ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লে ২০২৬ সালে পুরস্কৃত


শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লে ২০২৬ সালে পুরস্কৃত

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লে। নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

এই পুরস্কারটি শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারকের নাম ঘোষণা করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য নাভি পিল্লেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি ছিল বিভিন্ন সংগঠন।

আরও পড়ুন: সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পিল্লে। বর্ণবৈষম্য ও বর্ণবাদী শাসনের সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হন তিনি। কাঠামোগত বৈষম্য, বিভাজন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কাজ করার পাশাপাশি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন।

কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন নাভি পিল্লে।

সম্প্রতি তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে পিল্লে দেখিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপ যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতেও তার অবদান রয়েছে। তার স্বাধীনচেতা অবস্থান, দক্ষতা ও দৃঢ়তা তাকে সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধেয় আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞে পরিণত করেছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে

রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকাকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একই মামলায় প্রচারণার মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রথমবারের মতো একজন আসামির বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

নোবেল কমিটির মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি। পিল্লে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির আইনের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন।

কমিটি বলেছে, বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নিষেধাজ্ঞা ও আক্রমণের মুখে পড়ছে, তখন নাভি পিল্লেয়ের মতো সাহসী, দূরদর্শী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি তার অঙ্গীকার আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আগ্রহীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পের বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা: ক্রেমলিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পের বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা: ক্রেমলিন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে একাধিক অর্থনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা চলছে, যা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে পারে।

সম্প্রতি, রুশ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সংবাদমাধ্যম 'ভেস্তি' (Vesti)-এর এক প্রশ্নের উত্তরে দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, দুই দেশের জন্য সম্ভাবনাময় এবং দ্বিপাক্ষিক সুবিধা প্রদান করবে—এমন বেশ কিছু সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

এর আগে, ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি উল্লেখ করেছিলেন যে, বিভিন্ন বৈঠকে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক খাতে সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। সূত্র: তাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ভাঙচুর, মালামাল লুটের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় ভাঙচুর, মালামাল লুটের অভিযোগ

নাটোরের বড়াইগ্রামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভাঙচুরের মাধ্যমে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পৌর এলাকার মৌখাড়া বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় কার্যালয়টির কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা (৭৫) থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং মৌখাড়া এলাকার বাসিন্দা।

তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০০৪ সালে জেলা প্রসাশকের কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ‘মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়’ হিসেবে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বড়াইগ্রাম পৌর ও ইউনিয়ন কার্যালয়। তিনি বলেন, "আমি সেসময় থেকে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।" গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি মৌখাড়া বাজারস্থ অফিস কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তারা অফিস থেকে তিনটি কাঠের জানালাসহ লোহার গ্রীল, ১৪টি প্যাস্টিকের চেয়ার, টেবিল, লোহার গদিযুক্ত চেয়ার, আলমারি ও মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, "জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার তৈরি করা দল ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এই ধরনের কর্মকান্ড মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই ঘটনার জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।"

কার্যালয়ের পাশে চায়ের দোকানদার নিজাম উদ্দিন বলেন, "এই অফিসের সামনে অনেক বছর যাবত চায়ের দোকান করি। মুক্তিযোদ্ধারা এখানে আসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। শুক্রবার সকালে এসে দেখি অফিস ভাঙা এবং মালামাল নিয়ে গেছে।"

বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেন, "অনেক বছর যাবত মুক্তিযোদ্ধারা এই অফিসে বসেন। স্বাধীন দেশে এই ধরনের কর্মকান্ডের বিচার দাবি করছি। এই পরিস্থিতি দেখার জন্য কি আমরা দেশ স্বাধীন করে ছিলাম।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (পদধিকার বলে) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "বিষয়টি আমি শুনেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।"

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান জানান, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইজিবাইকে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


ইজিবাইকে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পরিবেশদূষণ হ্রাস, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ইজিবাইক চালকদের আয় বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের সিসিটিএসের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যদি এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায় তবে একবার চার্জে ইজিবাইক ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম হবে। এছাড়া চালকদের দৈনিক আয় প্রায় ২০০ টাকা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি (ডেসকো) রাজধানীর উত্তরখানে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের জন্য একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারিক সুবিধা ও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে পরীক্ষামূলক উদ্যোগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের।

তিনি আরও বলেন, “ইজিবাইকে প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হলে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একবার চার্জে অধিক দূরত্ব অতিক্রম করতে পারলে চালকদের কর্মঘণ্টার কার্যকর ব্যবহার এবং আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।”

দেশের শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থায় ইজিবাইক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্বল্প দূরত্বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এসব যানবাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, চার্জ দেওয়ার খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণ চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমদানি করা কয়লার পরিবর্তে দেশের ভূগর্ভে থাকা কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

দেশীয় কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উত্তোলন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুল হক মনি। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক হক সাবুসহ অন্যান্য অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের জন্য ১২ বছরের কারাদণ্ডের দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের জন্য ১২ বছরের কারাদণ্ডের দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিক্যাল টিমের অভিযুক্ত সদস্যদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের দাবি তুলেছে। বুয়েনস এইরেসের আদালতে মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এই শাস্তির দাবির পক্ষে যুক্তি প্রদান করেন।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপের এই মহানায়ক।

বুয়েনস এইরেসের শহরতলি তিগ্রেতে একটি ভাড়া বাসায় হৃদ্রোগ এবং অ্যাকিউট পালমোনারি এডেমাতে (ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়া) আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগে গত এপ্রিল থেকে তৎকালীন সাতজন চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচারকার্য চলছে।

ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনস্তত্ত্ববিদ ও নার্সদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল টিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোয় তারা চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিযুক্তরা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী প্যাট্রিসিও ফেরাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আসামিদের চরম বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সম্পূর্ণ সহায়হীন অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল এবং কার্যত তাকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে চিকিৎসকেরা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়ম মেনে চলেননি এবং যেসব জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ নেওয়া আইনি ও নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক ছিল, তা থেকে স্বেচ্ছায় বিরত থেকেছেন।

আইনি পরিভাষায় আসামিদের বিরুদ্ধে ‘ডোলো ইভেঞ্চুয়াল’ অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার অর্থ হলো—নিজের কোনো অবহেলা বা কাজের পরিণতি মৃত্যু ডেকে আনতে পারে জেনেও তা জেনে-বুঝে চালিয়ে যাওয়া।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত প্রধান চিকিৎসক লিওপোল্ড লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ডের দাবি জানান। এছাড়া টিমে থাকা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, নার্স, মনস্তত্ত্ববিদ ও সমন্বয়কদের জন্য অপরাধের ধরন অনুযায়ী ৪ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দাবি করেছেন যে ম্যারাডোনার এই মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং তারা নিজেদের সাধ্যমতো দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি আসামি একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে ব্যক্তিগত দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

মৃত্যুর আগে চিকিৎসকেরা অবহেলা ও অনিয়ম ঢাকতেই ম্যারাডোনাকে কোনো হাসপাতালে না রেখে বাসায় চিকিৎসা দেওয়ার বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে সেই ভাড়া বাসায় হাসপাতালের প্রয়োজনীয় বিছানা, ডিফিব্রিলেটর (হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক করার জরুরি বৈদ্যুতিক যন্ত্র), ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স বা ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রীর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

বেশ কয়েকজন নিরপেক্ষ চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, মৃত্যুর বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই ম্যারাডোনার শরীরে এডেমা (অঙ্গ ফুলে যাওয়া), ট্যাকিকার্ডিয়া (অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দন) ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো অতি বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলেও নিয়োজিত চিকিৎসকেরা সময়মতো কোনো পদক্ষেপ নেননি। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী কোসমে ইরিবারেন বলেন, ‘ডিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার মৃত্যু কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; এই মর্মান্তিক পরিণতির আলামত অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।’

বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সাবেক এই ফুটবল রাজপুত্রের মৃত্যুর আগের কিছু শিউরে ওঠার মতো ছবি আদালতে প্রদর্শন করেন। ছবিতে ফুটবলের এই বরপুত্রকে পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই করুণ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে আদালতে উপস্থিত ম্যারাডোনার দুই মেয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক পর্বটি শেষ হতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে এবং এরপরই বহুল প্রতীক্ষিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে আড়াই মাস বিচারকাজের পর গত বছর মামলাটি বাতিল করা হয়েছিল, কারণ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারক মামলাটি নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%