ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৬৪ জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী


৬৪ জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের ৬৪ জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কমপ্লেক্সগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি আধুনিক সিনেপ্লেক্স ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে, যা মানুষের বিনোদনের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া সারিন্দা সাফারি রিসোর্টে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সিনিয়র-জুনিয়রসহ সকল বয়সী মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের বিনোদনের সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই একদিন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।" তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নকল বন্ধ করেছেন। বিএনপি সরকারের সময় পরীক্ষার স্বচ্ছ ফলাফল নিশ্চিত করা হবে এবং পরীক্ষায় কারচুপি ও নকলের কোনো সুযোগ থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে উন্নয়নের যে রাজনীতি শুরু করেছেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "তাদের মধ্য থেকেই একদিন রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে।" সঠিক পথ বেছে নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

ময়মনসিংহে বিমানবন্দর স্থাপন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, তিনি ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে জেলায় বিমানবন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনে বিষয়টি আবারও মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করবেন।

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

তিনি বলেন, মাওনা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ফ্লাইওভার বা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরসংবলিত একটি ডিও লেটার নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যিনি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং ডিআইজি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিসিক প্রশাসক: যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করা হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


সিসিক প্রশাসক: যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে ফ্যামিলি কার্ড নিশ্চিত করা হবে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর জন্য তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা দল-মত বিবেচনা না করে যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি কমিয়ে আনতে হবে, যাতে সরকারি অর্থে পরিচালিত এই কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর শেখঘাটে সমাজসেবা কমপ্লেক্সে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহর সমাজসেবা কার্যালয় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির একটি অংশ। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেটে কিছুটা দেরিতে কার্যক্রম শুরু হলেও তা সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সিসিক প্রশাসক তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশ্যে বলেন, উপযুক্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা এ দায়িত্ব পেয়েছেন। কয়েকশ প্রার্থীর মধ্য থেকে বাছাই হয়ে আসা এসব কর্মীকে মাঠপর্যায়ের কাজে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে নারীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীরা পরিবার ও সমাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলম। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনা পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে সতর্কতার নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


খুলনা পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে সতর্কতার নির্দেশনা

পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার ঘটনার পর খুলনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, নির্দেশনাটি শুধুমাত্র জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নির্দেশনাটি খুলনা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এটি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্দেশনাটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অপতথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিষয়টির তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্দেশনাটি প্রকাশের সাথে সংশ্লিষ্ট কারো দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্তূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এতে আরো বলা হয়েছে, খুলনা জেলা পুলিশ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় মনোবল ও পেশাদারির সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে না। জনসাধারণকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দায়িত্ব পালন শেষে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশাযোগে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিন ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলম। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে সতর্ক ও সচেতন করার উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার সকালে খুলনার পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে একটি আন্তঃবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান: পর্যটনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান: পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া বঞ্চিত মানুষদের মূলধারায় নিয়ে আসা হবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "তোমরাই দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, তোমরাই পারবে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে।"

রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের আকুয়ায় একটি রিসোর্টে সিটি করপোরেশন আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিটি প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ প্রতিপাদ্য তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, "বিগত ১৭ বছর বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই উল্লাস স্তিমিত ছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, "কোনো ধরনের উল্লাস ছিল না, সুষ্ঠু পড়াশোনার পরিবেশ ছিল না।" বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে সবকিছুতে অসচ্ছতা ছিল। এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ বিভাগসহ গোটা দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীরা জানে তারা আগামী বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায়।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, "কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাকারীকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।"

ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার জনদাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার যে সার্বজনীন প্রত্যাশা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।" তবে তিনি জানান, "এই বৃহৎ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে।" তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর প্রতি নজর রাখবেন।" তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। "আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।" বিগত সময়ের অনিয়মের কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের কিছুটা সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বিমান ক্রয় নিয়ে সমালোচনার জবাবে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, "আমরা যে ৩৫টি নতুন বিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছি, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—বিলিয়ন ডলার খরচের প্রয়োজনীয়তা কী?" তিনি ব্যাখ্যা করেন, "কিন্তু এই বিমানগুলো বহরে যুক্ত হতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে।" বর্তমানে চালু থাকা উড়োজাহাজগুলো যখন অচল হয়ে যাবে, তখন দেশের এভিয়েশন খাত কিভাবে চলবে? "এই দূরদর্শী চিন্তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ছিল না, আর এখনো যারা বিরোধিতা করছেন তারাও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন না।"

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, "ময়মনসিংহকে আমরা কোনোভাবেই অনুন্নত রাখতে চাই না।" তিনি জানান, "এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে যা যা করণীয়, প্রধানমন্ত্রী তা-ই করবেন।" এর অংশ হিসেবে নেত্রকোনার বিরিশিরিকে একটি আধুনিক পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারা ও মাদক অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


কারা ও মাদক অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কারা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। এই দুই কর্মকর্তা হলেন কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক দুটিপ্রজ্ঞাপনে তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন দুটিতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল ফাত্তাহ কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সাময়িক বরখাস্ত জেলার। পঞ্চগড় জেলা কারাগারে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি অর্থ তছরুপ ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, বাবা মায়ের দোয়া, নুর স্টোর ও শুভ সি মিলের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই কাজে জেলা সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী ও কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের সঙ্গে পারস্পরিক যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা ৯টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে। তিনি চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেল সুপারকে বাইপাস করে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিল প্রস্তুত ও হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তিনি অভিযোগের লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের পর শেষ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ জাল করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছেন।

আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও ভুয়া বিল দাখিল করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই ভ্রমণবিবরণী ও বিল অতিরিক্ত মহাপরিচালক, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা এবং প্রত্যয়নপত্রের স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুলাল কৃষ্ণ সাহা ২০০০ সালের ২৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে রাসায়নিক পরীক্ষক পদে যোগ দেন। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই গ্রেডে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও ২৩ বছরে শতাধিকবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিমান ভ্রমণের বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি লিখিত জবাব এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রথমে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ পর্যালোচনার পর ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

প্রজ্ঞাপনে দুলাল কৃষ্ণ সাহার বর্তমান কর্মস্থল হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার, সিলেটের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তিনি সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি রাসায়নিক পরীক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দুই কর্মকর্তাকেই গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%