ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রংপুরে ৪ হত্যা: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা


রংপুরে ৪ হত্যা: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি লড়াই করবেন না রংপুর আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এই জঘন্য ও নির্মম ঘটনা অত্যন্ত নিকৃষ্টতম। এই নৃশংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আইনজীবী সমিতি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো আইনজীবী অভিযুক্ত আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াবেন না। বরং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

আইনজীবী সমিতির নেতারা জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই তারা সরকারি আইনজীবী এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ দ্রুততম সময়ে দুই আসামিকে আটক করে এবং লুণ্ঠিত অলঙ্কার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্তরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করে আইনজীবী সমিতি। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়িয়ে সত্য তথ্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব এবং অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নেপাল ট্রাজেডি

টানেলে আটকা বহু মানুষ, কাদায় মুখ বন্ধ থাকায় দু’দিনেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


টানেলে আটকা বহু মানুষ, কাদায় মুখ বন্ধ থাকায় দু’দিনেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি

নেপালের ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতরে আকস্মিক বন্যার কারণে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধার করার জন্য অভিযানকে আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে, টানা দু’দিন ধরে চলা উদ্ধার কার্যক্রমের পরেও এখনও তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকাল থেকে টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভেতরে পৌঁছানোর কাজকে আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

মানুষ আটকে পড়ার খবর পাওয়ার পরপরই সরকার টানেলের প্রবেশপথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

টানেলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর ৬২ জন সদস্য, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশের ২০ জন সদস্যসহ মোট ৮২ জনের একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল শুক্রবার রাত থেকে সেখানে কাজ করে চলেছে। তবে, ওই এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, সহায়তার জন্য ভারতে থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী দল ত্রিশূলীতে পৌঁছেছে। দলটি প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী উদ্ধার অভিযান শুরুর আগে হেলিকপ্টারে করে চিলিম ও লাংটাং এলাকায় প্রাথমিক আকাশপথে পর্যবেক্ষণ চালানোর পরিকল্পনা করেছে। সূত্র: নেপাল নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমধ্যসাগরের সেই নৌযানে ছিলেন রবিন? ২৫ দিনেও মেলেনি নিশ্চিত কোনো উত্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


ভূমধ্যসাগরের সেই নৌযানে ছিলেন রবিন? ২৫ দিনেও মেলেনি নিশ্চিত কোনো উত্তর

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন নরসিংদীর রায়পুরার রবিন মিয়া। লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা করা একটি নৌযানে তিনি ছিলেন—এমন তথ্যই পেয়েছে তার পরিবার। কিন্তু ওই নৌযানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর কেটে গেছে ২৫ দিন। এখনো রবিনের কোনো সন্ধান মেলেনি।

রবিন জীবিত আছেন, নাকি ভূমধ্যসাগরের উত্তাল জলরাশিতে হারিয়ে গেছেন—কোনোটিই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না তার পরিবার।

পরিবারের দাবি, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ওই নৌযানে রবিনসহ ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। ভূমধ্যসাগরের মাঝপথে নৌযানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে খাবার ও পানি ছাড়াই প্রায় ১১ দিন সাগরে ভাসতে হয় তাদের। পরে ১৩ আগস্ট নৌযানটি মিশরের মার্সা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়।

ওই নৌযানে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আব্দুল করিম নামে এক অভিবাসনপ্রত্যাশী একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন। তার দাবি, নিহতদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি।

করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটিতে ৪২ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাদের ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও রবিন মিয়ার অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

‘ভাই ওই নৌযানেই ছিল’

রবিনের বোন মাহমুদা আরটিভিকে জানান, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, গত ৩ আগস্ট দুর্ঘটনার কবলে পড়া নৌযানটিতে তার ভাই রবিনও ছিলেন। পরে নৌযানটি মিশরের মার্সা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানোর খবর পাওয়ার পর পরিবারের আশা ছিল, রবিন হয়তো জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

কিন্তু সেই আশারও এখন কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই।

মাহমুদা বলেন, মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাসপাতাল, কারাগার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো রবিনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য তারা পাননি।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুসাপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিন মিয়া। তার বাবা জলিল মিয়া ও মা শোফালা বেগম। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।

দালালের হাত ধরে লিবিয়ায়

পরিবারের ভাষ্য, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবিন। এ জন্য স্থানীয় দালালচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, তাদের এলাকার রাজীব নামের এক দালালের মাধ্যমে রবিনকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে আলম নামের আরেক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মাহমুদার ভাষ্য, লিবিয়ায় থাকা আলমের কাছ থেকেই পরে তারা জানতে পারেন, ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ওই নৌযানে রবিন ছিলেন।

তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে বা সরকারি কোনো সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসেও ই-মেইল করা হয়েছে বলে জানান মাহমুদা।

৩ আগস্ট থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পরিবারের দাবি, ৩ আগস্ট নৌযাত্রা শুরুর পর থেকেই রবিনের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। একদিন, দুদিন করে পেরিয়ে যায় সপ্তাহ। কিন্তু রবিনের কোনো ফোন আসে না। তার অবস্থান সম্পর্কেও পাওয়া যায়নি নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য।

এর মধ্যে বিভিন্ন দালাল ও পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে পরিবারের কাছে আসতে থাকে নানা ধরনের খবর। কেউ জানান, দুর্ঘটনার পর কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের মিশরে আটক রাখা হয়েছে। আবার উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনের আত্মীয়ও রয়েছেন বলে পরিবারকে জানানো হয়।

কিন্তু মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়া উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি ও তালিকা দেখে কিংবা মার্সা মাতরুহ পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে রবিনের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবার।

‘হাসপাতালের কর্মী’ পরিচয়ে ফোন

রবিনের সন্ধান নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় রামিম খান নামের এক ব্যক্তির ফোনে।

মাহমুদার দাবি, ওই ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে মিশরের একটি হাসপাতালের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, রবিন মিয়াকে মিশরের তোরা কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অর্থের বিনিময়ে রবিনকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।

মাহমুদা বলেন, আমি তাকে বলেছি, আমার ভাইকে জেল থেকে বের করে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দিতে পারলে আপনাকে টাকা দেব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি তাঁর কথা রাখতে পারেননি।

মাহমুদার দেওয়া রামিম খানের নম্বরে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে রবিন সত্যিই তোরা কারাগারে রয়েছেন কি না, সেই দাবিরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে রবিনের সন্ধানে তার ছবি ও পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পরিবার। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও দালালচক্রের কয়েকজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, রবিন জীবিত এবং মিশরের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

এমন খবরে একদিকে পরিবারের মধ্যে আশার আলো জ্বলে ওঠে, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সেই আশাই আবার পরিণত হয় হতাশায়।

একেকজনের কাছে একেক তথ্য

রবিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের কাছে আসছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। কেউ বলছেন তিনি জীবিত। কেউ বলছেন মিশরের কারাগারে আটক। আবার কেউ কেউ এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন, দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ফলে পরিবারটি এখন চরম বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

একদিকে দালালকে দেওয়া বিপুল অর্থের ঋণ, অন্যদিকে ছেলের কোনো নিশ্চিত সন্ধান না পাওয়ার যন্ত্রণা—দুই দিক থেকেই বিপর্যস্ত পরিবারটি।

রবিনের বাবা জলিল মিয়া বর্তমানে শয্যাশায়ী। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর মা শোফালা বেগমও শোক ও দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

রবিন জীবিত থাকলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার। আর যদি তিনি দুর্ঘটনায় মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে সরকারি ও নির্ভরযোগ্যভাবে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছে তারা।

দালালচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

রবিনকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় এবং পরে ইউরোপে পাঠানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজীব এবং লিবিয়ায় থাকা আলমের মাধ্যমে রবিনের বিদেশযাত্রার পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

‘আমরা গুজব চাই না, নিশ্চিত খবর চাই’

মাহমুদা জানান, প্রতিদিনই পরিবারের কাছে নতুন কোনো খবর আসে—কখনো আশার, কখনো হতাশার। কিন্তু কোনো খবরই এখন পর্যন্ত তাদের কাছে রবিনের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তারা আর গুজব, অনুমান কিংবা দালালদের পরস্পরবিরোধী কথা শুনতে চান না। তারা শুধু রবিনের প্রকৃত পরিণতি সম্পর্কে একটি নিশ্চিত খবর চান।

রবিন জীবিত থাকলে তাকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আর যদি তিনি না থাকেন, তাহলে অন্তত তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারকে জানানো হোক।

কারণ, প্রিয়জন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করে থাকা যে কতটা নির্মম, রবিনের পরিবার এখন তারই সাক্ষী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


ইউক্রেনে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া গড়ে প্রতি মাসে ছয় হাজার সেনা হারাচ্ছে। এই তথ্যটি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তা বলছে, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন এক হাজার নতুন সেনা নিয়োগ হচ্ছে; এই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা নিয়োগ হচ্ছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ফ্রন্টে প্রতি মাসে গড়ে ৩৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে রুশ বাহিনী। এর মানে, প্রতি মাসে তাদের ছয় হাজার সেনার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।”

সেনা ঘাটতির এই ঘটনা প্রায় প্রতি মাসেই ঘটতে থাকায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন উভয়েই অস্থিরতায় ভুগছেন, এমন দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।

গার্ডিয়ানকে তিনি আরও বলেছেন, “এই সেনা ঘাটতির কারণে পুতিন ক্রমাগত অস্থির হয়ে উঠছেন এবং ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ও নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। জুলাই মাসের শুরু থেকে তিনি ইউক্রেনে ৩৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছেন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিকে কাজে লাগাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট যে, মস্কো এই শীতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটির মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করতে চায়।”

“এই ধরনের কৌশলের একটি কারণ হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে হওয়া বিপুল ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আরও সৈন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে পুতিনের হাতে বিকল্প সীমিত।”

সূত্র :

দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন পুতিন-শি জিনপিং, যোগ দেবেন পেজেকশিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন পুতিন-শি জিনপিং, যোগ দেবেন পেজেকশিয়ান

কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের শি জিনপিং। তারা একটি শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে চাওয়া আঞ্চলিক জোটের দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে ইরান ও ভারতের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় এক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান সমবেত হবেন। এই জোটের সদস্য দেশগুলোতে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ এবং মস্কোর মিত্র বেলারুশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুতিন ও জিনপিং অতীতে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনগুলোকে বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। এই সম্মেলনটি মস্কোর ইউক্রেন আগ্রাসনের সাড়ে চার বছর এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

কিরগিজ নেতা সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, শি ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি ভারতের নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিনের চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর তালিকায় থাকা রাশিয়া ও ইরান ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে মস্কো ও বেইজিংকে সতর্ক করেছেন।

সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কোতে আকস্মিক সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই পুতিন ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকের বিষয়টি সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি রুশ সমকক্ষদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে এসসিও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে এটি নতুন গতি পেয়েছে।

বর্তমানে এসসিওর ১০ জন সদস্য ছাড়াও তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ ১৫টি সংলাপ সহযোগী দেশ যুক্ত রয়েছে। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসসিওর প্রতিষ্ঠাতা ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীটি অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো জোট নয়। তবে পুতিন ও শি উভয়েই এর শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে বারবার পশ্চিমা-বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

গত বছরের সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে শি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ভীতি প্রদর্শনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছিলেন। বিশকেক শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন এসসিও-র কিছু সদস্য রাষ্ট্র বাস্তব যুদ্ধ মূলত চীন, ভারত, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন এর জবাবে বলেছে, তারা নিজেদের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামি কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা আসার সময় থেকেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরান নিয়মিতভাবে বলে আসছে, তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তবে পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, তার দেশ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপি-কে বলেছেন, তেহরান বিশ্বাস করে এই জোটগুলোতে সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সক্ষম হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠী থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। কারণ সংকটের সময়ে তেহরানকে তার সমস্যা সমাধানে এই জোটগুলো খুব কমই সহায়তা করেছে।

যদিও এই জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে, তবে এর সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং জোটটি বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। অন্যদিকে মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য রাশিয়া ও চীন একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যে অঞ্চলটি সম্পদসমৃদ্ধ এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক মাঝেমধ্যে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ জটিল অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র: এএফপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%