মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৮ পি.এম
মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকো ডেল রিনকন শহরে একটি অপেশাদার ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন বন্দুকধারীদের গুলিতে একজন নিহত হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছে। মোটরসাইকেলে আসা একদল বন্দুকধারী হঠাৎ মাঠের টাচলাইনের কাছে চলে আসে এবং দর্শকদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।
এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে। হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায় দ্য সান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তার কারণে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও এই সিদ্ধান্তের আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল, তবে তাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ অনুসন্ধানের জন্য। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি একাধিক ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেয়।
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে ওয়ানডে অধিনায়কসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শান্ত বলেন, "বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ছিল ভালো এবং মানসিকভাবেও তারা প্রস্তুত ছিলেন।" দলের প্রত্যেকেই ভালো ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের সব প্রস্তুতি ও স্বপ্ন ভেস্তে যায়।
শান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি মূলত ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই নিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে আর কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তৎকালীন বিসিবি সভাপতিও সরকারের মতামতকে সমর্থন করে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে খেলার জন্য দলের ক্রিকেটাররা প্রস্তুত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিয়ে তাদের কিছুটা অনীহা ছিল। লিটন বলেন, "ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজন হলে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।"
লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা হলেও সরকারের সিদ্ধান্তটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও একতরফা। দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঘটনায় ক্রিকেটারদের যেন কেবল দর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছিল।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি, ক্রিকেটার ও কোচদের নিয়ে আসিফ নজরুল আলোচনা করেন রাজধানীর একটি হোটেলে। সেই আলোচনা থেকে দুয়েকজন ক্রিকেটারের কথা শোনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে আসিফ নজরুল সরাসরি নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। অনেক ক্রিকেটারই পরবর্তীতে জানিয়েছেন, আগের থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল জানাতেই আলোচনায় ডেকেছিলেন উপদেষ্টা।
গত ২২ জুলাই ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেভস্পোর্টজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান মিরাজও এই কথা বলেন, "আমি মনে করি, এটা রাজনৈতিক বিষয় ছিল। এর বাইরে আমার বলার মতো তেমন কিছু নেই। প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থাকে। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড়ও সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কী ঘটেছিল, সেটা সবাই জানে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করতে বরিশালের লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাসকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় রূপান্তরের জন্য সরকার ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রকল্পটি লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাস সম্প্রসারণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।’
‘বরিশাল সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সভায় একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৩টি ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি আবাসিক ভবন, ৭টি অনাবাসিক ভবন এবং ১০টি অন্যান্য অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, অগ্নিনির্বাপণ ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও প্রকল্পের আওতায় থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই সেনানিবাসে তিনটি পদাতিক ব্রিগেড, একটি আর্টিলারি ব্রিগেড এবং অন্যান্য ডিভিশন ও এরিয়া ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের আবাসন সংকট কমানো এবং সেনানিবাসে প্রশাসনিক ও সামরিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করতেও এটি সহায়ক হবে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যে ৭টি অফিস ভবন, সেনাসদস্যদের জন্য ১৪টি আবাসিক ভবন, ১২টি আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ১০টি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল ও পটুয়াখালী বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ধরনের বড় দুর্যোগে অতীতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাস থেকে সহায়তা নিতে হতো। স্বাধীনতার পর থেকে যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এ অঞ্চলের ২১টি জেলায় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রম ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় দূরবর্তী একটি সেনানিবাস থেকে এসব দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল ও পটুয়াখালীর মাঝামাঝি পায়রা নদীর তীরে লেবুখালীতে সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকার।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অবস্থান দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনাসদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, সম্প্রসারিত সেনানিবাসটি স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা এবং দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশ কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খাজাঞ্চি এলাকার স্থান থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন খাজাঞ্চি ইউনিয়নের তবলপুর (শিবরকলা) গ্রামের মৃত খুরশেদ আলীর পুত্র দুদু মিয়া (৪৫)। অপরজন হলেন একই ইউনিয়নের তবলপুর (নূরপুর) গ্রামের মৃত মনির আহমদের পুত্র কাওছার আহমদ (৪২)। দুদু মিয়া ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, কাওছার আহমদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় মামলা রয়েছে। বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় অবৈধভাবে দখল ও বিতরণ করা সরকারি জমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও দুর্নীতির চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল। সেই সময়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন বিভিন্ন জমি অনিয়মিতভাবে বরাদ্দ বা বিতরণ করা হয়েছিল। এসব জমির বরাদ্দ ও দখলের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। যদি অনিয়ম বা অবৈধতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জমি পুনরুদ্ধার করে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করছে। বরিশালেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ