ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজ শপথগ্রহণ করবেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য


আজ শপথগ্রহণ করবেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলিজা জামানের শপথগ্রহণ আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানটি সংসদ ভবনের স্পিকারের অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নবনির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের শপথ আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: দল ছাড়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

এর আগে, শনিবার নির্বাচন কমিশন মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট পেয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় দিনব্যাপী এআই বিজনেস সামিট আগামী বৃহস্পতিবার: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

অপরদিকে, আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ এর শূন্য পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এলিজা জামানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও একক প্রার্থী থাকায় আর ভোটের প্রয়োজন হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জের টেক্সটাইল মিলে এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ দগ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


রূপগঞ্জের টেক্সটাইল মিলে এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ৪ দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি টেক্সটাইল মিলের এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ফলে ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে।

দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন: কারখানার শ্রমিক ইসমাইল হোসেন (৩০), কামরুল (৫৫), তপন (৩৮) এবং অগ্নিনির্বাপক সুপারভাইজার নাইমুল (৩০)।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানিয়েছেন, ইসমাইলের শরীরের ২০ শতাংশ, কামরুলের ২৫, তপনের ১২ এবং নাইমুলের ৪২ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনেরই শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নাইমুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে, টেক্সটাইল মিলের অগ্নিনির্বাপক কর্মী ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা গাউছিয়া ঠাকুর বাড়িরটেক এলাকার সিম গ্রুপের টেক্সটাইল মিলের কর্মী তারা। সোমবার রাত ৮টার দিকে সেখানে এয়ার কম্প্রেসার মেশিন বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৩ শ্রমিক দগ্ধ হন। আগুনের এলার্ম বাজালে সেখানে মিলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ছুটে যান। অগ্নিনির্বাপক সুপারভাইজার নাইমুল আগুন নেভাতে ভেতরে ঢুকলে তিনি আটকে পড়েন। পরে তাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর পুলিশ: শ্রমিক আন্দোলনে গুলিতে হতাহতের খবর গুজব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


গাজীপুর পুলিশ: শ্রমিক আন্দোলনে গুলিতে হতাহতের খবর গুজব

গাজীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে যে, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কোনো শ্রমিক আহত বা নিহত হয়নি। গাজীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া গুজব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, চন্দ্রাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদের ক্ষতি রোধে সংযম, ধৈর্য ও আইনানুগ পন্থায় দায়িত্ব পালন করছে।

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কিছু ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এবং পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ আন্দোলনকারীদের উসকানি দিতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক বা শিক্ষার্থী আহত-নিহত হওয়ার গুজব ছড়াচ্ছে। তবে গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়নি এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি।

গাজীপুর জেলা পুলিশ শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিতে। পাশাপাশি, দুষ্কৃতকারীদের উসকানিতে সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে নিজ নিজ কাজে মনোনিবেশ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পুলিশের গুলিতে এক স্কুল ছাত্রের ছবি পোস্ট করে সে আহত বা নিহত হয়েছে উল্লেখ করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি করেনি এবং কোনো ছাত্র গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ এবং সচেতন মানুষ যেন বিভ্রান্তিতে না পড়ে, এ জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানি কনসোর্টিয়ামকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শর্তে ছাড় প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


জাপানি কনসোর্টিয়ামকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শর্তে ছাড় প্রদান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ছাড় দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আপত্তি থাকা সত্ত্বেও, জাপানিপক্ষের প্রস্তাবিত চুক্তির বিতর্কিত কিছু শর্ত অনুমোদন করেছে সরকার।

শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু না করার শর্তেও সম্মত হয়েছে বেবিচক।

সূত্র জানায়, এসব সিদ্ধান্ত সরকারের দর-কষাকষির সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং ঢাকাকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র বা এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। চুক্তির আলোচনা প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ চারটি শর্ত অনুমোদন করেছে।

বিতর্কিত বিষয়গুলো হলোÑ রাজস্ব ভাগাভাগি, বাংলাদেশের আইনে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব, ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের দায়কাল এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিগত সম্পর্ক। তবে এসব ধারার চূড়ান্ত ভাষা, আর্থিক হিসাব এবং সরকারের সম্মতির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যাবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই শর্তের প্রভাব থার্ড টার্মিনালের সীমানার বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিমান পরিবহন পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে শাহজালালে মাত্র একটি রানওয়ে রয়েছে। অপরদিকে বিমানবন্দরের চারপাশে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নতুন স্বতন্ত্র রানওয়ে নির্মাণের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন ও সেবাদানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কিন্তু শুধুমাত্র টার্মিনাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রানওয়ের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।

প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত রানওয়ে সক্ষমতা, বেশি সংখ্যক উড়োজাহাজ ওঠানামার সুযোগ, দ্রুত সংযোগব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচল সামাল দেওয়ার অবকাঠামো প্রয়োজন।

নতুন রানওয়ে ছাড়া বাংলাদেশ বিপুল বিনিয়োগে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করলেও উড়োজাহাজ চলাচলের সক্ষমতাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারে। ফলে ঢাকার আশপাশে ভবিষ্যতে আরেকটি বড় বিমানবন্দর গড়ে তোলার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ দীর্ঘমেয়াদি বিমান চলাচল পরিকল্পনায় সরকারের জন্য আরো বেশি বিকল্প ও স্বাধীনতা থাকা জরুরি।

এ বিষয়ে উইং কমান্ডার (অব.) নজরুল ইসলাম বলেন, "আমরা একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করব। আমরা উন্নয়নের জন্য কী করব, না করব সেটা নিয়ে তো তাদের মাথাব্যথা হওয়ার কারণ নেই। আমরা আরেকটি এয়ারপোর্ট বানাব কি বানাব না, সেটা বাংলাদেশের ব্যাপার।"

চুক্তি অনুযায়ী থার্ড টার্মিনাল থেকে লাভের ২৭ শতাংশ মিলবে কার্যক্রম শুরুর ৮ মাস পর। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাবে মাত্র সাড়ে ১৩ শতাংশ হারে। এছাড়া দেশের বিদ্যমান আইন মেনে এই চুক্তি হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে কোনো আইন পরিবর্তন হলেও, সেটি দিয়ে এই চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে নাÑ এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, "আরো কয়েকটি কোম্পানি থাকলে হয়তো নেগোসিয়েশনে স্ট্রং পজিশনে থাকা যেত। সেটা কিন্তু আমরা অবগত নই। ইতোমধ্যে আমরা ব্যাকবেঞ্চে। এখন এই ব্যাকবেঞ্চে থেকেও কিন্তু নেগোসিয়েশনে ভালোভাবে ডিল করা যায়।"

রাজস্ব ভাগাভাগিতেও জাপানকে ছাড়

জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয় ছিল রাজস্ব ভাগাভাগি। কনসেশন চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট রাজস্বের ২৭ শতাংশ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের।

বেবিচক সূত্র জানায়, প্রাসঙ্গিক রাজস্বের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে। তবে পরিচালনার প্রস্তুতি থেকে আংশিক কার্যক্রম এবং পরে পূর্ণ কার্যক্রমে যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে এই হার কার্যকর হবে না। এর আগে আট মাসের পরিচালনাগত প্রস্তুতির সময় কনসোর্টিয়াম ১৩.৫ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। তবে ওই হার চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাময়িকভাবে রাজস্বের হার কমানো হলেও এর আর্থিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। বিশেষ করে যাত্রী চলাচলের পরিমাণ, বাণিজ্যিক আয় এবং অন্তর্বর্তী মেয়াদের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম

চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত বিষয় বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং উড়োজাহাজ পরিচালনার কার্যক্রমের চুক্তিগত সম্পর্ক। বিমান একদিকে যাত্রী পরিবহন করে, অন্যদিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাও দেয়। জাপানি কনসোর্টিয়ামের একটি শর্ত হলোÑ বিমানকেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সার্বিক দায়-দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহন করতে হবে। অর্থাৎ বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অংশীদারদের হাতে থাকলেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বহন করতে হবে বিমান সংস্থাকে। এক্ষেত্রেও তাদের আয়ের অংশ পাবে কি না তার নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে।

এ ধরনের শর্ত দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো পরিচালনার চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন, নির্মাণগত ত্রুটি বা পরিচালনাগত সমস্যা দেখা দিলে কোন পক্ষের কী দায়িত্ব থাকবে, তা এসব ধারার ওপর নির্ভর করতে পারে।

অন্য দুটি বিরোধপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশের আইন পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চুক্তির বিধান প্রয়োগ এবং নির্মাণত্রুটির দায় বহনের সময়সীমা। আগের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, জাপানি কনসোর্টিয়ামের চাওয়া বিশেষ আইনি সুরক্ষা এবং নির্মাণত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের সময়সীমা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।

মন্ত্রণালয় এসব শর্ত অনুমোদন করলেও চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত কী ভাষায় বিধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি স্বাক্ষরের পথে অগ্রগতি

বেবিচক সূত্র জানায়, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষে সংশোধিত কনসেশন চুক্তিটির প্রতিটি ধারা পর্যালোচনার জন্য জাপানিপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এরপর চুক্তিটি আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। আগামী ১৫ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে নভেম্বরের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইনি সুরক্ষা

আইনি সুরক্ষা ও দেশের আইন প্রয়োগের বিষয়েও দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। জাপানি পক্ষ এ ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি সুবিধা ও দায়মুক্তি চেয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকার যদি দেশের সব বিদেশি বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ কোনো আইন প্রণয়ন করে কিংবা বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করে, তাহলে সেই আইন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ দেশের আইন ও সাধারণ আইনি পরিবর্তনের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সরকার একমত নয়।

প্রকল্পের ত্রুটি

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ত্রুটি সংশোধন বা ত্রুটি শনাক্তের পর তা জানানোর নির্ধারিত সময়সীমা ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি) নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ এ মেয়াদ নয় মাস নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে জাপান এ সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবিতে অনড় রয়েছে।

একক আলোচনায় দুর্বল বাংলাদেশের অবস্থান

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এককভাবে আলোচনা চালানোর সিদ্ধান্তও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মফিদুর রহমান এর আগে সতর্ক করেছিলেন, বিকল্প কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আলোচনায় না থাকায় বাংলাদেশের দর-কষাকষির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তার মতে, একমাত্র সম্ভাব্য পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা জাপানি কনসোর্টিয়ামকে নিজেদের অনুকূলে ক্রমাগত আরো সুবিধাজনক শর্ত আদায়ের সুযোগ দিয়েছে। বেবিচকের প্রাথমিক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সরকার বিতর্কিত শর্তগুলো মেনে নেওয়ায় সাবেক চেয়ারম্যানের সেই সতর্কবার্তা নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভার-আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, তদন্ত চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


সাভার-আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর, তদন্ত চলছে

সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিরতার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে, যা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাকশিল্প অধ্যুষিত এই অঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের পাশাপাশি হামলার ঘটনাগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল কি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগকে আলাদা করে দেখাও অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার (২ নভেম্বর) শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সাভার-আশুলিয়ার ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। অন্তত আটটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। নরসিংহপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজনকে আটক করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) সাভারের হেমায়েতপুরে একেএইচ গ্রুপের একটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর একদল বিক্ষোভকারী ওই কারখানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি সব কিছু ভাঙচুর শুরু করে এবং কারখানার ভিতরে থাকা প্রায় অর দশ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব ঘটনার কারণে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের সাধারণ অভিযোগ হলো, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন থাকতেই পারে, কিন্তু সেই আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ, যানবাহনে হামলা কিংবা কারখানায় ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে হাজার হাজার মানুষ সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু আন্দোলন ও সহিংসতার কারণে কর্মস্থলে পৌঁছানো, জরুরি কাজে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী এবং কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

একাধিক সাধারণ নাগরিকের উদ্বেগের বিষয় হলো, শ্রমিকদের দাবি আর কারখানায় হামলা চালানো ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য এক কি না, সেটি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। নিরপরাধ শ্রমিকদের যেন হয়রানি করা না হয়, আবার হামলাকারীরাও যেন কোনো পরিচয়ের আড়ালে পার পেয়ে না যায়।

চলমান আন্দোলনে পোশাকশ্রমিকদের অন্যতম দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। এসব দাবিকে কেন্দ্র করেই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবি পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য হলো, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে এক করে দেখা উচিত নয়। আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশের অভিযোগও তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এখন সাধারণ মানুষের কাছে একটাই প্রশ্ন, এইসব হামলা ও ভাঙচুরের পিছনে ইন্ধনদাতা কারা? সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কারা শ্রমিকদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে? এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র, রাজনীতিক ফায়দা হাসিল, বহিরাগত গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহল কাজ করছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো, প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের পাশাপাশি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন অপরাধীর পরিচয় না পায় এবং কোনো অপরাধী যেন শ্রমিক পরিচয়ের আড়ালে আত্মগোপন করতে না পারে।

কারণ পোশাকশিল্প শুধু মালিক বা শ্রমিকের সম্পদ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের অর্থনীতি, লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%