মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশ কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খাজাঞ্চি এলাকার স্থান থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন খাজাঞ্চি ইউনিয়নের তবলপুর (শিবরকলা) গ্রামের মৃত খুরশেদ আলীর পুত্র দুদু মিয়া (৪৫)। অপরজন হলেন একই ইউনিয়নের তবলপুর (নূরপুর) গ্রামের মৃত মনির আহমদের পুত্র কাওছার আহমদ (৪২)। দুদু মিয়া ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, কাওছার আহমদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় মামলা রয়েছে। বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় অবৈধভাবে দখল ও বিতরণ করা সরকারি জমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও দুর্নীতির চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল। সেই সময়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন বিভিন্ন জমি অনিয়মিতভাবে বরাদ্দ বা বিতরণ করা হয়েছিল। এসব জমির বরাদ্দ ও দখলের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। যদি অনিয়ম বা অবৈধতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জমি পুনরুদ্ধার করে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করছে। বরিশালেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাহরাইনের হাইকোর্ট, ইরানের হামলাকে সমর্থন ও প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আদালত একই সঙ্গে তাকে ২ হাজার বাহরাইনি দিনার জরিমানা এবং জব্দ করা সামগ্রী বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দিয়েছে।
বাহরাইনের সন্ত্রাসবিষয়ক প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, মঙ্গলবার আদালত ওই ব্যক্তিকে বাহরাইনের বিরুদ্ধে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলা’ সমর্থনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
পাবলিক প্রসিকিউশন জানায়, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক এবং ইলেকট্রনিক নিরাপত্তাবিষয়ক মহাপরিদপ্তরের সাইবার ক্রাইম অধিদপ্তর থেকে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, ওই অ্যাকাউন্টে বাহরাইনে ইরানের হামলার প্রশংসা ও গৌরবগাথা তুলে ধরে ছবি, ভিডিও ও মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
গলফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে অ্যাকাউন্টটি পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এরপর তাকে হাইকোর্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিসে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। কয়েক দফা শুনানি শেষে আদালত তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।
বাহরাইনের পাবলিক প্রসিকিউশন বলেছে, দেশটির আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি সীমা মেনে চলতে হবে এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ছয়জনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বাঘাডাংগা সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এর সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, বাঘাডাংগা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৬০/৭৫-আর থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঘাডাংগা গ্রামের বাজারপাড়ার জাহাঙ্গীরের মেহগনি বাগানে বিশেষ টহল পরিচালনা করে বিজিবি। এই সময় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার কারণে ছয়জনকে আটক করা হয়।
বিজিবি আরও জানায়, আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিতুল পারওয়ান বিল ছিল একসময় পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের ধান ও মাছের প্রধান উৎস। এই বিল গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বিতুল, পারওয়ান, রয়েন, সিপুলিয়া ও পিপুলিয়া গ্রামের মানুষের চাহিদা মেটাতো।
২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে জমি কিনে ঐতিহ্যবাহী এই বিল ভরাট করতে শুরু করেছে। সড়কের পাশে পাকা দেয়াল ও টিনের বেড়া দিয়ে রাতের অন্ধকারে ভরাট করা হচ্ছে বিলের জমি। ফলে এলাকার ফসল ও মাছের উৎস বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ বিলের অবস্থা বিতুল পারওয়ান বিলের মতোই। এসব বিলের কৃষিজমি ভরাটের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এতে খাদ্য উৎপাদন কমার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫১ হেক্টর জমি এক ফসলি, চার হাজার ৭৮ হেক্টর দুই ফসলি এবং দুই হাজার ২০০ হেক্টর জমি তিন ফসলি।
কিন্তু কী পরিমাণ কৃষিজমি ভরাট হয়েছে বা ভরাট হওয়ার পথে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ও আজ মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নিচু ও আবাদযোগ্য জমিতে মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। কোথাও জমির একাংশ ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও ভরাটের প্রস্তুতি চলছে। কৃষিজমির পাশেই পড়ে থাকতে দেখা যায় মাটির স্তূপ। সড়কের পাশে বিল বা নিচু কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে প্রকাশ্যেই।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে। তবে সংশ্লিষ্টরা চলে যাওয়ার পর ফের শুরু হয় ভরাটের কাজ। নাগরী বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে দেখা যায়, ইট ও টিনের দেয়াল তুলে নির্মাণ করা হয়েছে গেট। রাত হলেই শুরু হয় জমি ভরাটের কাজ।
নাগরী ইউনিয়নের গলান এলাকায়ও চলছে বিল ভরাটের কাজ। এতে একদিকে ফসলি জমির স্বাভাবিক চরিত্র বদলে যাচ্ছে, অন্যদিকে পানি অপসারণের পথও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষিজমি ভরাটের ফলে প্রতিবছর আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। আগে যেসব এলাকায় ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন হতো, সেসব জমি ধীরে ধীরে বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজধানীর পূর্বাচলঘেঁষা গাজীপুরের কালীগঞ্জে সাইনবোর্ড সর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান কৌশলে মাটি ভরাট করে কৃষিজমি নষ্ট করছে। আবার কিছু বৈধ কোম্পানি আইনের তোয়াক্কা না করে মাটি ভরাট করছে। বেআইনি ও অপরিকল্পিতভাবে জমি ভরাটের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। খাল, নালা ও নিচু জমি ভরাট হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, উন্নয়ন প্রয়োজন, কিন্তু উন্নয়নের নামে নির্বিচারে কৃষিজমি ভরাট কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিজমি ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরিবেশগত বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, উপজেলায় কোথায় কতটুকু কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং আইন লঙ্ঘন করে ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নাগরী এলাকার একজন কৃষক সুবল চন্দ্র দাস বলেন, এখনই যদি কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে কালীগঞ্জের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ হারিয়ে যেতে পারে। কৃষিজমির জায়গা দখল করবে কংক্রিটের স্থাপনা—এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও পড়বে হুমকিতে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে। আরো কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা উচিত।
গাজীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন চেতনা গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক কবি মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃতির লীলাভূমি গাজীপুরের খাল বিল নদী নালা ও বন আমাদের অলংকার। এই সম্পদ ধ্বংসের জন্য কিছু অসাধু ব্যক্তি দায়ী। তারা কৃষিজমি ও খাল-বিল ভরাট করছে, যা গাজীপুরের জন্য হুমকি। অচিরেই জেলার ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কালীগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষিজমি ভরাটের খবর পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত যাচ্ছে। কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সড়কের পাশে দেয়াল নির্মাণ করে ভেতরে বিল ভরাটের ছবি দেখে তিনি বলেন, ‘এটি অবৈধ। ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
কৃষি থেকে পাওয়া উল্লেখিত তথ্য প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘কৃষিজমির এই পরিসংখ্যান আমি অফিসে যোগদান করার পর পেয়েছি, যা আপডেট ধরে নিয়ে কাজ করছি।’ কৃষিজমি ভরাট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ কৃষিজমি ভরাট করলে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ