০৭:২৯ পি.এম
আজ (২৯ জুন) রাতে বিশ্বকাপ নকআউটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাপান মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিলের। পরিসংখ্যান, র্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে সবদিক থেকেই জাপানকে পিছনে ফেলে এগিয়ে আছে ব্রাজিল। তবে এশিয়ান পরাশক্তি জাপানও দারুণভাবে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দলটি দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছে।
সর্বশেষ যেখানে, জাপান ব্রাজিলকে হারিয়েছিল, সেই স্মৃতিটিও সামুরাই ব্লুদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে চলেছে। বেশ কয়েকটি কারণে জাপান ব্রাজিলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই বিষয়গুলো হলো-
১. হাজিমে মোরিয়াসুর ‘জায়ান্ট কিলিং’ ট্যাকটিক্স ও কাউন্টার অ্যাটাক
আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত
বর্তমানে জাপান বেশিরভাগ ম্যাচে যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলছে, তার স্থপতি কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। এই পরিকল্পনা অনুসারে, প্রতিপক্ষের বক্সে দ্রুততম সময়ে বল পৌঁছাতে চেষ্টা করেন জাপানি ফুটবলাররা, যদিও তাদের বল পজেশন কম থাকে। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই ব্যবস্থাপনায় জাপান অত্যন্ত সফল। সর্বশেষ বিশ্বকাপে জার্মানি এবং স্পেনকে হারানোর ক্ষেত্রে তাদের বল পজেশন ছিল যথাক্রমে মাত্র ২৬% এবং ১৮%। বল পায়ে না রেখেও নিখুঁত ডিফেন্সিভ ব্লক এবং উইং-স্পিড দিয়ে কিভাবে ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করতে হয়, তা মোরিয়াসু একাধিকবার প্রমাণ করেছেন।
২. ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞতা
একসময় জাপানের স্কোয়াডের অধিকাংশ ফুটবলার ঘরোয়া জে-লিগে খেলতেন। তবে বর্তমানে জাপানি স্কোয়াডের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখনকার দলটির প্রায় ৮০ শতাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলছেন, এবং তারা শুধু খেলছেন না বরং বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই সেখানে আলো কাড়ছেন। রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে লা লিগা কাঁপাচ্ছেন তাকেফুসা কুবো, মোনাকোর হয়ে লিগ ওয়ানে দারুণ ফর্মে থাকছেন তাকুমি মিনামিনো, এবং স্টুটগার্টের উইঙ্গার হিসেবে খেলছেন রিতসু দোয়ান। ইউরোপের সেরা টুর্নামেন্টগুলোতে খেলার ফলে তাদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে।
৩. এনদো-তানাগাকার প্রেসিং
আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক
জাপানের মাঝমাঠের দুই মূল স্তম্ভ হলেন লিভারপুলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ওয়াতারু এনদো এবং ডুসেলডর্ফের আও তানাকা। ফিফার ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই দুই মিডফিল্ডার প্রতি ৯০ মিনিটে গড় ১১.৮ কিলোমিটার ব্যাপ্তি দৌড়ান। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তাদের এই হাই-ইনটেনসিটি প্রেসিং ব্রাজিলের মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের জন্য খুব একটা সময় দেবে না। মধ্যমাঠে এই নিরবচ্ছিন্ন চাপ ব্রাজিলের বিল্ড-আপ প্লে শুরুতেই ভুলের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
৪. সেট-পিস ও এরিয়াল বলে জাপানের নিখুঁত রেকর্ড
আধুনিক ফুটবলে অধিকাংশ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় সেট-পিস। পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যে, জাপান তাদের শেষ ১০টি আন্তর্জাতিক গোলের ৩১% পেয়েছে কর্নার, ফ্রি-কিক বা ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে। বিশেষ করে জুনিয়া ইতো এবং তাকেফুসা কুবোর বাঁকানো ক্রস ও বক্সে কো ইতাকুরা বা হিরোকি ইতোদের মতো দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের এরিয়াল হেড নেওয়ার দক্ষতা জানায় যে তারা অনেকটাই শক্তিশালী। অন্যদিকে, ব্রাজিলের রক্ষণভাগ সাম্প্রতিক সময়ে সেট-পিস এবং ক্রস থেকে গোল হজমের জন্য একটানা দুর্বল হয়ে পড়ছে। রোজ বোলের বিশাল মাঠে আজ সেট-পিস মোরিয়াসুর দলের জন্য একটি বড় অস্ত্র হতে পারে।
৫. তারকা-নির্ভরতার বাইরে গিয়ে ‘কালেক্টিভ ফুটবল’
আরও পড়ুন: এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এনসিপির
জাপানের মূল শক্তি হল তাদের ‘দলগত শক্তি’। গত এক বছরে জাপানের গোল স্কোরের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের নির্দিষ্ট ১ বা ২ জন স্ট্রাইকারের ওপর নির্ভরতা নেই। ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে বদলি হিসেবে নামা উইঙ্গার—সবাই গোল করছেন। স্কোয়াডে একক মেগা-স্টার যারা নেই তাদের কারনে ব্রাজিলের জন্য জাপানের কোনো বিশেষ খেলোয়াড়কে ম্যান-মার্ক করে খেলার কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব হবে না।
ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী রোজ বোল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত এগারোটায় জাপান-ব্রাজিল ম্যাচটি শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন