০৫:১০ পি.এম
‘দুইটা অস্ত্র নিয়ে তারা রাস্তায় বসে আছে। একটা ৯ এমএম, পাঁচটা গুলিসহ তারা বসে আছে। আমি যাওয়ার সময় গুলি করবে।’
গত বছরের ৩০ নভেম্বর নেত্রকোনার বর্তমান পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের প্রেস ব্রিফিংয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এভাবে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। প্রায় ১০ মাস পর সেই আশঙ্কা সত্যি হলো। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
আলিফ শুধু নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি, বরং সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি উপজাতি বিয়ে করেছি। এই উপজাতি বাড়িতেও একটি চক্র বাড়িঘরগুলো জ্বালিয়ে দিতে পারে যেকোনো সময়।’
আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম
সাবেক সেনা সদস্য আলিফ ফকির, সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন, যেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি এবং ভিডিও প্রকাশ করতেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে ছিলেন। শ্বশুরবাড়ি দুর্গাপুরের তেলঞ্জিয়া এলাকায় ছিল।
গত বছরের ১০ নভেম্বরেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল। দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। আলিফ এ ঘটনায় মামলা করেন এবং পরে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে, যারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এদিকে আলিফ হত্যার ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে শুক্রবার বিকালে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আলিফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ সাংবাদিকদের জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। আরেকটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এছাড়া কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বের হয়েছে।
ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে : ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন