শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৬ পি.এম
১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হয়ে কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, এমনটি জানিয়েছেন ইয়েমেনি লেখক ও সাবেক বন্দি মনসুর আদায়ফি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর নামে মুসলিমদের আটক, নজরদারি ও নির্যাতনের যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা ২৫ বছর পরেও সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়নি; বরং সেই কাঠামো এখন নতুন লক্ষ্যবস্তু তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত এক লেখায় আদায়ফি তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সময় তিনি আফগানিস্তানে ছিলেন। হামলার কয়েক দিন পর একটি বেসরকারি সংস্থার সরঞ্জাম সরানোর সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে।
আদায়ফি বলেন, পরে তাকে এক আফগান যুদ্ধবাজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ব্যক্তিটি তার মুক্তির বিনিময়ে এক লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছিলেন। এরপর তাকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আল-কায়েদার নেতা হওয়ার অভিযোগ আনা হলেও তিনি দাবি করেন, সে সময় তিনি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য ছিলেন না এবং আফগানিস্তানে গবেষণার কাজে গিয়েছিলেন।
‘নির্যাতন করে গুয়ানতানামোতে পাঠানো হয়’
আদায়ফি জানান, কান্দাহারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আটক থাকার সময় তাকে ও অন্যান্য বন্দিদের মারধর ও অপমান করা হতো। ২০০১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সেখানে প্রায় ১০০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন সেনারা বন্দিদের নামের পরিবর্তে নম্বর ধরে ডাকতে শুরু করে। তাকে একটি তাঁবুতে নিয়ে গিয়ে পোশাক খুলে ফেলা, শরীরের চুল কামিয়ে দেওয়া, মারধর ও অপমান করা হয়। পরে তাকে কমলা রঙের পোশাক, জুতা, মোজা ও টুপি পরিয়ে হাত-পায়ে শিকল পরানো হয়।
আদায়ফি বলেন, তার গলায় ‘আমাকে মারো’ লেখা একটি চিহ্ন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চোখ ও কান ঢেকে তাকে বিমানে তোলা হয়। বিমানে ওঠার পরও বন্দিদের মারধর ও অপমান করা হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথে হাত-পায়ের শিকল এতটাই শক্ত করে বাঁধা ছিল যে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ অবশ হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
গুয়ানতানামোতে প্রথম দিন
গুয়ানতানামোতে পৌঁছানোর পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন আদায়ফি। তাকে নগ্ন করে শরীরে পানি ও সাবান ঢেলে রুক্ষ ব্রাশ দিয়ে ঘষা, একাধিকবার তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে একটি খাঁচায় রাখা হয়।
তিনি জানান, খাঁচায় থাকার সময় তার কাছে ছিল একটি প্লাস্টিকের মাদুর, একটি কম্বল, পানির পাত্র এবং দুটি ছোট বালতি। এর একটি পানি রাখার জন্য এবং অন্যটি শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করতে হতো। বন্দিদের বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না; আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল না।
আদায়ফির বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দিদের সঙ্গে সবসময় নম্বর ধরে কথা বলা হতো। তাকে দেওয়া হয় ‘আইএসএন ৪৪১’ নম্বর। তার আগে সিআইএর গোপন বন্দিশিবিরে তার কোনো নম্বরও ছিল না বলে জানান তিনি।
‘আমরা জানতাম না কেন আটক’
গুয়ানতানামোতে থাকা বন্দিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মানুষ ছিলেন বলে জানান আদায়ফি। তাদের অনেকেই জানতেন না কেন তাদের সেখানে রাখা হয়েছে এবং কতদিন সেখানে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বন্দিরা আবহাওয়া, উড়োজাহাজের যাত্রার সময় এবং আশপাশের বিভিন্ন চিহ্ন দেখে তারা কোথায় আছেন তা অনুমান করার চেষ্টা করতেন। কেউ বলতেন ওমান বা বাহরাইন, কেউ ভারত। এমনকি নামাজের সময় কোন দিকে মক্কা রয়েছে, সেটিও তারা নিশ্চিতভাবে জানতেন না বলে জানান তিনি।
আদায়ফির দাবি, বন্দিদের অনেককে বলা হয়েছিল তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করতেন, কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
‘প্রায় ৮০০ মুসলিম পুরুষ ও শিশু সেখানে গিয়েছেন’
আদায়ফি বলেন, গুয়ানতানামোতে প্রায় ৮০০ মুসলিম পুরুষ ও শিশু বন্দি হিসেবে এসেছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন দেশের সহযোগী বাহিনী আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছিল বলে তার দাবি।
তার মতে, এসব বন্দিকে ‘সবচেয়ে ভয়ংকর’ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গুয়ানতানামোকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি ‘পরীক্ষাগার’ এবং নির্যাতন ও অনির্দিষ্টকালের আটক ব্যবস্থার একটি নকশা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আদায়ফি আরও বলেন, গুয়ানতানোমর পাশাপাশি সিআইএ বিভিন্ন দেশে গোপন বন্দিশিবির পরিচালনা করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারও সহযোগিতা করেছিল।
২০১৫ সালে মুক্তির অনুমোদন, মুক্তি ২০১৬ সালে
আদায়ফি জানান, বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিষ্ঠিত পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা বোর্ড ২০১৫ সালে তাকে গুয়ানতানামো থেকে স্থানান্তরের অনুমোদন দেয়। তবে অনুমোদনের পরও তাকে আরও প্রায় নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় তাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং এমনকি ‘চিরস্থায়ী বন্দি’ হিসেবেও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১১ জুলাই তাকে গুয়ানতানামো থেকে বের করে বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
ইয়েমেনে তখন যুদ্ধ চলায় এবং মার্কিন কংগ্রেসের বিধিনিষেধের কারণে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। তার বদলে সার্বিয়ায় পাঠানো হয়। আদায়ফির দাবি, সার্বিয়ার সঙ্গে তার কোনো পারিবারিক, ভাষাগত বা ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি সেখানে যেতে রাজিও ছিলেন না।
‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কাঠামো এখনো আছে’
নিজের লেখায় আদায়ফি বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্র যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করেছিল, তার প্রভাব আফগানিস্তান ও ইরাকের বাইরে গিয়েও পড়েছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি, ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের তালিকাভুক্ত করা এবং অভিবাসননীতিতে কঠোরতার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুসলিমদের ঘিরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা কাঠামো পরে উগ্র ডানপন্থীদের জন্যও একটি প্রস্তুত ব্যবস্থা তৈরি করে দেয়। তিনি বলেন, মুসলিম ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সন্দেহ ও বৈরিতার যে ভাষা তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনেও ব্যবহৃত হয়েছে।
আদায়ফি আরও দাবি করেন, বর্তমানে মুসলিমদের বাইরেও বিভিন্ন প্রতিবাদী ও রাজনৈতিক আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সমালোচনা বা ভিন্নমতও অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
‘২৫ বছর পরও বিচার হয়নি’
আদায়ফির ভাষ্য, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পরও গুয়ানতানামো কারাগার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি দাবি করেন, সেখানে আটক অধিকাংশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বা নিয়মিত আদালতে বিচার হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধের নামে বিশ্বজুড়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচারের দাবি কোথায়?
আদায়ফি বলেন, ২৫ বছর ধরে চলা ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না; এর মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা মানুষকে অপরাধ প্রমাণের আগেই সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
তার ভাষায়, ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ যে কাঠামো তৈরি করেছিল, তা অদৃশ্য হয়ে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে নতুন লক্ষ্যবস্তুর দিকে তা সম্প্রসারিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রউফ (৩৪) নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রউফ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কুমারকান্দি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি ব্যুরো বাংলাদেশের সোনাগাজীর কারামতিয়া শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত ব্যক্তি আখতারুজ্জামান (৩২) রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার মারিশা মুসলিম ব্লকের শাহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঐ সংস্থার শাখা হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।
আরো পড়ুন
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরেও শেষ হয়নি গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহর থেকে লালপোলের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুত গতির কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রউফ এবং তার সঙ্গে থাকা আখতারুজ্জামান গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আব্দুর রউফের মৃত্যু ঘটে।
ব্যুরো বাংলাদেশের হাজীরবাজার শাখার হিসাবরক্ষক মো. সবুজ বলেন, ‘ফেনী শহর থেকে লালপোল যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সহকর্মীর এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কেউ মানতে পারছে না। এ ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত।’
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. রুহুল মোহসেন সুজন কালের কণ্ঠকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত আখতারুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার এসআই কবির হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও ঘাতক কাভার্ডভ্যান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের চালক ঘটনার পরপর পালিয়ে গেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মির্জাপুর, টাঙ্গাইলের একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনের। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিভাবক এবং উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে পিটুনি দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ও অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্রি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়া ছলে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাস স্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দোতলা এবং তিনতলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলার ফতেপুর ইইনয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদরাসায় তিন বছর আগে শিক্ষক হিসেবে আল আমিন যোগদান করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার জামর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ১০ বছরের এক ছাত্র নাজেরা শাখায় ভর্তি হয় এবং আবাসিকে থাকে।
গত তিন মাস ধরে ওই ছাত্রকে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন শিক্ষক আল আমিন। এর ফলে ওই ছাত্রের পেট ব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে নিয়মিত রক্ত পড়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। পরে সে তার মাকে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি জানালে তার তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নেন। বাড়িতে যাওয়ার পর একদিন সকালে নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পেয়ে ওই ছাত্রের মাকে বিষয়টি জানান। তবে ওই ছাত্র ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরেও শেষ হয়নি গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক
পরে মা তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে ওই ছাত্রকে মাদরাসায় রেখে যান। এই ১১ দিনের মধ্যে ৮দিন ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে আবারও তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার মা এসে তাকে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ওই শিশুর বিভিন্ন পরীক্ষা করান তার মা। রিপোর্ট এবং ওই ছাত্রের স্বীকারোক্তিতে চিকিৎসক ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে চিকৎসক তার মাকে ছেলের পায়খানার রাস্তা দেখান এবং বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এদিকে, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদরাসায় আসেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি জানান। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল তাদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক আল আমিনকে পিটুনি দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মাদরাসার গেট বন্ধ করে লাঠি নিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশনা দেন ছাত্রদের। পরে ছাত্ররা গেট বন্ধ করে লাঠি হাতে হামলার চেষ্টা চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে লোকজনের ভিড় বেড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
-ভুক্তভোগী শিশুর নানা বলেন, ‘এমন শিশু বাচ্চার সঙ্গে এমন আচরণ যে মানুষ করতে পারে সে তো মানুষ না পশু। আমি তার বিচার দাবি করছি।’
ভুক্তভোগী শিশু জানায়, গত তিন মাস যাবত শিক্ষক আল আমিন তাকে ফুসলিয়ে এবং নানা ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করেন। এতে তার পেট ব্যথা হওয়া ছাড়াও পায়খানার রাস্তা দিয়ে নিয়মিত রক্ত যাচ্ছে। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মাকে জানায়, সে এখানে পড়বে না। তার এখানে খুব কষ্ট হচ্ছে।
ওই ছাত্রের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে ফোন দিয়ে বলে, মা এখানে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার পেট ব্যথা হচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না। ছেলের অসুস্থ থাকার খবরে মাদরাসায় আসলে অভিযুক্ত শিক্ষক ছেলেকে গ্যাস্ট্রোলিভারের ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে তারা জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে চিকিৎসা করান।’
তিনি আরো বলেন, ‘মির্জাপুরের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে বিস্তারিত বলেন এবং সচিত্র দেখান। আমার ছেলের পায়খানার রাস্তা অনেক বড় হওয়া ছাড়াও ফেটে গেছে। এ কারণে নিয়মিত রক্ত পড়ছে। সঠিক চিকিৎসা না হলে তার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। আমি এই নরপিশাচ শিক্ষক নামের কলঙ্ক আল আমিনের ফাঁসির দাবি জানাই।’
মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসার অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন। তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা তো মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’
আপনি ওই ছাত্রকে গ্যাস্ট্রোলিভারের ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন তার মাকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পেট ব্যাথা হচ্ছে এজন্য বলেছেন।’
মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে এই প্রতিষ্ঠানে রাখবেন না।
জনতার ওপর হামলার নির্দেশের বিষয়ে তিনি জানান, অনেকেই আমার গলা চেপে ধরেছেন। এ জন্যই তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রের মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বজ্রপাতে মো. হেলিম (৩২) নামের এক কৃষকের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন খোকন মিয়া (৪০) নামের আরো একজন শ্রমিক। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাটিয়াপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক হেলিম নামাপাড়া গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের পুত্র। তার তিনটি সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স চার বছর, দুই বছর এবং ৯ মাস। আহত খোকন মিয়া একই এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে খোকন মিয়াসহ আটজনের একটি দল নিয়ে হেলিম পাশের নামাপাড়া গ্রামে ধনেপাতা সংগ্রহ করতে যান। কাজের এক পর্যায়ে হঠাৎ করে আকাশ অন্ধকার হয়ে যায় এবং বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন হেলিম। পাশেই থাকা খোকন মিয়া বজ্রপাতের বিকট শব্দে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে, তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে হাসপাতালে আহত খোকন মিয়ার চিকিৎসা চলছে।
আরো পড়ুন
‘৩ মাস ধর্ষণের শিকার’ মাদরাসাছাত্রের কল—‘মা খুব কষ্ট হচ্ছে, আমাকে নিয়ে যাও’
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. সোহেব খান বজ্রপাতে হেলিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ