জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫০ পি.এম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে বিথী আক্তার (২৭) আর নে"ই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অ"সুস্থ থাকার পর শেষ পর্যন্ত না ফে"রার দেশে চলে গেলেন তিনি।
বিথী আক্তার পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে গোয়ালন্দের জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর অ"স্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।
অ"স্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী আক্তার নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সি"সিইউতে ছিলেন এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃ"ত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস ধরে অসুস্থতার কারণে বিথী নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি। এমনকি সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তার ছোট্ট সন্তান।
বিথীর পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার এমন পরিণতি হয়ে থাকলে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা, শাস্তি ও জরি"মানার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিথী নিজেও তার চিকিৎসার বিষয়ে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
বিথীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিবারের প্রতি ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিথী আক্তারের মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার দোয়া করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ফলে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৭৫ বছর বয়সে তার প্রয়াণের পর, মহারাষ্ট্র সরকার অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিমন্ত্রী আশীষ শেলার বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, নানা পাটেকরের শেষকৃত্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। মারাঠি নাট্যজগৎ এবং মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ সময়ের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে।
নানা পাটেকরের শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রা ছিল সংগ্রামময়। মহারাষ্ট্রের ইয়েওলার সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে, তিনি নিজের অভিনয় প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মারাঠি থিয়েটারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। পরবর্তীতে, হিন্দি চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয়ের এক স্বতন্ত্র ছাপ রেখে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গোয়া থেকে নানা পাটেকরের মরদেহ পুনেতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হবে। এরপর পুনের ডোঞ্জেতে অবস্থিত তার ফার্মহাউসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে, গোয়ার বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকর। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ এবং ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে অমলিন।
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য, তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নানা পাটেকর। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করে। তার মৃত্যুতে শুধুমাত্র বলিউড নয়, বরং ভারতীয় অভিনয়জগতের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার সফর দিয়ে এই কঠিন যাত্রার শুরু হবে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ভারত ও ইংল্যান্ডের সফর রয়েছে। এই সফর শেষ হওয়ার পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ ধরে রাখার লড়াই শুরু হবে। মিচেল স্টার্কের ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ার সামনে ররি ম্যাকইলরয়ের এক মৌসুমে চারটি গলফ মেজর জেতার সমান চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
শুক্রবার ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু হবে। এরপর আগামী বছর ভারত ও ইংল্যান্ড সফর এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আসবে।
অস্ট্রেলিয়া শেষবার ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০০১ সালে, ভারতে ২০০৪ সালে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১৪ সালে। এই সফরগুলো সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টার্ক মন্তব্য করেন, “এক বছরে তিনটি বড় সিরিজ বাইরে খেলা অস্বাভাবিক। এর মধ্যে দুটি জায়গায় আমরা অনেকদিন ধরে জিততে পারিনি। আবার আমরা একটি পুরনো দল, অনেকদিন ধরে একসঙ্গে খেলছি—এগুলোই চাপ বাড়াচ্ছে। তবে যদি আগামী ১২–১৪ মাসে আমরা তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ ও বিশ্বকাপ জিততে পারি, সেটা হবে ররি ম্যাকইলরয়ের চার মেজর জেতার সমান।”
অস্ট্রেলিয়ার মূল খেলোয়াড়দের মধ্যে অনেকেই এখন ত্রিশোর্ধ্ব। ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক স্বীকার করেছেন যে বয়স নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে দলের লক্ষ্য এখনও বড়।
তিনি বলেন, “আমরা জানি বাইরে থেকে বয়স নিয়ে কথা হচ্ছে। জানি সামনে বড় সিরিজ আছে। একসময় গল্প শেষ হবে, কিন্তু আমরা জানি কী অর্জন করতে পারি। আমরা সবকিছু জিততে চাই, এখনও অনেক কিছু অর্জন করা বাকি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটজন নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে পল্লবী ও রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
আদেশ অনুসারে, ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিনকে পল্লবী থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান ওসি মো. হাসান বাসিরকে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে (সিটিটিসি) বদলি করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবি সিদ্দিককে রূপনগর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রূপনগর থানার বর্তমান ওসি মো. নোমান হোসেনকে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর রেজাউল ইসলামকে রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল খানকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগের পরিদর্শক মীর মো. সাজ্জাদ হোসেনকে শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দীনকে একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিজটি এক দশক ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া আশ্বাসগুলি কেবল কাগজের প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে জনতারহাট ও সাকোরপাড় সড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্স ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপচে পড়া বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজের নিচের অংশের মাটি সরে যায়।
ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে ভেলা বা ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হয়। শুকনো মৌসুমে অনেক দূর ঘুরে ব্রিজের অংশ পাড়ি দিতে হয়। এর ফলে এই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রোগীর স্বজনরা চরম বিপদে পড়েছেন।
জনতারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিমা খাতুন বলেন, "বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে ভয় পাই। এ সময় অনেকে স্কুলে যায় না।"
বোতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, "ব্রিজের ওপারে চাষবাস করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ি। অনেক ঘুরে যেতে হয়। ধান-পাট কাটার পর নিয়ে আসতে সমস্যা হয়। যারা ছোটখাটো ব্যবসা করেন তারাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।"
দলন গ্রামের গৃহিনী মনজিলা বেগম বলেন, "আমার স্বামী অটো চালায়। কিন্তু এই পথে যেতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে কষ্ট করে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় এসে অনেক কথা বলে যায়, কিন্তু ব্রিজটার কাজ আর হয় না।"
খারিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, "ব্রিজের দুই পাড়ে চারটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। শিশু শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।"
স্থানীয় যুবক জনাব আলী বলেন, "ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের চরম কষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।"
জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজির রহমান জানান, "জনগুরুত্বপূর্ণ সাকোয়ারপাড় ব্রিজটি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি আগামী বছর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ