০৯:৫৩ এম
শারদীয় দুর্গাপূজা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। বরিশাল জেলার ৫৯০টি পূজা মণ্ডপে এ বছরও শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা সারাদেশের মতোই।
তবে, একই মাঠে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান শারদীয় দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন প্রকাশ করছে। একপাশে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন, অন্যপাশে পূজারিরা পূজা অর্চনা করছেন। এই প্রার্থনার সুরে মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পৌঁছে দিচ্ছে।
বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামে অবস্থিত শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আরও পড়ুন: রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় রোসাটমের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর
সরেজমিনে দেখা যায়, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান। প্রতিবছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে ওই স্থানে। এই এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। বরং স্থানীয় মুসলিম নর-নারীরা প্রতিবেশীদের পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করে থাকেন।
স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছে। দুর্গাপূজার সময় মন্দির থেকে ভেসে আসে ঢাকঢোল, উলু ও শঙ্খধ্বনি। রাতভর চলে আরতি ও পূজা অর্চনা। তবে, মসজিদে আজান শুরু হলে নীরবতা বজায় রাখেন পূজারি ও ভক্তরা।
নামাজ শেষ হলে শুরু হয় আরতি
মন্দিরের পূজারি স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, "মসজিদে আজান শুরু হলেই আমরা পুরো অনুষ্ঠানের বিরতি দেই। নামাজ শেষে আবার আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখানে কেউ কারও জন্য বিরক্তির কারণ হননি কখনোই। বরং দুই ধর্মের অনুসারীরা আগলে রেখেছেন তাদের এই পবিত্র উপাসনালয়।"
আরও পড়ুন: জাপান থেকে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে সরানোর সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব
স্থানীয় সমাজসেবক মাকসুদ মৃধা বলেন, "এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এমনটিই করেছেন। ছোটোবেলা থেকেই আমরা পূজা দেখতে মণ্ডপে যাই। আবার ঈদে আমাদের অনুষ্ঠানে আসেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরা।"
মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস জানান, "১৯৭২ সালে আধুনা শেনের বাড়িতে সার্বজনীন দুর্গা মন্দির স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে একই মাঠে আধুনা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের মাত্র দশ ফুট দূরত্বে অবস্থিত জামে মসজিদে ইসলাম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করে আসছেন। আমরা মন্দিরে আমাদের ধর্ম পালন করে আসছি। মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি হলেও আমাদের কোনো সমস্যা হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এভাবেই ধরে রেখেছে তাদের সম্প্রীতির বন্ধন। এই বন্ধন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে।"
আধুনা শেন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, "এখানে ধর্ম নিয়ে কারও মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলেই হিন্দু ভাইয়েরা ঢাক-ঢোলের আওয়াজ বন্ধ রাখেন।"
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈর বাইপাসে যানজটের অবসান, মহাসড়কে ফিরেছে শৃঙ্খলা
আজান ও নামাজ শেষ হলেই আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। বছরের পর বছর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এখানে যে যার ধর্ম পালন করেন। কেউ কারও প্রতি বিন্দুমাত্র বিরক্তির কারণ হননি কখনও।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, "উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের একইস্থানে মসজিদ ও মন্দির দীর্ঘ বছর ধরে ওই এলাকায় সম্প্রীতির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। যা এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।"
তিনি বলেন, "আমরা এ রকম সমাজ ব্যবস্থাই চাই, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে।" সূত্র: বাসস
আরও পড়ুন: ইলিশ রক্ষায় যমুনায় অভিযান, ১২লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন