ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান জানালো আইপিডি


আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান জানালো আইপিডি

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে আবাসনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে, যা শুধুমাত্র বাজার ও বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল নয়। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬ বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি করেছে।

আজ সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে একটি বিবৃতিতে আইপিডি এই বক্তব্য তুলে ধরে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের থিম হচ্ছে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকট ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। যদিও জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬-এ সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে, তবে এর বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের কার্যকর কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারবিরোধী অপতৎপরতার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী প্রমা গ্রেপ্তার

আইপিডি মনে করে, বাংলাদেশের আবাসন সংকট কেবল ঢাকার সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় নগর ও স্থানিক পরিকল্পনার সংকট। আবাসন বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ অধিকাংশ পৌর এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন কাঠামো গড়ে না ওঠার ফলে শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং নাগরিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ শিল্প ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের সুযোগ না পেয়ে বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছেন। আইপিডি উল্লেখ করেছে যে, বস্তি উচ্ছেদ করে আবাসন সংকটের সমাধান সম্ভব নয় এবং সাশ্রয়ী আবাসনের জোগান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

আইপিডির সুপারিশে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জমি অথবা নির্মিত ফ্ল্যাট সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। একই সঙ্গে, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভূমির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: বি-স্ট্রং প্রকল্পে কেনাকাটা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

আইপিডি বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ না করে সেখানে আলো-বাতাস, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করে মানোন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি জমি ও নীতিগত সুবিধা এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সমন্বয়ে পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রীকরণ কমিয়ে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরকে ভৌগোলিক সুবিধা অনুযায়ী শিল্প ও আবাসনের সমন্বিত ‘গ্রোথ সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুযোগ তৈরি করতে ‘জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল’ গঠন, শিল্পাঞ্চল ও বড় শহরের শ্রমিকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণ এবং সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগের সুপারিশ করেছে আইপিডি।

আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বিবৃতিতে বলেন, "শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নীতি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের আবাসন সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "জাতীয় আবাসন নীতি-২০১৬-এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় শহর থেকে প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সুষম অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও সাশ্রয়ী আবাসন ছড়িয়ে দিতে হবে।"

আরও পড়ুন: সরকারের পতন চাই, তবে নির্বাচন ও সাংবিধানিক উপায়ে: প্রকাশ রাজ

তিনি উল্লেখ করেন, "আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নগর এলাকায় আবাসন সংকটের টেকসই সমাধান করতে হবে।" পাশাপাশি, ঢাকার স্থানিক ও জনসংখ্যাগত বৃদ্ধির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় গতি আনতে পাকিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় গতি আনতে পাকিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা জোরদার করার উদ্দেশ্যে এই সফর করছেন। নিউইয়র্ক থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর সময় তিনি পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

সফরের সময় মহাসচিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতি-নির্ধারকদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তিনি ইসলামাবাদে চলমান সংকট নিরসনে এবং বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংকট নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বলেন, "সংলাপ ও আলোচনার পথ সুগম করতে দেশটির কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জাতিসংঘ সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে।" মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের পদক্ষেপের জন্য ইতিপূর্বে একটি যুদ্ধবিরতি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। हाल हीতে তা ভেঙে পড়ায় গুতেরেস শান্তিকামী আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসলামাবাদে অবস্থানকালে মহাসচিব দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA) পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তিনি ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর টেকসই পুনর্গঠন এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় পাকিস্তানের বর্তমান প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন। এছাড়া, জম্মু ও কাশ্মীরের 'লাইন অব কন্ট্রোল' (LoC) মনিটরিংয়ে নিয়োজিত জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক দল (UNMOGIP)-এর সদর দপ্তর পরিদর্শন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সফর শেষে আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে ফিরে যাবেন জাতিসংঘ প্রধান। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিব্রিবিউন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেজগাঁও বিভাগে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৬১ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


তেজগাঁও বিভাগে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৬১ জন

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। রোববার, বিভাগের অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা পুলিশ ১৯ জন, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ১৯ জন, শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ১৩ জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ ৫ জন, আদাবর থানা পুলিশ ৩ জন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মো. ওয়াহিদ রানা (২৯), মো. ইয়াসির আরাফাত (৪২), আবুল হাসানাত রানা (২০), মো. রাসেল (২৬), মো. নাহিদ (১৮), রবিন (২০), মো. শুক্কুর মিয়া (৪৮), মো. কামাল ফকির (২৫), মো. ইব্রাহিম হোসেন (২৬), শিহাব আলী (১৮), নূর আলম (৩২), মো. আকরাম (৩০), জুবের আহমেদ সুমন (৩৮), মো. রনি (৩২), মো. শাহিন (১৯), মেহেদী আফরোজ মীম (২৮), বাদশাহ মিয়া (৫৫), মো. আল আমীন (২৫), মো. হাবিব (২৬), মো. রোমান (৩০), মুন্না সরকার (১৯), মো. রনি মিয়া (২৬), মো. নাইম (১৯), মাহবুব মিলন (২০), মো. মোহসিন (২৮), মো. শাওন (২৪), মো. ফারুক (২৬), মো. আতিকুল ইসলাম (৪৬), মোসা. কাজলী খাতুন (৩০), মো. জসিম (৩০), মো. নাহিদ (৩০), মো. মিরাজুল ইসলাম রনি (২০), মো. আরিফুল ইসলাম (৪৫), মো. সোহান ওরফে বাউনা (২০), মো. রহিম বাদশাহ (৩৩), মো. জাহিদ হোসেন, রিয়াদ মিয়া (২৫), মো. বাবু (২৭), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মো. সালাম ওরফে সবুজ (৩৮), মো. তানভীর রহমান শুভ (২০), রাকিব হোসেন খান (২৩), মো. সিয়াম (২২), মো. সোহান (১৯), মো. শাহ আলম (২৬), মো. নূরে আলম (২৭), মো. আজিজুল ইসলাম (সোহাগ) (৩০), মো. নবী (২৭), মো. রিয়াজ ইসলাম (২২), মো. আবির আহমেদ (২৭), মো. সজীব (২৩), মো. নজরুল ইসলাম (৫৮), মো. পাভেল (২২), মো. সবুজ ফকির (৪০), মো. আব্বাস মিয়া (৪২), মো. খলিলুর রহমান (৪১), মো. রহমতুল্লাহ নূর (১৯), মো. ফরহাদ (৩০), মো. সবুজ (৩২), শাওন (১৮) এবং মো. মামুন (২৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীর সিমান্তে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল জব্দ, পালিয়েছে যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী রাজশাহী

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


রাজশাহীর সিমান্তে বিপুল পরিমাণ  ট্যাপেন্টাডল জব্দ, পালিয়েছে যুবক

 রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক যুবক ব্যাগ ফেলে পালিয়ে গেলেও তাকে শনাক্ত করেছে বিজিবি।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী নগরীর কাটাখালী থানার ১০ নম্বর পদ্মার চর এলাকা থেকে এসব মাদক জব্দ করে খিদিরপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল। 

বিজিবির দাবি, পালিয়ে যাওয়া যুবক মোঃ রাব্বিল মিয়াকে (২৫), তিনি পবা উপজেলার ১০ নম্বর খিদিরপুর মিডিলচর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।

সোমবার দুপুর ১২টায় ১ বিজিবি, সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। 

এ ঘটনায় রাব্বিল মিয়ার বিরুদ্ধে কাটাখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।#

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিন জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিন জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিল করতে হবে এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্ভব নয়। এই সংকটের সমাধান রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন, যা ‘সাম্প্রতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তিনটি আলাদা জাতীয় কমিটি গঠন করার প্রতিবাদে’ আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। বক্তৃতা প্রদান করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাইদ খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য দীপায়ন খীসা।

সভাপতির বক্তব্যে জাকির হোসেন উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা মূলত জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবে করতে হবে। তিনি জানান, সরকার গত ১০ সেপ্টেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক—এই তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কার্যপরিধিতে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন সংস্কারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, দুটি কমিটির জনবল ও অবকাঠামো ডিজিএফআই থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবু সাইদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ‘অনেক কিছু দেওয়া হয়েছে’—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘকাল ধরে কোনো জনগোষ্ঠী বঞ্চিত ও উপেক্ষিত থাকলে রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু বাঙালি বা মুসলমানের রাষ্ট্র নয়। পাহাড় অশান্ত থাকলে পুরো বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ অস্ত্র ছেড়েছে বলে তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যাবে—এমন ধারণা ভুল। তিনি দাবি করেন, তিনটি কমিটি বাতিল করে চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স মন্তব্য করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি বিরোধের কার্যকর সমাধান না হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ ১৯৯৭ সালের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি গঠিত তিনটি কমিটি আমলা ও গোয়েন্দা-নির্ভর হওয়ায় তা কাম্য নয়। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সার্কেল চিফসহ পাহাড়ের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে অর্থবহ সংলাপ করতে হবে।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যে চুক্তি করেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের। তিনি তিনটি কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানান।

সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর পরও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি সতর্ক করেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পাহাড়ের জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

সমাবেশ থেকে তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিলের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন, অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহার, চুক্তি অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সংলাপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরুর দাবি জানান বক্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%