বে এক্স-এ ঘৃণামূলক বক্তব্য বেড়েছে, ফলে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে চায় না।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহী। চ্যাটজিপিটি-এর মৌলিক কোম্পানিতে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী ছিলেন মাস্ক, তবে ২০১৮ সালে তাক থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য "মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ বোঝা"।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওপেনএইআই এবং এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন যে প্রতিষ্ঠানটি তার অলাভজনক ও ওপেন সোর্স ভিত্তি থেকে সরে গেছে। যদিও ২০২৬ সালের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এক জুরি তার মামলাটি খারিজ করে দেয়।

সাংবাদিক ক্রিস স্টকেল ওয়াকার জানান, "আমি কখনোই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না যে তিনি আগামীকাল কী করতে চান তা জানেন। তিনি মূলত অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যান।" ২০১৫ সালের একটি জীবনীতে লেখক অ্যাশলি ভ্যান্স তাকে "বিতর্কপ্রবণ সবজান্তা" এবং "প্রচুর অহংবোধসম্পন্ন" হিসেবে বর্ণানা করেছেন।

মাস্ককে গণমাধ্যমে কখনও 'উন্মাদ প্রতিভা', কখনও 'এক্স-এর বড় ট্রোল' হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ জন

মাস্ক তিনবার বিবাহবিচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ব্রিটিশ অভিনেত্রী টালুলাহ রাইলির সঙ্গেও বিচ্ছেদ হয়েছে দু'বার। মাস্ক বেশ খোলামেলা ভাবে নিজের ত্রুটির বিষয়ে আলোচনা করেন।

২০২২ সালে টেড-এ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "যদি আমার পাপগুলো তালিকাভুক্ত করেন, তাহলে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ মনে হব। কিন্তু আমি যা ভালো কাজ করেছি সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এগুলোকে অনেক বেশি অর্থবহ মনে হয়।"

মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি নিট সম্পদ অর্জন করেন, যা ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী প্রকাশিত।

তিনি সম্পদের দিক থেকে গুগল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের ল্যালি এলিসন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের মতো ধনকুবেরদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

স্পেসএক্স পাবলিক কোম্পানি হয়ে যাওয়ার ফলে তার সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়েছে। ফলস্বরূপ, ব্লুমবার্গ এবং ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী মাস্কের নিট সম্পদ এখন এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।

বর্তমানে ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন। তবে তিনি অধিকাংশ সম্পদের সঙ্গে স্পেসএক্সের শেয়ারকে যুক্ত করেন, ফলে শেয়ারের দাম কমে গেলে তার ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

টেসলা থেকেও তিনি বিপুল অর্থ পেতে সম্ভাবনা রয়েছে, যদি নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়, যার মধ্যে কোম্পানির মূল্য আটগুণ বৃদ্ধি, ১০ লাখ এইআই রোবট বিক্রি এবং এক কোটি ২০ লাখ টেসলা গাড়ি বিক্রি রয়েছে।

২০২৪ সালের পুরো বছর জুড়ে মাস্ক টেসলার কাছ থেকে ৫৬ বিলিয়ন ডলারের একটি পারিশ্রমিক প্যাকেজ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যারের একজন বিচারক দ্বিতীয়বারের মতো তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্ট প্যাকেজটি পুনর্বহাল করে।

মাস্ক ডিজিটাল মুদ্রারও সমর্থক এবং টানেল নির্মাতা দ্য বোরিং কোম্পানিসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট কোম্পানিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি নিজেকে একজন 'কাজপাগল' ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে থাকেন এবং প্রায়শই বলেন যে তিনি শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবসা করেন না।

তার বন্ধ এবং টেসলার বিনিয়োগকারী রস গার্বার বলেন, "ইলন কেবল তখনই কোনো বিষয়ে জড়িত হন, যখন তিনি মনে করেন যে সেটি কোনো কারণে... সমাজ বা মানবতার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

মাস্কের রাজনৈতিক মতাদর্শ কি? ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া মাস্ক দীর্ঘদিন নিজেকে "অর্ধেক ডেমোক্র্যাট, অর্ধেক রিপাবলিকান" ও "রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থি" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও জো বাইডেনকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন এবং ২০২৪ সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন।

মাস্ক ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন নীতি, যেমন অর্থনীতি, অভিবাসন এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর, তিনি 'ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি' পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এটি সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক কাটছাঁট করে, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে পরে কর ও ব্যয় সংশ্লিষ্ট বিরোধ থেকে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়।

২০২৫ সালের ২৮শে মে মাস্ক হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং কিছুদিন পর তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। যদিও পরে কিছুটা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মাস্ক যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি এক্স-কে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ে স্যার কিয়ের স্টারমারের লেবার সরকারের সমালোচনা করেছেন। আবার তিনি ডানপন্থি কিছু নেতার সঙ্গেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।

তার নানা মন্তব্য থেকে সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠে। এদিকে, অতীতে মাস্ক তার ব্যবসাগুলোকে দাতব্য কাজের একটি রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন কারণ এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো মানবিক সমস্যার সমাধানে কাজ করে।

তবে পরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এটি মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে।

তিনি বলেছেন, এআই-এর অগ্রগতি এবং জন্মহার হ্রাস একসঙ্গে "মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার" ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইলন মাস্কের ১৪ জন সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ছয়জন, কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী ক্লেয়ার এলিস বুশে বা গ্রাইমসের সঙ্গে তিনজন, নিউরোলিংক নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে চারজন এবং ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেইন্ট ক্লেয়ারের থেকে একজন সন্তান রয়েছে।

জিলিসের সঙ্গে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি লিখেছিলেন, "জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি"।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাসেবা বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাসেবা বন্ধ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনার পরে জরুরি সেবা বন্ধ রয়েছে।

বিস্তারিত আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদ

‘নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যুতে সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


‘নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যুতে সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত’

সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যুতে আইনে সাজার বিধান থাকায়, সরকারি চাকরিতে কর্মরত তার ছেলেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা যেতে পারে।

শিক্ষিত পরিবারেও অতি অর্থের মালিক, স্বাবলম্বিতা ও লোভের বশবর্তি হয়ে সন্তানেরা বৃদ্ধ বাবা-মাকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করছে। পিতা-মাতা’র ভরণপোষণ আইনটি সংশোধন করে সময়োপযোগী করার মাধ্যমে এই আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্পেশাল কোর্ট প্রয়োজন। আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল এ কথা বলেন। তিনি জানান, সন্তানরা পিতা-মাতাকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করতে ভয় পাবে।

শনিবার (১৩ জুন) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে পিতা-মাতা’র অধিকার বাস্তবায়নে ভরণপোষণ আইন নিয়ে একটি ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সকল বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শুধু বাবা-মা নয়; প্রতিবেশিও যদি অভিযোগ করে, তবে সেটি মামলা হওয়া দরকার। সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতা’র ভরণপোষণ না করাসহ অবহেলা, অযত্ন ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে রহিত করা যেতে পারে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, উদাসীনতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে আইন প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। তবে পিতা-মাতা’র অধিকার সুরক্ষায় আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বেহেশত তুল্য মা-বাবা বার্ধক্যে উপনীত হলে যারা নির্যাতন করে, তারা সমাজের কলঙ্ক। তাদের জীবন অভিশপ্ত। মা-বাবারা শুধুমাত্র মানসিক অবহেলা, অবজ্ঞা, অবরুদ্ধ থাকা কিংবা আর্থিকভাবে ঠকানোর শিকার ছাড়াও মারধরের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সন্তান মা-বাবার পেনশনের টাকা কেড়ে নিয়ে, জমিজমা, ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পত্তি লিখে নিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এটি খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের ট্রেনে যাতায়াতের ভাড়া মওকুফ ও মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা সিনিয়র সিটিজেনদের সম্মানিত করবে। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে দেশে মাত্র ৬-৭টি বৃদ্ধ নিবাস রয়েছে। যেগুলো খুবই করুণ দশা। তাই ঘোষিত বাজেটের সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ আরো কিছুটা বাড়িয়ে প্রতি জেলায় একটি করে আধুনিক ও মানসম্পন্ন প্রবীণ নিবাস তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। সম্প্রতি মিরপুরে অযত্নে, অবহেলায়, বিনা চিকিৎসায় ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যু সমগ্র দেশকে নাড়া দিয়েছে। এই বৃদ্ধা মা তার উপযুক্ত চার সন্তানসহ পুত্রবধূ, নাতী-নাতনী থাকা সত্ত্বেও কয়েকদিন আগে নিজের বিছানায় মরে পড়ে ছিলেন। এটি আমাদের সমাজের হৃদয় বিদারক চিত্র।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে ‘ভরণপোষণ আইন দ্বারা সন্তানের ওপর পিতা-মাতা’র অধিকার আদায় করা সম্ভব’ শীর্ষক একটি ছায়া সংসদে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক আহাম্মেদ সরোয়ার, সাংবাদিক মাকসুদ-উন-নবী ও ব্যারিস্টার কাজী জাওয়াদ বদরুদ্দোজা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতা নিহত

চট্টগ্রামের রাউজানে মাসুদ চৌধুরী (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায়।

নিহত মাসুদ চৌধুরী উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি রাঙ্গুনিয়া যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন মাসুদ চৌধুরী। ওই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাসুদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ববিরোধ বা স্থানীয় কোনো দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে এখনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি। নিহতের হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

ঘটনার পরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা আমেরিকানদের ‘একদমই বিশ্বাস করি না’: ইরানের প্রধান বিচারপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


আমরা আমেরিকানদের ‘একদমই বিশ্বাস করি না’: ইরানের প্রধান বিচারপতি

ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই মন্তব্য করেছেন যে, আমেরিকানদের ‘একদমই বিশ্বাস করি না’।

তিনি বলেছেন, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কোনও আস্থা নেই এবং এই অবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব ঘটনা।

তথ্যটি ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মোহসেনি-এজেই একটি বক্তব্যে বলেন, “আমরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করি না। এই অবিশ্বাস কেবল আবেগের বিষয় নয়; বরং এটি ইতিহাসের নানা ঘটনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।”

তিনি গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আদান করেন যে, ওই সংঘাত ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।

মোহসেনি-এজিই সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য হিসেবেও তিনি ছিলেন।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি দাবি করেছেন যে, ইরান শত্রুপক্ষের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। তার ভাষায়, “ইরান শত্রুদের নেতৃত্বকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করতে এবং আগ্রাসীদের হাত গুটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।”

তবে তিনি তার এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, মোহসেনি-এজেইর এই মন্তব্য জলপরা করছে যে, বর্তমান যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান এখনও ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অবিশ্বাস পোষণ করছে। একই সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বের বক্তব্যে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে, ইরানের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%