০৪:৩১ পি.এম
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সেও ফুটবল মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স বজায় রেখেছেন। পর্তুগিজ এই মহাতারকা পেশাদার ফুটবলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতার অন্যতম কারণ হলো কঠোর জীবনযাপন এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। তবে রোনালদোর খাদ্য তালিকায় এমন একটি উপাদান নেই, যা সাধারণত খেলোয়াড়দের জন্য প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
রোনালদোর সাবেক ব্যক্তিগত শেফ জর্জিও ব্যারোন জানিয়েছেন, এই তারকা ফুটবলার দুধ কিংবা কোনো ধরনের দুগ্ধজাত খাবার খান না। মানুষের অন্য প্রাণীর দুধ পান করার বিষয়টি নিয়ে তার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এই কারণে রোনালদোর খাদ্যতালিকা থেকে দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি সব খাবার বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দাদার স্মরণে র্যাচেল অ্যাপার মৃত্যু
কভার্সডটকমকে ব্যারোন বলেন, ‘রোনালদোর খাবারের তালিকায় দুধ একেবারেই থাকে না। মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা অন্য প্রাণীর দুধ পান করে। অন্য কোনো প্রাণী নির্দিষ্ট বয়সের পর আর দুধ পান করে না। প্রকৃতিতে এক প্রাণীর অন্য প্রাণীর দুধ পান করার বিষয়টি দেখা যায় না। অথচ মানুষ ৩০, ৪০, ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সেও দুধ পান করে। দীর্ঘ সময় ধরে অন্য প্রাণীর দুধ পান করাকে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের সঙ্গে যায় না বলে মনে করেন তিনি। এ কারণেই রোনালদো দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলেন।’
যদিও খাবারের ক্ষেত্রে রোনালদোর কঠোর শৃঙ্খলা রয়েছে, তবে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার সাবেক শেফ। তার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর এবং প্রাকৃতিক খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ব্যারোন জানান, সকালের নাশতায় রোনালদো সাধারণত অ্যাভোকাডো, ডিম এবং চিনি ছাড়া কফি পান করেন। তার খাবারে কোনো ধরনের মিষ্টি রাখা হয় না।
দুপুরের খাবারেও থাকে সহজ এবং পুষ্টিকর উপাদান। মুরগির মাংস কিংবা মাছের মতো চর্বিহীন প্রোটিনের সঙ্গে প্রচুর শাকসবজি খান তিনি। চাল বা গমজাতীয় খাবার সাধারণত এড়িয়ে চলেন। প্রয়োজনীয় শর্করার বড় অংশ আসে শাকসবজি থেকে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ইশরাক
রাতের খাবারেও একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন রোনালদো। মুরগির মাংস বা মাছের সঙ্গে থাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি। প্রতিটি খাবার এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে পুষ্টিগুণ যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন থাকে।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পাশাপাশি মিষ্টি, রুটি, পাস্তা এবং প্রক্রিয়াজাত শর্করাজাতীয় খাবারও এড়িয়ে চলেন রোনালদো। অন্যদিকে তার খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং উন্নতমানের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গুরুত্ব পায়।
রোনালদোর সাবেক শেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কঠোর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিমান এবং ভারসাম্যের দিকেও বিশেষ নজর রাখেন এই ফুটবল তারকা। দীর্ঘদিনের ফিটনেস ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটিও তার জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন: মেসি ছাড়া ২১ বছর পর আর্জেন্টিনার নতুন দল ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন