বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ পি.এম
সাতক্ষীরা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানকালে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, মশার কয়েল, নেশাজাতীয় সিরাপ, মদ, রসুন প্রভৃতি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
আজ বুধবার সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার ভোমরা, চান্দুড়িয়া ও ঝাঁউডাঙ্গা বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোমরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফলমোড় নামক স্থান হতে ভারতীয় মদ, বাংলাদেশী রসুন ও মশার কয়েল জব্দ করে। এছাড়া, চান্দুড়িয়া বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার কাটাখালি নামক স্থান হতে ভারতীয় নেশাজাতীয় উইনকেরেক্স কফ সিরাপ এবং ঝাঁউডাঙ্গা ক্যাম্পের বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হরিণামোড় নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য আনুমানিক তিনলাখ চারহাজার ছয়শ’ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরী করে পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের নিমিত্তে বিজিবি ষ্টোরে জমা রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী এলাকায় এক মেয়ে শিশু দুই হাত ও দুই পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। শিশুটির ঠোঁট কাটা রয়েছে, তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, এটি চিন্তার কোনো বিষয় নয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও লিজা বেগমের প্রথম সন্তান হিসেবে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।
শিশুটির বর্তমান অবস্থান তার বাবা-মায়ের বাড়িতে। জন্মের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা এর আগে এ ধরনের শিশুর জন্ম দেখেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন মন্তব্য করেছেন, ‘সাধারণত একটি শিশুর হাতে-পায়ে মোট ২০টি আঙুল থাকে। কিন্তু এই শিশুটির মোট ২৮টি আঙুল। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে তার ঠোঁটে সামান্য কাটা রয়েছে। এটি আল্লাহ তাআলার নিদর্শন ও সৃষ্টি। এ সৃষ্টিতে কারো হাত নেই। শিশুটির পরিবারও এ নিয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে।’
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, ‘আরিফুল ইসলামের প্রথম সন্তান হিসেবে মেয়ে শিশুটির জন্ম হয়েছে। আমাদের এলাকায় এ ধরনের শিশুর জন্ম এর আগে দেখিনি। জীবনে এটাই প্রথম দেখলাম।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘শিশুটির দুই হাত ও দুই পায়ে মোট ২৮টি আঙুল রয়েছে। এমন শিশু জীবনে কখনো দেখিনি। এই প্রথম দেখলাম।’
শিশুটির মা লিজা বেগম জানিয়েছেন, আল্লাহ যেভাবে দিয়েছেন তাতেই তিনি খুশি, সন্তান সুস্থ আছে এটাই তার কাছে বড় পাওয়া।
শিশুটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার একটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের ২০টি আঙুল থাকে, কিন্তু আমার মেয়ের ২৮টি আঙুল হয়েছে। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট। এ নিয়ে আমাদের কোনো মন খারাপ নেই।’
ফুলবাড়ী উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, তারা শিশুটির সম্পর্কে অবগত, মা ও শিশু সুস্থ আছে। ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়া চিন্তার কোনো বিষয় নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা এখনো আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের কাছে এলে আমরা সঠিক পরামর্শ দেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গুম হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মো. আলামিনের মা জেসমিন বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। জেসমিন বেগমের অসুস্থতার খবর জানার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন জেসমিন বেগমের খোঁজ নিতে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আলামিনের বাসায় গিয়ে উপস্থিত হয়। প্রতিনিধিদলটি জেসমিন বেগমের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয়, তার চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করে এবং প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
এ সময় সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমেদ এবং ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়েছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম। এই সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তবে বাইরে কিছু স্বাস্থ্যকর্মীকে গল্প করতে দেখা যায় এই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার উপস্থিতির খবর শুনে ছুটে আসেন ওই ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন। তিনি উপস্থিত থাকলেও তার কাছে চাবি ছিল না। পরে এমপি কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক বা মেডিক্যাল অফিসারকে পাওয়া যায়নি। মরিচাধরা গেট দেখে তার মনে হয়েছে, তালা অনেক বছর আগে লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি অনেক সময় অপেক্ষা করে এক পাশের দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নেই, চিকিৎসক নেই, মেডিক্যাল অফিসারও নেই। কয়েকজন কর্মচারীকে ভেতরে বসে গল্প ও আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এলাকাটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া জরুরি। উপজেলা ও জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়াও তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন বলেন, “তাড়াহুড়া করে আসায় ভুলে চাবি নিয়ে আসতে পারেননি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানান, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে একজনও কর্মরত নেই। কয়েকজন মাঠকর্মী মাঠে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। হঠাৎ এমপি সেখানে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, এবং অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও রয়েছে।
এছাড়া, লাশ গুম করার অভিযোগে প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আসামিদের পূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর), ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩৮), ঝাউখোলা গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদা বেগম পলাতক ছিলেন। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকায় রায় শেষে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন হাসান শেখ। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরি করতেন। রাতের বেলা আর বাড়ি না ফেরায় তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৪ মে নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান। মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর আয়সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাসানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ