১২:১৫ পি.এম
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ (২১ জুলাই, ২০২৬) ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার চূড়ান্তভাবে এসেছে। একই সাথে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে দেশে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ওয়াশিংটনের কংগ্রেসের এক শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই ব্যয়ের পরিমাণ কিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
পূর্বে, গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের আবেদন করেছিলেন, যা মূলত ইরান যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুনানিতে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ছুঁড়ছেন। তারা অভিযোগ করছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে যথাযথভাবে অবহিত করছে না। ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে মন্তব্য করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার হুমকি তৈরি করছেন এবং কিছু মন্তব্য করছেন যা যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা তৈরি করছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড যাচাই করতে বলেন, প্রশাসনের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যুদ্ধের অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারছে না, যুদ্ধ শেষ হয়েছে নাকি এখনো চলছে—এ বিষয়টিতে বিদ্যমান অস্পষ্টতা দৃশ্যমান।
শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করে জানান, জরুরি অর্থ বরাদ্দ না পেলে সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করতে হতে পারে এবং যুদ্ধের কারণে প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের জন্য আবেদন জানান।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, অর্থ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন সক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দু পক্ষই প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটাতে শুরু করেছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জন হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ জন সেনা। যদিও প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করছে, আহতদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি জানান, ওই পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা খুব শিগগিরই করা হবে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন