মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৭ পি.এম
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় সালিশ ব্যক্তিত্ব আব্দুল আহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট মাস অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ এজাহারভুক্ত আসামি অধরা রয়ে গেছে। ঘটনার দীর্ঘদিন পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত হুমকি ও বিচারহীনতার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের পরিবার।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও নৃশংসতার বিবরণ
নিহত আব্দুল আহাদ এলাকায় একজন সফল ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হাট-বাজার, নদী ইজারা এবং বালু-পাথরের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, অবৈধ কালোবাজারি ও চোরাচালানের প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করায় তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের তীব্র রোষানলে পড়েন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কয়েকজন ব্যক্তি কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন (১৫ ডিসেম্বর) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলস জেলার চেল্লা থানার আওতাধীন একটি নির্জন এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে এনে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরিবারের তথ্যমতে, আব্দুল আহাদের মাথা, বুক, গলা, কোমর ও হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা টি-শার্ট, স্যান্ডেল, গ্যাস লাইট এবং ধস্তাধস্তির আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের অডিও বাদীপক্ষের হাতে আসে। পরিবারের দাবি, অডিওটির পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে।
চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিদের পরিচয় অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ১ নম্বর আসামি আব্দুল আজিজ গং এলাকায় ভারতীয় গরু-মহিষের বিশাল সীমান্ত চোরাচালান ও 'কালো স্মাগলিং' রাজত্ব পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল আজিজ প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি ভারত থেকে গরু-মহিষ বাংলাদেশে এনে ব্যবসা করেন। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, "সরকারের রাজস্ব দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাই না, তাই রাজস্বও দিই না।" একজন হত্যা মামলার আসামির এমন খোলামেলা চোরাচালান ও কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা ও হুমকির মুখে পরিবার
মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিচয় প্রাপ্ত ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি হলেন:
১. আব্দুল আজিজ (৫৫), পিতা: মৃত আব্দুল গফুর, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর।
২. ইয়াকুব আলী (৪০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৩. কদ্দুছ আলী (৫০), পিতা: মৃত মমশ্বর আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৪. ফয়ছল আহমদ (৩৫), পিতা: আব্দুল আজিজ, গ্রাম: বিরেন্দ্রনগর।
৫. (তথ্য সংগৃহীত হচ্ছে)
৬. নজরুল ইসলাম (৫০), পিতা: মৃত আতাউর রহমান, গ্রাম: দ্বীনেরটুক।
৭. আরিফুল ইসলাম (৩৫), পিতা: মৃত আমিনুল ইসলাম শাহা, গ্রাম: শ্রীপুর।
৮. ফখরুল আলম বাবলু (৩৫), পিতা: মৃত মুক্তার আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
৯. আব্দুল আলী (৪৫), পিতা: মৃত ছাদ উল্লা, গ্রাম: তেরাপুর (হাতিরভাঙ্গা)।
১০. আরমান আলী (৩৫), পিতা: কদ্দুছ আলী, গ্রাম: শ্রীপুর।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কয়েকজন জামিন নিয়ে বাইরে এসে মামলা তুলে নিতে অনবরত চাপ সৃষ্টি করছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আসামিদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
গায়েব কাপড়ের আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে রহস্য
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত আব্দুল আহাদের মরদেহ দেশে আনা হলে, তার পরনে জ্যাকেট, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট ও জুতা ছিল বলে জানান মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই আব্দুল কাইয়ুম ফারুক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমার ভাইয়ের পরনের সমস্ত কাপড় আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তার (আইও) কাছে হস্তান্তর করি এবং তিনি তা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত একটি কক্ষে সংরক্ষণ করে আমাদের দেখান। কিন্তু পরবর্তীতে সিআইডির কাছে মামলা হস্তান্তর ও চূড়ান্ত আলামত তালিকার সময় থানা পুলিশ সেই কাপড়ের তথ্য রহস্যজনকভাবে লুকিয়ে ফেলে এবং সিআইডির কাছে আলামত হিসেবে শুধুমাত্র একটি গেঞ্জি হস্তান্তর করে।"
এই বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, কাপড়ের বিস্তারিত তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) বলতে পারবেন। পরবর্তীতে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) শামসুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি এসআই জলিলের ওপর দায় চাপান। অন্যদিকে এসআই জলিল জানান, "আমি শুধু বিট অফিসার হিসেবে সাথে গিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী আইও এই আলামত উদ্ধার করবেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।"
একটি হত্যা মামলায় পরনের পোশাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত। সিসিটিভি ফুটেজ সমৃদ্ধ থানা হেফাজত থেকে আলামত উধাও হয়ে যাওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একের পর এক দায় এড়ানো বক্তব্য চরম দায়িত্বহীনতার শামিল। অনৈতিক লেনদেন বা অপশক্তির প্রভাবে আলামত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ ও সিআইডির প্রতি পরিবারের আকুতি
তদন্তের শ্লথগতি দেখে নিহতের ভাই মো. আ. কাইয়ুম ফারুক সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা কোনো বৈষম্য চাই না, কেবল আমার ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।"
বর্তমানে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্তভার সিআইডির (CID) ওপর ন্যস্ত রয়েছে। আলামত উদ্ধার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে ৪টি মূল দাবি জানিয়েছেন:
* দ্রুত পদক্ষেপ: পলাতক ও চিহ্নিত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা।
* স্বচ্ছ তদন্ত ও ফুটেজ বিশ্লেষণ: সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে উধাও হওয়া আলামত উদ্ধার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আদালতে চার্জশিট দাখিল।
* নিরাপত্তা প্রদান: মামলার বাদী, সাক্ষী ও ভভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
* দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: বিচারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অপরাধ এবং বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো অপরাধীকে সুরক্ষা বা অনুকম্পা দেওয়া হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘অপরাধী কেবলই অপরাধী। রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
আজ সিলেট সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সিলেটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, রাজনৈতিক পটভূমি যাই হোক না কেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন সিলেটের স্থানীয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও চোরাচালানিদের একটি ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরি করতে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হেনস্তার শিকার না হন, আবার দলীয় পরিচয়ের কারণে কোনো প্রকৃত অপরাধী যেন পার পেয়ে না যায়।
তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে এই নির্দেশনার দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আমরা পুলিশ বাহিনীতে ‘রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্ট নীতি চালু করেছি।
তিনি সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে (এসএমপি) প্রবর্তিত ‘রিওয়ার্ড ও পানিশমেন্ট নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্নিরীক্ষার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো পক্ষ মামলা করেছে-যা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, ব্যবসায়ীদের হয়রানি বা অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের চর্চার কারণে আন্দোলনের প্রকৃত ভুক্তভোগী ও শহীদদের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করার সুযোগই পায়নি; অথচ অন্য এক রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা ঠুকে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল।
তাহলে সিলেট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকার সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী অহেতুক হয়রানির শিকার ও নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামির তালিকা থেকে অব্যাহতির (অব্যাহতি প্রদান) নির্দেশ দেন তিনি।
একই সাথে মামলা পুনর্নিরীক্ষাকালে যেকোনো ধরনের তদবির, আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার কঠোর হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন প্রকৃত অপরাধী ও হুকুমদাতারা রেহাই না পায়।
সিলেটে বালু ও পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় তৈরি হওয়া পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি কাজ করছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আদালতের নির্দেশনা সমন্বয় করে প্রস্তুতকৃত কার্যবিবরণী অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি এ সংক্রান্ত আদালতের মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সাথে সমন্বয় রেখে দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সার্বিক তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
‘মব’ বা অরাজকতা সৃষ্টির অপসংস্কৃতি সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা ঘেরাও না করে প্রচলিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্মারকলিপি প্রদান বা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে মবের ঘটনা ৫০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে জানিয়ে তিনি সিলেট অঞ্চলকেও সম্পূর্ণ মবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে মাদকমুক্ত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের সাধারণ সেবনকারীদের পেছনে না ছুটে শীর্ষ অন্তত ৫০ জন মাদক কারবারির একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভৌগোলিক আয়তনে সর্ববৃহৎ মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকা হিসেবে এসএমপির লজিস্টিক সংকট দূরীকরণ, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং পর্যাপ্ত পুলিশি যানবাহন সরবরাহ করতে হবে।
এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। তিনি সাধারণ মানুষের উত্তরোত্তর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে প্রতিটি পুলিশ ইউনিটকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন-সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মালেক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান ও বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকী সাহা।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অপরাধ দমনে পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অপরাধীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিক-নির্দেশনা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি উল্লেখ করেছেন, দেশের এবং দলের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র জনগণের সমর্থন নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের সৈনিকদের ঐক্যের কাছে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকবে না।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আয়োজনে আজ মঙ্গলবার নগরীর বাটার মোড়ে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠন এটি। এই দলকে নিয়ে চক্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না। বিএনপি সর্বদাই দেশ ও দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে কাজ করেছে এবং এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চরম নিপীড়ন চালিয়েও বিএনপিকে স্তব্ধ করা যায়নি; কারণ বিএনপি কখনো কারও কাছে মাথা নত করে না। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একের পর এক যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করছেন, যার প্রত্যক্ষ সুফল পাচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।” তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
সমাবেশে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সহ-সভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি এবং মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে ভূমিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (র্যালি) বের করা হয়, যা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাজ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনিই বাংলাদেশে প্রথম উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন, যা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান হলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠা না হলেও, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার সূচনা হয়েছিল। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তার আহ্বানে ছাত্র-জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে যখন দেশ আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কার সম্মুখীন হয়েছিল, তখন ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমান দেশকে সেই সংকট থেকে রক্ষা করেন। পরে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি গর্ববোধ করেন যে, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া তার জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একসময়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যখন বাংলাদেশ টিকে থাকবে কি না—তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে নানা আশঙ্কা ছিল।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান একটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার পররাষ্ট্রনীতিও ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ় করতে সক্ষম হন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, কৃষি, শিল্পসহ দেশের প্রায় প্রতিটি খাতে জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছোঁয়া লেগেছিল। তার সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায় এবং চাল রফতানি শুরু করে। দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য তার নেওয়া উদ্যোগগুলো আজও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী হিসেবে তার আদর্শ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা ও মায়ের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। দেশের মানুষ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিপাহসালার হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা তার সৈনিক হিসেবে আগামী দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ পুরো সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করব। সিলেটের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপির সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিক, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা কামাল উদ্দিনের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সভায় কেক কেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং জায়ান্ট কসকোর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ করেছে। শিপিং কোম্পানিটি বিভিন্ন দেশের উপকূলবর্তী সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য জাহাজে লুকানো উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার করছিল।
-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় শিপিং কোম্পানিটি দীর্ঘ সময় ধরে বেইজিংয়ের সাথে গোপন তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এই কার্যক্রমের আওতায় তারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়াজুড়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজ এবং বিমানের যোগাযোগ সংকেত গোপনে সংগ্রহ করে।
এক কর্মকর্তার মতে, কসকোর জাহাজগুলোতে বসানো অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের সামরিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং এনক্রিপশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও গোয়েন্দা সংকেত বেইজিংয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, এই গোপন কার্যক্রমের মাধ্যমে বেইজিং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট ও সমুদ্রসীমার ওপর নজরদারি করতে সক্ষম হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামরিক যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কসকোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি; তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে।
চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি চিনপিংয়ের একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নিরাপত্তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসকোর জাহাজগুলো ঠিক কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি।
তবে তারা জানিয়েছেন, এগুলো সাধারণ যোগাযোগের যন্ত্রাংশ নয়, বরং অত্যন্ত উন্নতমানের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম। কর্মকর্তারা আরও জানান, বেইজিং এই সংগৃহীত তথ্য বিভিন্ন আঞ্চলিক জলসীমার বিরোধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে, সমুদ্রের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং বিদেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পেতে ব্যবহার করে।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চীন সরকার কখনো কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তিকে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশ থেকে তথ্য বা গোয়েন্দা সংকেত সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয় না।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেন, ‘আমরা তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো ভিত্তিহীন গল্প ছড়িয়ে চীনকে বদনাম করার এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছি।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন কসকোকে চীনা সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
এর ফলে কোম্পানির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং মার্কিন সরকারের সাথে ব্যবসা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
চীনের আইন অনুযায়ী সব সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কাজে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবুও, কসকো এখনো মার্কিন বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলোর একটি। মার্কিন বন্দরগুলোতে কন্টেইনার সেবায় বেশ কয়েকটি যৌথ ব্যবসাও রয়েছে কোম্পানিটির।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ঝিমিয়ে পড়া জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে কসকোসহ চীনা শিপিং কোম্পানিগুলোর ওপর শত কোটি ডলারের বন্দর ফি বা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছিল।
তবে গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক বছরের জন্য বাণিজ্য যুদ্ধ স্থগিতের চুক্তি হওয়ার পর সেই পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে থামানো হয়। এই চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দুই নেতার আসন্ন বৈঠকে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ