ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হড়কাবানে নিশ্চিহ্ন চীনা সীমান্তবন্দর, ধ্বংসস্তূপে মিলছে না প্রাণের চিহ্ন


হড়কাবানে নিশ্চিহ্ন চীনা সীমান্তবন্দর, ধ্বংসস্তূপে মিলছে না প্রাণের চিহ্ন

হড়কাবান এবং আসম্মিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ফলে চীনের গিরং সীমান্তবন্দর সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে প্রাণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বন্যার ঢেউয়ের ফলে ওই সীমান্তবর্তী স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে প্লাবিত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার উদ্ধার অভিযান শুরু করতে চীনা উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

উদ্ধার কর্মকর্তাদের মতে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে, ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে জীবিত কাউকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তারা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সামান্যতম আশাও থাকবে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্ধারকারী দল শুক্রবার বিকালে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৮০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত ওই স্থলবন্দরে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দলের প্রধান লিউ মাওলিন চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেছেন, কাদাধসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অধিকাংশ ভবন সম্পূর্ণরূপে ধসে গেছে। কোথায় ভবন ছিল, তার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন

তিনি আরও বলেন, পুরো এলাকা পুরু কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও কাদা ও ধ্বংসস্তূপের স্তর অত্যন্ত গভীর। সীমান্তবন্দরের অবকাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা শুক্রবার পর্যন্ত কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাননি। তবে দলের প্রধান বলেছেন, অভিযান বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লিউ মাওলিন বলেন, “যতক্ষণ সামান্যতম আশাও থাকবে, আমরা কখনো হাল ছাড়ব না।”

উদ্ধারকারীরা ভারী সরঞ্জাম নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন। দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের প্রত্যেককে ভারী ওজনের বেশ কিছু সরঞ্জাম বহন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে শারীরিক ঝুঁকিও তাদের জন্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে

উচ্চতার কারণে কঠিন উদ্ধার অভিযান

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৮০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থান করায় সেখানে স্বাভাবিক কাজ করাও উদ্ধারকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অক্সিজেনের স্বল্পতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সামান্য হাঁটাচলাতেও তাদের শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে সাধারণ কয়েক কদম হাঁটলেও বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে উদ্ধারকারীরা ভারী সরঞ্জাম নিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। ধসে পড়া স্থাপনার নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তারা ধাপে ধাপে এলাকা পরিষ্কার করছেন।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য

অবকাঠামো প্রায় নিশ্চিহ্ন

উদ্ধারকারী দলের প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, কাদাধসের প্রভাব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ক্ষতিগ্রস্ত গিরং বন্দর এলাকার ভবনগুলোর অধিকাংশের কাঠামোগত অস্তিত্বই এখন আর বোঝা যাচ্ছে না।

পুরু কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে গেছে সীমান্তবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে উদ্ধারকারী দল সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?

চীনের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য—ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধান করা এবং নিখোঁজদের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব তথ্য নিশ্চিত করা। সূত্র:

সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোস্টেল থেকে মেডিকেল ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


হোস্টেল থেকে মেডিকেল ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি কলেজটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত শিক্ষার্থীর নাম অভিষেক কুমার (২০)। তিনি বিহারের সীতামারি এলাকার বাসিন্দা। দুর্গাপুরের কাঁকসার রাজবাঁধের মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করতেন এবং কলেজের হোস্টেলেই থাকতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিষেকের সঙ্গে একই কক্ষে এক সহপাঠীও থাকতেন। ঘটনার সময় ওই সহপাঠী নমাজ পড়তে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ঘরের দরজা বন্ধ। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি কলেজ ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অভিষেককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর অভিষেকের পরিবারের কাছে জানানো হয়েছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো চিরকুট পাওয়া যায়নি।

পুলিশ হোস্টেলের ওই কক্ষে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অভিষেকের সহপাঠীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি কোনো কারণে মানসিক চাপে ছিলেন কি না, কিংবা তার ওপর কোনো ধরনের চাপ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্গাপুরের মেডিকেল কলেজের সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, হোস্টেলের একটি কক্ষে অভিষেক ও তার এক সহপাঠী থাকতেন। ঘটনার সময় ওই সহপাঠী নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।

তিনি আরও বলেন, সামনে পরীক্ষা থাকায় অভিষেক কোনো মানসিক চাপে ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ও হোস্টেলজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে ৪ হত্যা: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


রংপুরে ৪ হত্যা: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি লড়াই করবেন না রংপুর আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এই জঘন্য ও নির্মম ঘটনা অত্যন্ত নিকৃষ্টতম। এই নৃশংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আইনজীবী সমিতি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো আইনজীবী অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াবেন না। বরং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

আইনজীবী সমিতির নেতারা জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই তারা সরকারি আইনজীবী এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ দ্রুততম সময়ে দুই আসামিকে আটক করে এবং লুণ্ঠিত অলঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্তরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করে আইনজীবী সমিতি। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়িয়ে সত্য তথ্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব এবং অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নেপাল ট্রাজেডি

টানেলে আটকা বহু মানুষ, কাদায় মুখ বন্ধ থাকায় দু’দিনেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


টানেলে আটকা বহু মানুষ, কাদায় মুখ বন্ধ থাকায় দু’দিনেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি

নেপালের ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতরে আকস্মিক বন্যার কারণে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধার করার জন্য অভিযানকে আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে, টানা দু’দিন ধরে চলা উদ্ধার কার্যক্রমের পরেও এখনও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকাল থেকে টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভেতরে পৌঁছানোর কাজকে আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

মানুষ আটকে পড়ার খবর পাওয়ার পরপরই সরকার টানেলের প্রবেশপথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ৬২ জন সদস্য, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশের ২০ জন সদস্যসহ মোট ৮২ জনের একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল শুক্রবার রাত থেকে সেখানে কাজ করে চলেছে। তবে, ওই এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, সহায়তার জন্য ভারতে থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী দল ত্রিশূলীতে পৌঁছেছে। দলটি প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী উদ্ধার অভিযান শুরুর আগে হেলিকপ্টারে করে চিলিম ও লাংটাং এলাকায় প্রাথমিক আকাশপথে পর্যবেক্ষণ চালানোর পরিকল্পনা করেছে। সূত্র: নেপাল নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমধ্যসাগরের সেই নৌযানে ছিলেন রবিন? ২৫ দিনেও মেলেনি নিশ্চিত কোনো উত্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


ভূমধ্যসাগরের সেই নৌযানে ছিলেন রবিন? ২৫ দিনেও মেলেনি নিশ্চিত কোনো উত্তর

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন নরসিংদীর রায়পুরার রবিন মিয়া। লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা করা একটি নৌযানে তিনি ছিলেন—এমন তথ্যই পেয়েছে তার পরিবার। কিন্তু ওই নৌযানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর কেটে গেছে ২৫ দিন। এখনো রবিনের কোনো সন্ধান মেলেনি।

রবিন জীবিত আছেন, নাকি ভূমধ্যসাগরের উত্তাল জলরাশিতে হারিয়ে গেছেন—কোনোটিই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না তার পরিবার।

পরিবারের দাবি, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ওই নৌযানে রবিনসহ ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। ভূমধ্যসাগরের মাঝপথে নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে খাবার ও পানি ছাড়াই প্রায় ১১ দিন সাগরে ভাসতে হয় তাদের। পরে ১৩ আগস্ট নৌযানটি মিশরের মার্সা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়।

ওই নৌযানে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আব্দুল করিম নামে এক অভিবাসনপ্রত্যাশী একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন। তার দাবি, নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি।

করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটিতে ৪২ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাদের ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও রবিন মিয়ার অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

‘ভাই ওই নৌযানেই ছিল’

রবিনের বোন মাহমুদা আরটিভিকে জানান, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, গত ৩ আগস্ট দুর্ঘটনার কবলে পড়া নৌযানটিতে তার ভাই রবিনও ছিলেন। পরে নৌযানটি মিশরের মার্সা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানোর খবর পাওয়ার পর পরিবারের আশা ছিল, রবিন হয়তো জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

কিন্তু সেই আশারও এখন কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই।

মাহমুদা বলেন, মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাসপাতাল, কারাগার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো রবিনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য তারা পাননি।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুসাপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিন মিয়া। তার বাবা জলিল মিয়া ও মা শোফালা বেগম। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।

দালালের হাত ধরে লিবিয়ায়

পরিবারের ভাষ্য, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবিন। এ জন্য স্থানীয় দালালচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, তাদের এলাকার রাজীব নামের এক দালালের মাধ্যমে রবিনকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে আলম নামের আরেক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাহমুদার ভাষ্য, লিবিয়ায় থাকা আলমের কাছ থেকেই পরে তারা জানতে পারেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ওই নৌযানে রবিন ছিলেন।

তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে বা সরকারি কোনো সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসেও ই-মেইল করা হয়েছে বলে জানান মাহমুদা।

৩ আগস্ট থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পরিবারের দাবি, ৩ আগস্ট নৌযাত্রা শুরুর পর থেকেই রবিনের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। একদিন, দুদিন করে পেরিয়ে যায় সপ্তাহ। কিন্তু রবিনের কোনো ফোন আসে না। তার অবস্থান সম্পর্কেও পাওয়া যায়নি নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য।

এর মধ্যে বিভিন্ন দালাল ও পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে পরিবারের কাছে আসতে থাকে নানা ধরনের খবর। কেউ জানান, দুর্ঘটনার পর কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের মিশরে আটক রাখা হয়েছে। আবার উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনের আত্মীয়ও রয়েছেন বলে পরিবারকে জানানো হয়।

কিন্তু মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়া উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি ও তালিকা দেখে কিংবা মার্সা মাতরুহ পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে রবিনের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবার।

‘হাসপাতালের কর্মী’ পরিচয়ে ফোন

রবিনের সন্ধান নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় রামিম খান নামের এক ব্যক্তির ফোনে।

মাহমুদার দাবি, ওই ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে মিশরের একটি হাসপাতালের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, রবিন মিয়াকে মিশরের তোরা কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অর্থের বিনিময়ে রবিনকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।

মাহমুদা বলেন, আমি তাকে বলেছি, আমার ভাইকে জেল থেকে বের করে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দিতে পারলে আপনাকে টাকা দেব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি তাঁর কথা রাখতে পারেননি।

মাহমুদার দেওয়া রামিম খানের নম্বরে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে রবিন সত্যিই তোরা কারাগারে রয়েছেন কি না, সেই দাবিরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে রবিনের সন্ধানে তার ছবি ও পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পরিবার। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও দালালচক্রের কয়েকজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, রবিন জীবিত এবং মিশরের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

এমন খবরে একদিকে পরিবারের মধ্যে আশার আলো জ্বলে ওঠে, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সেই আশাই আবার পরিণত হয় হতাশায়।

একেকজনের কাছে একেক তথ্য

রবিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের কাছে আসছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। কেউ বলছেন তিনি জীবিত। কেউ বলছেন মিশরের কারাগারে আটক। আবার কেউ কেউ এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন, দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ফলে পরিবারটি এখন চরম বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

একদিকে দালালকে দেওয়া বিপুল অর্থের ঋণ, অন্যদিকে ছেলের কোনো নিশ্চিত সন্ধান না পাওয়ার যন্ত্রণা—দুই দিক থেকেই বিপর্যস্ত পরিবারটি।

রবিনের বাবা জলিল মিয়া বর্তমানে শয্যাশায়ী। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর মা শোফালা বেগমও শোক ও দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

রবিন জীবিত থাকলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার। আর যদি তিনি দুর্ঘটনায় মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে সরকারি ও নির্ভরযোগ্যভাবে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছে তারা।

দালালচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

রবিনকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় এবং পরে ইউরোপে পাঠানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজীব এবং লিবিয়ায় থাকা আলমের মাধ্যমে রবিনের বিদেশযাত্রার পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

‘আমরা গুজব চাই না, নিশ্চিত খবর চাই’

মাহমুদা জানান, প্রতিদিনই পরিবারের কাছে নতুন কোনো খবর আসে—কখনো আশার, কখনো হতাশার। কিন্তু কোনো খবরই এখন পর্যন্ত তাদের কাছে রবিনের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তারা আর গুজব, অনুমান কিংবা দালালদের পরস্পরবিরোধী কথা শুনতে চান না। তারা শুধু রবিনের প্রকৃত পরিণতি সম্পর্কে একটি নিশ্চিত খবর চান।

রবিন জীবিত থাকলে তাকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আর যদি তিনি না থাকেন, তাহলে অন্তত তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে জানানো হোক।

কারণ, প্রিয়জন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করে থাকা যে কতটা নির্মম, রবিনের পরিবার এখন তারই সাক্ষী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%