মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৬ পি.এম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিতে গিয়ে মো. সেলিম মাঝি (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মৃত মো. সেলিম মাঝি ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ মিয়ার পুত্র।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিম মাঝি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের জন্য উপস্থিত হন। আলোচনা সভা চলাকালীন হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এদিকে সেলিম মাঝির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন হারুনুর রশিদ।
তিনি মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "আমরা তার পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করব।" সেলিম মাঝির মৃত্যুতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ, ১ সেপ্টেম্বরে, ২০২৬ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শহীদ জিয়া থেকে বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিক অবদান তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার মূল আকাক্সক্ষা ছিল গণতন্ত্র। সেই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার শাহাদাতের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারের হাত থেকে গণতন্ত্র উদ্ধার করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হলে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসে বসে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তিনি সকল রাজপথের দলকে এক ছাতার নিচে এনে ৩১ দফার ভিত্তিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা কারও কথায় কান দেব না এবং কারও পাতানো ফাঁদে পা বাড়াবো না।" তিনি উল্লেখ করেন, "শত ভাইয়ের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এ গণতন্ত্র ও সরকারের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হবে।" গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, "ভেতরে বা বাইরে যারা বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের বিএনপি নয়, এ দেশের জনগণই প্রতিহত করবে।"
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্টের ফ্যাসিবাদের পতনে বিএনপি নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই রাজপথে সর্বাত্মক ও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আন্দোলনের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঘোষণা করেন, "আন্দোলন-সংগ্রামে যারা পঙ্গু ও আহত হয়েছেন, বিএনপি সরকার তাদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও জীবন পুনর্বাসনে বদ্ধপরিকর।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী এমপি।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা নানা রকম প্লে-কার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষায় যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড প্রদান করবেন। সদ্য পাসকৃত ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এ সময় ড. মিলন উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী করার জন্যই তাদেরকে এই উপহার দেওয়া হবে। এটি একটি চমকপ্রদ উদ্যোগ। মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “দেখেন, আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটি গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ তাদেরকে দেওয়ার জন্য। এগুলো হচ্ছে শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা।”
ড. মিলন জানান, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে, যা আমাদের জন্য একটি জটিলতা। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাজেট অ্যালোকেশন হতে শুরু করে আমাদের প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক বিষয়গুলো কীভাবে ব্যবস্থা করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি এবারের বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করেছেন এবং এটিকে তিনি ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছেন। এই ধরনের শিক্ষায় বিনিয়োগ পূর্ববর্তী সরকার করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় সালিশ ব্যক্তিত্ব আব্দুল আহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ এজাহারভুক্ত আসামি অধরা রয়ে গেছে। ঘটনার দীর্ঘদিন পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত হুমকি ও বিচারহীনতার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের পরিবার।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও নৃশংসতার বিবরণ
নিহত আব্দুল আহাদ এলাকায় একজন সফল ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হাট-বাজার, নদী ইজারা এবং বালু-পাথরের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, অবৈধ কালোবাজারি ও চোরাচালানের প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করায় তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের তীব্র রোষানলে পড়েন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন (১৫ ডিসেম্বর) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলস জেলার চেল্লা থানার আওতাধীন একটি নির্জন এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে এনে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরিবারের তথ্যমতে, আব্দুল আহাদের মাথা, বুক, গলা, কোমর ও হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা টি-শার্ট, স্যান্ডেল, গ্যাস লাইট এবং ধস্তাধস্তির আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের অডিও বাদীপক্ষের হাতে আসে। পরিবারের দাবি, অডিওটির পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।
চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিদের পরিচয় অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ১ নম্বর আসামি আব্দুল আজিজ গং এলাকায় ভারতীয় গরু-মহিষের বিশাল সীমান্ত চোরাচালান ও 'কালো স্মাগলিং' রাজত্ব পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি ভারত থেকে গরু-মহিষ বাংলাদেশে এনে ব্যবসা করেন। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, "সরকারের রাজস্ব দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাই না, তাই রাজস্বও দিই না।" একজন হত্যা মামলার আসামির এমন খোলামেলা চোরাচালান ও কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা ও হুমকির মুখে পরিবার
মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিচয় প্রাপ্ত ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি হলেন:
১. আব্দুল আজিজ (৫৫), পিতা: মৃত আব্দুল গফুর, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর।
২. ইয়াকুব আলী (৪০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৩. কদ্দুছ আলী (৫০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৪. ফয়ছল আহমদ (৩৫), পিতা: আব্দুল আজিজ, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর।
৫. (তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে)
৬. নজরুল ইসলাম (৫০), পিতা: মৃত আতাউর রহমান, গ্রাম: দ্বীনেরটুক।
৭. আরিফুল ইসলাম (৩৫), পিতা: মৃত আমিনুল ইসলাম শাহা, গ্রাম: শ্রীপুর।
৮. ফখরুল আলম বাবলু (৩৫), পিতা: মৃত মুক্তার আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৯. আব্দুল আলী (৪৫), পিতা: মৃত ছাদ উল্লা, গ্রাম: তেরাপুর (হাতিরভাঙ্গা)।
১০. আরমান আলী (৩৫), পিতা: কদ্দুছ আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কয়েকজন জামিন নিয়ে বাইরে এসে মামলা তুলে নিতে অনবরত চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আসামিদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
গায়েব কাপড়ের আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে রহস্য
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আব্দুল আহাদের মরদেহ দেশে আনা হলে, তার পরনে জ্যাকেট, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট ও জুতা ছিল বলে জানান মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই আব্দুল কাইয়ুম ফারুক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমার ভাইয়ের পরনের সমস্ত কাপড় আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) কাছে হস্তান্তর করি এবং তিনি তা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত একটি কক্ষে সংরক্ষণ করে আমাদের দেখান। কিন্তু পরবর্তীতে সিআইডির কাছে মামলা হস্তান্তর ও চূড়ান্ত আলামত তালিকার সময় থানা পুলিশ সেই কাপড়ের তথ্য রহস্যজনকভাবে লুকিয়ে ফেলে এবং সিআইডির কাছে আলামত হিসেবে শুধুমাত্র একটি গেঞ্জি হস্তান্তর করে।"
এই বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, কাপড়ের বিস্তারিত তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) বলতে পারবেন। পরবর্তীতে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) শামসুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি এসআই জলিলের ওপর দায় চাপান। অন্যদিকে এসআই জলিল জানান, "আমি শুধু বিট অফিসার হিসেবে সাথে গিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী আইও এই আলামত উদ্ধার করবেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।"
একটি হত্যা মামলায় পরনের পোশাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত। সিসিটিভি ফুটেজ সমৃদ্ধ থানা হেফাজত থেকে আলামত উধাও হয়ে যাওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একের পর এক দায় এড়ানো বক্তব্য চরম দায়িত্বহীনতার শামিল। অনৈতিক লেনদেন বা অপশক্তির প্রভাবে আলামত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ ও সিআইডির প্রতি পরিবারের আকুতি
তদন্তের শ্লথগতি দেখে নিহতের ভাই মো. আ. কাইয়ুম ফারুক সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা কোনো বৈষম্য চাই না, কেবল আমার ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।"
বর্তমানে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তভার সিআইডির (CID) ওপর ন্যস্ত রয়েছে। আলামত উদ্ধার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে ৪টি মূল দাবি জানিয়েছেন:
* দ্রুত পদক্ষেপ: পলাতক ও চিহ্নিত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা।
* স্বচ্ছ তদন্ত ও ফুটেজ বিশ্লেষণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে উধাও হওয়া আলামত উদ্ধার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল।
* নিরাপত্তা প্রদান: মামলার বাদী, সাক্ষী ও ভভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
* দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: বিচারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অপরাধ এবং বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো অপরাধীকে সুরক্ষা বা অনুকম্পা দেওয়া হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘অপরাধী কেবলই অপরাধী। রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
আজ সিলেট সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সিলেটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, রাজনৈতিক পটভূমি যাই হোক না কেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন সিলেটের স্থানীয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও চোরাচালানিদের একটি ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরি করতে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হেনস্তার শিকার না হন, আবার দলীয় পরিচয়ের কারণে কোনো প্রকৃত অপরাধী যেন পার পেয়ে না যায়।
তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে এই নির্দেশনার দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আমরা পুলিশ বাহিনীতে ‘রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্ট নীতি চালু করেছি।
তিনি সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (এসএমপি) প্রবর্তিত ‘রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্ট নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্নিরীক্ষার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো পক্ষ মামলা করেছে-যা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের চর্চার কারণে আন্দোলনের প্রকৃত ভুক্তভোগী ও শহীদদের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করার সুযোগই পায়নি; অথচ অন্য এক রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা ঠুকে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল।
তাহলে সিলেট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকার সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী অহেতুক হয়রানির শিকার ও নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামির তালিকা থেকে অব্যাহতির (অব্যাহতি প্রদান) নির্দেশ দেন তিনি।
একই সাথে মামলা পুনর্নিরীক্ষাকালে যেকোনো ধরনের তদবির, আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন প্রকৃত অপরাধী ও হুকুমদাতারা রেহাই না পায়।
সিলেটে বালু ও পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আদালতের নির্দেশনা সমন্বয় করে প্রস্তুতকৃত কার্যবিবরণী অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি এ সংক্রান্ত আদালতের মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সাথে সমন্বয় রেখে দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সার্বিক তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
‘মব’ বা অরাজকতা সৃষ্টির অপসংস্কৃতি সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা ঘেরাও না করে প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্মারকলিপি প্রদান বা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মবের ঘটনা ৫০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে জানিয়ে তিনি সিলেট অঞ্চলকেও সম্পূর্ণ মবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে মাদকমুক্ত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের সাধারণ সেবনকারীদের পেছনে না ছুটে শীর্ষ অন্তত ৫০ জন মাদক কারবারির একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভৌগোলিক আয়তনে সর্ববৃহৎ মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকা হিসেবে এসএমপির লজিস্টিক সংকট দূরীকরণ, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত পুলিশি যানবাহন সরবরাহ করতে হবে।
এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি সাধারণ মানুষের উত্তরোত্তর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন-সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মালেক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান ও বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকী সাহা।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অপরাধ দমনে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অপরাধীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিক-নির্দেশনা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ