ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমিনী: আইন অনুযায়ী আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই


আমিনী: আইন অনুযায়ী আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী বলেছেন, "আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।" তিনি দাবি করেছেন, শামীমকে নাস্তিক বলে ধারণা করেছিলেন এবং তার হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না; ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।

গ্রেফতারের পর কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে পুলিশ আমিনীকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে সাতক্ষীরার আদালতে পাঠায়।

আমিনী বলেন, "বিভিন্ন দেশ থেকে নাস্তিকেরা যেভাবে মোবাইল করে থ্রেট দিয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি সে নাস্তিক ছিল।" তিনি আরও বলেন, পিটিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না, এটি দুর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যে কাজটি করেছি, সেটি আল্লাহ পাক ফয়সালা করবেন।"

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

আইনের দৃষ্টিতে নিজেকে অপরাধী মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনী আবারও বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে আমি অপরাধী, তবে অনুতপ্ত নই।"

দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানিয়েছেন, ফজলুল হক আমিনী পুলিশের কাছে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলেও জানিয়েছেন। এ কারণে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শামীমের পরিবারের করা হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী: দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


প্রধানমন্ত্রী: দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’

দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে, এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বইয়ে শেখ মুজিবের নাম, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুরস্কার বইয়ে শেখ মুজিবের নাম, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

ভোলার চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, পুরোনো, দাগযুক্ত ও ছেঁড়া বই বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিতরণকৃত বইয়ে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

১২ অক্টোবর চরফ্যাশন উপজেলা মডেল মসজিদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভোলা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী জ্ঞান, আজান, কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

বিজয়ী একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, বিজয়ী শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ৭ থেকে ১২ বছরের পুরোনো। কিছু বইয়ের পৃষ্ঠা ছেঁড়া এবং গায়ে দাগ রয়েছে। ভালো পারফরম্যান্সের পর নতুন বইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও জীর্ণ বই পেয়ে অনেক শিশু হতাশ হয়ে পড়ে। বিচারকমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, অনুচিত এই উপহার পেয়ে কয়েকজন শিশু অনুষ্ঠানস্থলেই কেঁদে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিতরণ করা ‘সৈনিকের চল্লিশ হাদিস’ বইটি ২০১৪ সালের আগস্টে এবং ‘ওলীকুল শিরোমণি শায়খ মুহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী (কা.সি.)’ বইটি ২০১৭ সালের জুনে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বই পুরোনো হওয়ায় এবং ভেতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার কারণে জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমানের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিতর্কিত বই বিতরণ প্রসঙ্গে জেলা উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান বলেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে যারা পুরোনো বই পেয়েছে, তাদের জানালে আমরা নতুন বই দিয়ে দেব। বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, এগুলো আগে ছাপানো পুরোনো বই বলেই নাম রয়ে গেছে, তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলাদা কোনো বই দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ মন্তব্য করেন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বই দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সংবলিত বা পুরোনো বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ ভবনের সামনে হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু, আসামির জামিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


সংসদ ভবনের সামনে হ্যাঁচকা টানে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু, আসামির জামিন

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (২৪) নামের এক আসামিকে জামিন প্রদান করেছে আদালত।

রোববার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী মেহেদী হাসান জানান, মামলায় পুলিশের প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত আসামি রাকিবের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। জামিনের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ধার্য করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি শিগগির কারামুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী।

গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রাস্তায় পড়ে নিহত হন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা (৫৬)। চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। ভোরে কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে নেমে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ টান দেয়। এতে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ওই শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, ১০ যাত্রী আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


হবিগঞ্জে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, ১০ যাত্রী আহত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে, যখন ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করছিল, তখন ইঞ্জিন থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন জ্বলে উঠলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।

ইঞ্জিনে আগুন লাগার কারণে ট্রেনটির যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকল্প ইঞ্জিন এনে প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ট্রেনটি আবার সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সময় স্টেশনে আটকে থাকায় তীব্র গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করছিল। এ সময় স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসেন। এরপরপরই ইঞ্জিনে আগুন জ্বলে ওঠে।

ইঞ্জিনে আগুন দেখতে পেয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ জন যাত্রী সামান্য আহত হন। তবে আগুন যাত্রীবাহী কোচে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। তাদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনে ইঞ্জিনের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেনটির স্বাভাবিক যাত্রা ব্যাহত হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ইঞ্জিনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইঞ্জিনটি অকেজো হয়ে পড়ে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন সরিয়ে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়। বিকল্প ইঞ্জিন যুক্ত করার পর রাত ৯টার দিকে ট্রেনটির সিলেট অভিমুখে যাত্রা আবার শুরু হয়। তবে এ ঘটনায় ওই লাইনে অন্যান্য ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) জহির উদ্দিন বলেন, আউটার সিগন্যাল এলাকায় থাকতেই চালক ইঞ্জিনে ত্রুটি বুঝতে পেরেছিলেন। স্টেশনে ট্রেনটি থামানোর পর যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ইঞ্জিনটি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে আগুন যাত্রীবাহী কোচে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%