ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাকিমপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ চারজন গুরুতর আহত


হাকিমপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ চারজন গুরুতর আহত

দিনাজপুরের হাকিমপুরে (হিলি) ভটভটি ও চার্জার অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হিলি-বিরামপুর সড়কের ধরন্দা ফকিরপাড়া মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় এলাকার শামসুদ্দিন (৬০), নবাবগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেহেনা বেগম (৩৮) ও তাঁর স্বামী মোখলেছার রহমান (৪৮) এবং বিরামপুরের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হিলি বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে একটি চার্জার অটোরিকশা দলারদরগার দিকে যাচ্ছিল। পথে ধরন্দা ফকিরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিরামপুর থেকে আসা একটি ভটভটির সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চারজন আহত হন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের নতুন সুপার নিশাত এঞ্জেলা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সাদ বিন রফিক তোহা জানান, দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় জড়িত ভটভটিটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিখনঘাটতি পূরণের কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন, পুনঃপরীক্ষা নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


শিখনঘাটতি পূরণের কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন, পুনঃপরীক্ষা নয়

এসএসসির ফল প্রকাশের পর, ছেলেটি বিদ্যালয়ের মাঠে অনেকক্ষণ বসে ছিল। বন্ধুরা কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু তার সামনে যেন সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের প্রত্যাশা, স্বজনদের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাকে বিচলিত করে তুলেছে। বাড়ি ফিরে মা যখন জানতে চাইলেন, ‘এখন কী হবে?’ তখন ছেলেটির কাছে কোনো উত্তর ছিল না।

কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ—অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে কি দ্রুত আবার পরীক্ষায় বসানো হবে, নাকি তার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে? এটি শুধুমাত্র পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণের প্রশ্ন।

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষাব্যবস্থার পরস্পরপরিপূরক দুটি অংশ। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখান, অনুশীলনের সুযোগ দেন এবং ভুল সংশোধনে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, পাবলিক পরীক্ষা নির্ধারিত শিক্ষাস্তরের শেষে তাদের অর্জন ও পরবর্তী স্তরের জন্য প্রস্তুতি যাচাই করে।

পাবলিক পরীক্ষা প্রয়োজনীয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা এবং সনদের গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করা যায়। তবে পরীক্ষা শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়; এটি শিক্ষার্থীর শিখন-অর্জন যাচাইয়ের একটি মাধ্যম। শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হলো জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করা।

অতএব, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানে শিক্ষার্থী নির্ধারিত মূল্যায়নমান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফল অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু এ থেকে তাকে মেধাহীন কিংবা ভবিষ্যতে সফল হওয়ার অযোগ্য বলা যায় না। বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, অনিয়মিত উপস্থিতি, পারিবারিক দারিদ্র্য, অসুস্থতা, পরীক্ষাভীতি কিংবা শিক্ষার অনুপযুক্ত পরিবেশ তার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার শিক্ষকস্বল্পতা, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও পাঠদানের দুর্বলতাও বিবেচনার দাবি রাখে।

একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে দুর্বল হতে পারে, অন্য কেউ একটি বিষয়ে সামান্য নম্বরের জন্য অকৃতকার্য হতে পারে। সুতরাং সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে—এমন ধারণা যুক্তিসংগত নয়।

বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোথাও সম্পূরক পরীক্ষা, কোথাও অতিরিক্ত পাঠদান, আবার কোথাও নির্দিষ্ট কোর্স পুনরায় সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (CBSE) ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্তে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্কুল ডিস্ট্রিক্টে সামার স্কুল, অতিরিক্ত পাঠদান কিংবা প্রয়োজনীয় কোর্স পুনরায় সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। কানাডার অন্টারিওতে ক্রেডিট পুনরুদ্ধার ও সামার স্কুলের মতো সুযোগও রয়েছে। ফ্রান্সের ব্যাকালরেয়া পরীক্ষায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের মৌখিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ফল উন্নত করার সুযোগ দেওয়া হয়।

এসব ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিক রয়েছে: অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো নয় বা তিন মাস পর পুনরায় পরীক্ষার আয়োজন সবকিছুর সমাধান নয়, শিক্ষার্থীর অসম্পূর্ণ শিখন-অর্জন পূরণ করাও শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় তাই অন্য দেশের কোনো একটি পদ্ধতি হুবহু অনুসরণ না করে তার কার্যকর উপাদানগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ধরা যাক, এসএসসির ফল প্রকাশের পর সরকার ঘোষণা করল, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষায় বসবে। এতে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। শিক্ষার্থী ও পরিবারও দ্রুত অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করবে।

কিন্তু এই তিন মাসে শিক্ষার্থীরা কী করবে? তাদের কি নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক ক্লাস হবে? দুর্বলতা শনাক্ত করে শিক্ষক কি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন? নাকি শুধু পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে নিজে নিজে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে?

যে শিক্ষার্থী গণিতের বীজগণিত বোঝেনি, ইংরেজিতে বাক্য গঠনে দুর্বল কিংবা বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা আয়ত্ত করতে পারেনি, তার সমস্যা শুধু নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় দূর হবে না। এর জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত পাঠদান, অনুশীলন এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন।

অবশ্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বা সামান্য নম্বরের জন্য অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দ্রুত পুনঃপরীক্ষা কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সবার শিখনঘাটতি এক রকম নয়। তাই পাঠদান ছাড়া পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করলে পাসের হার কতটা বাড়বে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফল ভালো হলেও প্রকৃত দক্ষতা সমানভাবে বাড়বে কি না, তা বিবেচনা করা।

শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং তাকে উত্তীর্ণ হওয়ার উপযুক্ত করে তোলা এক বিষয় নয়। পুনঃপরীক্ষার সুযোগ কার্যকর করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রতিকারমূলক শিক্ষা (Remedial Education)।

প্রথমে ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিষয়ভিত্তিক শিখনঘাটতি শনাক্ত করতে হবে। এরপর ছোট দলে পাঠদান, দুর্বল অধ্যায়ে অতিরিক্ত অনুশীলন, নিয়মিত ছোট পরীক্ষা, শিক্ষকের ব্যক্তিগত পরামর্শ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে ডিজিটাল উপকরণ, অনুশীলনপত্র ও সহপাঠীভিত্তিক শেখার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন শিক্ষার্থী কোন ধারণাটি বুঝতে পারেনি, তা শনাক্ত করে পাঠদান সাজাতে হবে। শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, অনুশীলন ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করলে তার জন্য পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।

তিন মাস সময়কে তাই কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট শিখনঘাটতি পূরণের নিবিড় শিক্ষণকাল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করানোও সব ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান নয়। কোনো শিক্ষার্থী এক বা দুটি বিষয়ে দুর্বল হলেও অন্য বিষয়ে সন্তোষজনক ফল করলে তাকে সব বিষয়ে আবার পড়তে বাধ্য করা অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। তার জন্য বিষয়ভিত্তিক পুনঃপরীক্ষা ও অতিরিক্ত ক্লাস যথেষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে, একাধিক বিষয়ে গভীর দুর্বলতা থাকলে কিংবা পরবর্তী শিক্ষাস্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী বছরের নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু নতুন ব্যাচের সঙ্গে বসিয়ে দিলেই শিখনঘাটতি দূর হবে না; প্রয়োজন আলাদা শিখন-পরিকল্পনা ও নিয়মিত মূল্যায়ন।

আবার এক বছর অপেক্ষার কারণে হতাশা, আর্থিক সংকট কিংবা কর্মজীবনে প্রবেশের চাপে কেউ পড়াশোনা ছেড়ে দিতে পারে। তাই শিক্ষার্থীর প্রয়োজন, পারিবারিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার সুযোগ বিবেচনায় নিতে হবে।

মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, আবার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন না করেই পরবর্তী স্তরে পাঠানোও নয়। শিক্ষার্থীর শিখনঘাটতি অনুযায়ী দ্রুত সম্পূরক পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পাঠদানের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই অধিকতর যুক্তিসংগত।

মূলত: বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা

প্রথমত, ফল প্রকাশের পর বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের তথ্য বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা শনাক্ত করতে হবে। যাদের শিখনঘাটতি সীমিত, তাদের পরিকল্পিত পাঠদান ও প্রস্তুতি যাচাইয়ের পর সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। যাদের দুর্বলতা ব্যাপক, তাদের জন্য নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ সহায়তা ও পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্য উপকরণ, অতিরিক্ত ক্লাস, প্রয়োজনীয় যাতায়াত সহায়তা ও কাউন্সেলিং দিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু দারিদ্র্য বা পারিবারিক সংকটের কারণে শিক্ষার বাইরে চলে না যায়।

তৃতীয়ত, শিক্ষকদের দায়িত্ব, পাঠপরিকল্পনা, উপস্থিতি, মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিকারমূলক শিক্ষা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।

চতুর্থত, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মানসম্মত সুযোগ তৈরি করতে হবে। এগুলোকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নমানের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপথ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

পঞ্চমত, নির্বাচিত কিছু অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালু করে তার ফল মূল্যায়ন করা যেতে পারে। কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত অংশ নিল, কতজনের শিখনঘাটতি পূরণ হলো, কতজন পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো এবং পরবর্তী শিক্ষাস্তরে কতজন টিকে থাকল—এসব তথ্যের ভিত্তিতে কর্মসূচির কার্যকারিতা নির্ধারণ করে সফল উদ্যোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করা উচিত।

একজন শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া মানবিকতা। কিন্তু শেখার সুযোগ না দিয়ে শুধু দ্বিতীয়বার পরীক্ষার হলে পাঠানো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি হতে পারে কী? আবার প্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়া তাকে এক বছর পিছিয়ে দেওয়াও দূরদর্শী সমাধান হতে পারে না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা আয়োজন করা নয়; শিক্ষার্থীর দুর্বলতা শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় পাঠদান নিশ্চিত করা এবং তার শিখনঘাটতি পূরণের বাস্তব সুযোগ তৈরি করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার মান যাচাই করবে, আর শিক্ষাব্যবস্থার মান প্রকাশ পাবে ব্যর্থতার পর একজন শিক্ষার্থীকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্য দিয়েও।

বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে পাবলিক পরীক্ষার নীতি, কৌশল ও লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে দ্রুত পাস করানো নয়, বরং তাকে এমনভাবে শেখানো, যাতে সে পরবর্তী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি জীবনের পরবর্তী ধাপের জন্যও জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে। কারণ পরীক্ষায় পাস করা সাফল্যের একটি ধাপ; কিন্তু শেখার সক্ষমতা অর্জনই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু প্রশিক্ষণ নয়, নারীর আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সচেতনতাও জরুরি: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


শুধু প্রশিক্ষণ নয়, নারীর আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সচেতনতাও জরুরি: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেছেন, নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না। নারীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের ক্ষমতায়নে তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। যদি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা যায়, তাহলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে না দেখে বরং ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও অপরিহার্য।

যোগাযোগদক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, নারীদের জন্য তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা অন্যের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন নারী তার কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে যোগাযোগদক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লৌহজংয়ে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ধস, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


লৌহজংয়ে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ধস, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ ধসে পড়ার ফলে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় কিছু লোক তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে পশ্চিম গাঁওদিয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইদ্রিস বেপারীর বাড়ির সামনে নদীর তীর ভাঙছে। তীর রক্ষা বাঁধের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ধসে পড়ার ফলে ভাঙন শুরু হয়েছে। অসময়ে ভাঙন দেখা দেয়ায় নদীপাড়ের বসতবাড়ি ও জমিজমা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার সকালে হঠাৎ নদীর তলদেশে ভাঙন শুরু হয়। এরপর থেকে তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ ধসে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে নদীতীরবর্তী প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও জমিজমা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার বাসিন্দা সোরহাব ও আলাউদ্দিন জানান, হঠাৎ পদ্মার তীব্র স্রোতে নদীর পাড়ের জিও ব্যাগ ধসে পড়তে শুরু করেছে। তারা চোখের সামনে জমি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তাদের ভিটেমাটি হারাতে হবে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গাঁওদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তোবারক ঢালী বলেন, নদীর তলদেশ দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে জিও ব্যাগ ধসে পড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু অংশ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি ও জমিজমা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খবর পেয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা তাদের সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুল গান্ধীর আহ্বান, ‘জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম হারাম’ রাজসাক্ষী হতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


রাহুল গান্ধীর আহ্বান, ‘জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম হারাম’ রাজসাক্ষী হতে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার দুপুরে দিল্লির কংগ্রেস দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন যে, দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভয়ের কারণে রাতে ঘুমোতে পারছেন না।

রাহুল বলেন, "জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে আছেন। রাতে ঘুমোতে পারছেন না।"

ভারতের সিইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা। আপনি (জ্ঞানেশ) অপরাধ করেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করছেন। কিন্তু এই ভুলের নেপথ্যে আপনার মস্তিষ্ক নেই। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।"

রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং শিল্পপতি গৌতম আদানি জ্ঞানেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%