০১:৫৪ এম
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এই বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ৬টি জেলার ৪৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে সর্বাধিক ৭ জন এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জন করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, এই বছর মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এমন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজনও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সুরুজ মেমোরিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুরের পৌর শহীদ জাবেদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট তিনজন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে তিনটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
আরও পড়ুন: নান্দাইলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে ট্রাকে আগুন, শহর বিদ্যুৎহীন
দুইজন করে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বগৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ড. এম সামছুল হক মডেল কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে দুজন করে পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও এদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ চার প্রতিষ্ঠানের মোট আটজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার শূন্য শতাংশ।
তিনজন করে পরীক্ষার্থী থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ফেনী সদর উপজেলার বেগম সামছুন্নাহার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দিন আখন্দ কলেজ। দুই কলেজের তিনজন করে ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রফেসর সেকান্দর আলী ভূঁইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আপার মডেল কলেজ থেকে ৫ জন করে মোট ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু এই ১০ জনের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফেনী সদর উপজেলার বিকন মডেল কলেজ থেকে ৭ জন করে মোট ২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল শূন্য। অর্থাৎ এ তিন প্রতিষ্ঠানের ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেনি কেউ।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৬টি জেলার মোট ৪৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এই ৪৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল শূন্য, সেখান থেকে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দেওয়া হবে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: শাহ আমানত বিমানবন্দরের ৩১৯ কর্মী অক্টোবরের বেতন পাননি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন