১২:২১ পি.এম
পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এক হোটেল কর্মচারী, যিনি চৌধুরী নামে পরিচিত। কক্সবাজার শহরের কলাতলীর বাইপাস সড়কের একটি ভবনে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে নিহত স্কুলছাত্রীর সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি দেখা যাওয়ার ভিত্তিতে পুলিশ এই গ্রেপ্তারির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া রাজু চৌধুরী বান্দরবানের লামা উপজেলায় বাস করেন। তাঁর পিতার নাম মনির আহমদ। তিনি কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর ওই স্কুলছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা নগরের ভাড়া বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান এবং সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজারের একটি স্থানে ৬ অক্টোবর সিসিটিভি ফুটেজে রাজু চৌধুরীর সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। এই সূত্র ধরে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্কুলছাত্রীকে হত্যা কিংবা ঘটনার অন্য কোনো পর্যায়ে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে মহাসড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান ও অটো স্ট্যান্ড, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিম্মি
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানখেত থেকে ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পিতা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পুলিশ সুমন মিয়া নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে। সুমনের দেখানো স্থান থেকে নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলসংলগ্ন তিশা বাস কাউন্টারের কাছে বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল ওই কিশোরী। এ সময় সুমনের অটোরিকশায় ওঠে সে। ৩০০ টাকায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন তাঁকে নিয়ে রওনা হন। তবে বাড়ির পথে না গিয়ে তিনি অন্য সড়ক ধরে নির্জন এলাকায় যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন প্রথমে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিজরা বাজারের দিকে যান। পরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে লালমাইয়ের জগৎপুর এলাকায় পৌঁছান। সেখানে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে চিৎকার করে। একপর্যায়ে সুমন তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। পরে ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণের পর তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তারের পর সুমন আদালতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় তাঁর কিংবা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজারে পৌঁছালে রাজুকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন