১২:৫৮ পি.এম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজিএমইএ এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব) এর মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচালকরা অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ওকাইবের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে রুগ্ণ এবং বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ, যৌথ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং লিডার ‘কেন্তা ফিরোজ’ গ্রেপ্তার
উভয় পক্ষের মত হলো, বিদেশি মূলধন এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। বৈঠকে ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান কাস্টমস এবং বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওকাইবের প্রতিনিধিরা জানান, যন্ত্রপাতি আমদানি ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দেয়, এ বিষয়ে কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সাসটেইনেবিলিটি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর আলোচনার সময়, ওকাইবের প্রতিনিধিদল সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের পোশাক খাতে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং খাতে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে
সভায় ওকাইবের পক্ষ থেকে সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য পুরনো জ্যাকর্ড মেশিন ফিরিয়ে নিয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি মেশিন সরবরাহের একটি বিশেষ ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে কাস্টমস ও প্রশাসনিক জটিলতা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিজিএমইএ’র নেতারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সাথে আলোচনা করে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকেই চীনা অংশীদারিত্বে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ ধরনের অংশীদারিত্বের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির উপরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চমূল্য সংযোজিত ও টেকসই পোশাক উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানে চীনা উদ্যোক্তারা আগ্রহী। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে দেড় লাখ টাকাসহ স্থানীয়দের হাতে আটক উপসহকারী প্রকৌশলী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন