শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৯ পি.এম
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা বেড়ে গেছে, যাত্রার সময়ও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টিকিটের দামও চড়া হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তেহরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সরাসরি যেতে তিন ঘণ্টারও কম সময় লাগত। তবে, এখন একই যাত্রায় সময় লাগছে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ডলারের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের বিমান সংস্থাগুলো এবং তাদের সেবা প্রদানকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়া বন্ধ করার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়ে ওঠে। এর ফলে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচলও বিঘ্নিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বিশ্বের যোগাযোগ সীমিত করতে দেশটির আকাশপথে যাতায়াতের সুযোগ সংকুচিত করার চেষ্টা করছে। আগস্ট মাসে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করে ওয়াশিংটন। এর উদ্দেশ্য ছিল বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ইরানের অবশিষ্ট খাতগুলোকে চাপের মধ্যে রাখা।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২৭টি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং উড়োজাহাজের ভূমিতে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ হারাতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব প্রথম স্পষ্ট হয় ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন তেহরান থেকে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের উদ্দেশে যাওয়া একটি ইরানি ফ্লাইটকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়। তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় উড়োজাহাজটি তেহরানে ফিরে আসে।
এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান এবং জর্জিয়া ইরানি ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ইরান থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাট এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেশী তুরস্কগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের জনপ্রিয় তীর্থস্থান ইরাকের নাজাফগামী ফ্লাইট চলাচলও সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।
এসব ঘটনার সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আগে থেকেই ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত ছিল। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এখনো ইরানে তাদের ফ্লাইট চালু করেনি।
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও চীন ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটগুলো পুনরায় চালু করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ২০ শতাংশ বন্ধ
নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পরও মস্কো, নাজাফ, ইস্তাম্বুল, ইয়েরেভান এবং চীনের গুয়াংজুসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল করছে। তবে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগব্যবস্থা এখনো মারাত্মকভাবে সীমিত।
এর ফলে ইরানে যাওয়া এবং দেশটি থেকে বাইরে আসা—উভয় ধরনের যাত্রীর ওপর প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ বিলম্ব, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল এবং কখনো কখনো উড়োজাহাজকে যাত্রার স্থানেই ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী ৪৩ বছর বয়সী আমির তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য ইরান যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁর মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, কিন্তু তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র ইরানে রয়েছে। যুদ্ধ এবং এর কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরে তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎ পিছিয়ে গেছে।
আমির বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা পরিস্থিতির আপেক্ষিক শান্তিকে কাজে লাগিয়ে ইরানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে মা চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু এরপরই নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে। এতে কার্যত ইরানে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।’
এখন ইরানে যেতে হলে প্রথমে ইস্তাম্বুলে যেতে হচ্ছে। সেখানে ইরানগামী ফ্লাইটের জন্য কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের বাইরে থেকে ইরানি বিমান সংস্থার টিকিট কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমিরের ভাষায়, ‘অসুস্থ একজন নারীর একা এভাবে ভ্রমণ করা অত্যন্ত চাপের। এটা সম্পূর্ণ অন্যায্য।’
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ খাতেও।
দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন টিকিট ও আবাসন বুকিং প্ল্যাটফর্ম আলিবাবা ট্রাভেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মাজিদ হোসেইনি-নেজাদ আল-জাজিরাকে বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে টিকিট বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে চলাচলকারী প্রায় ২০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিমান টিকিট বুকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান সংস্থাগুলোর আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।’
গত ১১ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অন্য দেশের গন্তব্যে ইরানি ফ্লাইট চলাচল সহজ করতে তাদের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যাত্রার সময় ও খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরান থেকে যাওয়া-আসার ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব ও শেষ মুহূর্তে বাতিলের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উড়োজাহাজকে যাত্রার স্থানেই ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।
কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত ইরান ও ওমানের মধ্যে যাতায়াত করেন আরেক ইরানি নাগরিক আমির। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ফ্লাইট বাতিল তাঁদের জীবনে নতুন ভোগান্তি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ‘এখন মাসকাট ও তেহরানের মধ্যে প্রতিটি যাত্রায় আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে এবং খরচও কয়েক গুণ বেড়েছে।’
পরিস্থিতি কবে বদলাবে, কিংবা আদৌ উন্নতি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ৬৫টি পূজামণ্ডপে অনুদান প্রদান করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শিবগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে তিনি দুই উপজেলার পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে নিজস্ব তহবিল থেকে এ অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের অতি আপনজন। তিনি বলেন, "তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করে না।" তিনি আরও বলেন, "গত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তারেক রহমান ও ধানের শীষের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন। বিএনপিও প্রমাণ করেছে, আমরাও আপনাদেরই মানুষ। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করে।"
মীর শাহে আলম আরও জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, "সরকারিভাবে প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে চালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে হিন্দু নারীদের জন্য শাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরাও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বিরোধীদলের সমালোচনা করতে গিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, "১১ দলীয় জোট বেহেশতের লোভ দেখিয়ে মানুষের ভোট নিয়ে এখন বিরোধী দলের আসনে বসে দায়িত্বহীন আচরণ করছে।" তিনি বলেন, "ভঙ্গুর অর্থনীতির পরিস্থিতিতে বিএনপি জনগণের সরকার হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।" সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস, এরই মধ্যে বিরোধী দলের একদফা দাবির কথা বলা হাস্যকর বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) বিষ্ণুপদ পাল, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিক এবং সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা পতাকা মিছিলের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) এই কর্মসূচির জন্য নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এবং রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বিক্ষোভ প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞাও জারি রয়েছে। খবর এনডিটিভির।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই মিছিলের আয়োজন করেছে সিজেপি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতেও এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে আর নির্ধারিত না রাখায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরা এবং আম আদমি পার্টির (আপ) সদস্যদেরও এতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিছিলের আগে সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েত না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে শুক্রবার ও শনিবার পার্কটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। পরিকল্পিত বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও নয়াদিল্লি জেলার উপকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত মেট্রো পরিষেবা বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিকে শেষ বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপকমিশনার নেহা যাদব জানান, শান্তি বজায় রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ও মানুষের জীবন রক্ষায় কনট প্লেসসহ আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য নির্বাচিত কয়েকজনকে উপযুক্ত কোনো স্থানে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, আগে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশপথে নতুন ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের ১ ও ৩ নম্বর গেটেও অতিরিক্ত ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউক্রেন সামরিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিএনএনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রটির মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ছোড়া অধিকাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় কিয়েভে চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
প্যাট্রিয়ট ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এটি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চমূল্য এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মজুত গড়ে তোলার কাজকে কঠিন করে তুলেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গত আগস্টে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনের তুলনায় ইউক্রেনের হাতে তখন খুব অল্পসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তিনি ঘাটতি পূরণে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে হচ্ছে বলেও জানান।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি না দেওয়ায় উদ্যোগটি আর এগোয়নি।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন। তিনি বলেন, "শক্তি প্রয়োগ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আগ্রাসী পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।"
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে। জেলেনস্কির যুক্তি, "রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করার দাবি ন্যায্য হতে পারে না।"
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে হবে।
এদিকে, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র কেনার ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউরোপের দুই কর্মকর্তা। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ হয়নি।
ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারশিল্ড নিয়েও সমস্যায় পড়েছে ইউক্রেন। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত এই স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতার কারণে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান, রসদ পরিবহন এবং ড্রোন পরিচালনার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্টারশিল্ডের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্বাভাবিক হলেও সব সমস্যা মেটেনি। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন স্টারশিল্ডের ব্যবহার বা গতি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
সিএনএনকে ইউক্রেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্টারলিংকের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বুধবার তাঁদের ইউনিটের কিছু আক্রমণকারী ড্রোন নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা—এই সব মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষি উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিকর খাবারে সকলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস।
এ বছরের জন্য দিবসটির বৈশ্বিক থিম নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ইনোভেইট টুডে, নারিশ টুমরো’ (আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি)।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, প্রথাগত জ্ঞানের সঙ্গে উদ্ভাবনী সমাধানের সমন্বয় ঘটিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব, পাশাপাশি পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা যায়।
দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়, এফএও এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
সেমিনারে খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টির উন্নয়নে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, কৃষক প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
দেশে খাদ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে চলমান চাপের মধ্যেই এবারের দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এফএও’র সেপ্টেম্বরের কান্ট্রি ব্রিফে, ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) এক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ চরম বা তার চেয়েও ভয়াবহ মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে।
পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কিছু এলাকায় বন্যার কারণে জীবিকার ওপর সৃষ্ট ক্ষতিকে পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই মূল্যায়নে।
এদিকে, বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না।
খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ব্যবহারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারকে আরও সহজলভ্য করতে বৃহত্তর বিনিয়োগ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ