০৫:১৭ পি.এম
বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার (৫ অক্টোবর) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বও ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সুযোগে পরিণত করতে হবে।
আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম
তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সমুদ্রপথ ও দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির মধ্যে সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ চায়, বঙ্গোপসাগর যেন শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে থাকে এবং এটি সংঘাতের মঞ্চে পরিণত না হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় উন্নয়নের জন্য অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করাও এর লক্ষ্য। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে কোন একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখে না। যেখানে স্বার্থের মিল রয়েছে, সেখানে সহযোগিতা করা হবে। মতপার্থক্য থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে মোকাবেলা করা হবে।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো কূটনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের পণ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।
আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটকেও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াবে না, বরং তা গঠনে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে শান্তির অংশীদার, আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্র, বিনিয়োগের গন্তব্য এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘সারের ডিলারশিপ না, বিষের ডিলারশিপ দিন’ ছাত্রদল নেতার মন্তব্য ভাইরাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন