০৯:৩৫ এম
ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তাদের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা হয়, তবে তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাবে। তেহরানের দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আগে থেকেই তৈরি করা পরিকল্পনা কার্যকর করবে।
এই সতর্কবার্তা এসেছে সেই সময়ে, যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সমন্বয় করছে। শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে একটি বক্তব্যে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে তারা ‘এক ধরনের উন্মাদনা’ হিসেবে মনে করছেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার জবাব দিতে ইরান আগে থেকেই বিস্তারিত পাল্টা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলছেন, যদি কেউ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুললে, তাহলে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রস্তুত। ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, গত ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং পরবর্তী সংঘর্ষের সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিশোধমূলক অভিযানের দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। তারা ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আবারও হামলার প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: আরাকান আর্মির হাতে রোহিঙ্গাদের দাস বানিয়ে শোষণ, জমি দখল ও জাতিগত নিধন
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সূত্রে শুক্রবার 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই সপ্তাহের শেষের দিকে অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি আবার আলোচনায় ফিরে না আসে, তাহলে তাদের বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোরভাবে’ হামলা চালাবে। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত ইরান এমন এক অবস্থায় যাবে, যখন তারা এই চাপ আর সহ্য করতে পারবে না।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে দুই পক্ষের কঠোর বক্তব্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে এটি শুধুমাত্র ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বরং, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা, কৌশলগত অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন