ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিরিরবন্দরে দুই শিশুসহ গৃহবধূ হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি আটক


চিরিরবন্দরে দুই শিশুসহ গৃহবধূ হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি আটক

চিরিরবন্দরে দুই শিশুসন্তানসহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করে লাশ উদ্ধার করেছে।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সোমবার দুপরে দিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাত ১২টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ মৃত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়েছে। শিশু দুটিকে হত্যা করার আলামত মিললেও গৃহবধূ নিজে আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, শিশু দুটিকে কে হত্যা করেছে—এ রহস্য রোববার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত গৃহবধূর বাবা খাইরুল ইসলাম সোমবার দুপুর ১২টায় বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামল করেন।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি গত ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যার ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো এক সময় উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জুগির ডাঙ্গা মাঠের পূর্ব পাশে মোস্তফাপুর বালুপাড়ায় ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টিসহ শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির লাশ আনার চেষ্টা চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম, থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, জেলা সিআইডির পুলিশ সুপার, পরিদর্শক, সিআইডির ক্রাইমসিন বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মোস্তফাপুর বালুপাড়ার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে শাকিল হোসেনের (২৬) সঙ্গে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা বেগমের (২০) সঙ্গে সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক ছেলে সাফায়াত হোসেন (২) ও এক মেয়ে রাইফা জুরাইনা (৯ মাস) নামে দুটি শিশুসন্তানের লাশ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল এবং স্ত্রীর লাশ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো ছিল।

স্বামী মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা, মাদক সেবন করা নিয়ে মাঝেমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর বাগ্বিতণ্ডাসহ টুকটাক ঝগড়া-বিবাদ থাকত। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে স্বামী শাকিল অটো চালাতেন। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরতেন।

স্বামী শাকিল হোসেন জানান, দুপুরের পর অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় স্ত্রী বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য টাকার আবদার করলে তিনি পরের দিন যাওয়ার কথা জানান। স্ত্রী খুব জেদি হওয়ায় তাকে কিছু না বলে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সন্ধ্য়ায় বাড়ি ফিরে অনেক ডাকাডাকি করে ঘরের দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আবছা আলোয় স্ত্রীকে ঝুলন্ত ও সন্তান দুটোকে মরে পড়ে থাকতে দেখেন।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা জেলা আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার

মৃত গৃহবধূর শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন জানান, ‘অন্যের বাড়িতে মজুরের কাজ শেষে সন্ধ্যার পরপরই বাড়িতে ফিরি। ভাত খাওয়ার সময় ছেলের বউ, নাতি-নাতনি কারো কোনো সাড়া না পাওয়ায় অনেক ডাকাডাকি করি। দরজা না খোলায় বাড়ির মধ্যে বরাবর টিনের বেড়া ভেঙে ছেলের ঘরের দরজা খুলে বউমার লাশ নামিয়ে আনি। চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে এবং আমার স্ত্রী নাতি-নাতনি দুটোকে কোলে নিয়ে কান্না শুরু করে।’

মৃত গৃহবধূর মা আনজু আরা বলেন, তার জামাই শাকিল তাদের ফোনে জানান, তাদের মেয়ে সন্তানগুলোকে মেরে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত জামাইয়ের বাড়িতে আসি। তবে তিন মাস আগে মেয়ে জানিয়েছিলেন, জামাই নেশা করেন।

মৃত গৃহবধূর বড় ভাই ও শাকিলের ভগ্নিপতি শাহানুর সজীব বলেন, ‘আমি বিয়ের পর থেকে ছয় বছর এই বাড়িতে পাশাপাশি লাগোয়া ঘরে থাকতাম। বর্তমানে ঢাকায় থাকলেও ছুটিতে এসে গত ১৭ অক্টোবর শনিবার এই বাড়িতেই ছিলাম। বোন আত্মহত্যা করেছে নাকি স্বামী মেরে ফেলেছে, ঘটনাটি বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আমিন শাহ বলেন, তাদের পারিবারিক কলহ ছিল না। কেউ কোনো দিন অভিযোগ দেয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, বোঝা যাচ্ছে না। প্রশাসন এসেছে, তারা তদন্ত করছে। ঘরের দেয়ালে কিছু লেখা ছিল, লেখাগুলি কে লিখেছে, জানা যাচ্ছে না। তবে লেখা ছিল—‘আজ থেকে এ গল্প শেষ। আমি অভাগি মা। আমার সন্তানদের নিজে মারছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোয়, বাবা-মা সরি।’ ‘আই লাভ ইউ’ চিহ্ন ছিল।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা মোটিভ উদ্ধার করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ শুরু করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি, সুরতহাল করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামী শাকিল হোসেন (২৬), শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন (৫০) ও শাশুড়ি রহমত আলা তারা বিবিকে (৪২) হেফাজতে নিয়েছি। লাশগুলোর ময়নাতদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে।’

থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ামাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই।

এলাকাবাসী ক্রাইম স্পটে অনেক ভিড় করে ছিল। দ্রুত এলাকাটি ফাঁকা করে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির ক্রাইম বিশেষজ্ঞ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর লাশগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা সোমবার দুপুরে বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। রাতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামী শাকিল নিজেই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপিবিএনের অভিযানে ৮ কোটি টাকার সোনা, ৮৬২ মোবাইল ও ৬ শিশু উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


এপিবিএনের অভিযানে ৮ কোটি টাকার সোনা, ৮৬২ মোবাইল ও ৬ শিশু উদ্ধার

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সোনা, ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন এবং নিখোঁজ ছয় শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও, মাদক, অস্ত্র, চোরাই মালামাল ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বরে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪ দশমিক ৩৪৪ কেজি সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার হয়েছে। এসব সোনার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ঘটনায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এপিবিএনের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি হ্যাক হওয়া তিনটি ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, তিনটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ও একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টও উদ্ধার করা হয়েছে। বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ শিশু ও ভুক্তভোগী উদ্ধার

নুরুল ইসলাম আরও জানান, সেপ্টেম্বর মাসে এপিবিএনের অভিযানে নিখোঁজ ছয় শিশুসহ ২২ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার অস্ত্র, বিপুল মাদক

অস্ত্রবিরোধী অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮টি ইয়াবা বড়ি, ৬ কেজি ৫৮ গ্রাম গাঁজা, ১৭ দশমিক ২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট ও মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৩৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার চোরাই ও অবৈধ মালামাল

এপিবিএনের অভিযানে নিষিদ্ধ সামুদ্রিক কাঁকড়া ৪৪০ কেজি, তামার তার সাড়ে ৮ কেজি, প্রসাধনসামগ্রী ১ হাজার ৬২ কেজি, ৭৫০ ফুট কারেন্ট জাল, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৭৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ৩০৯ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ২৬২ কেজি কাপড় এবং ২ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া ১০ কেজি নকল গয়না, তিনটি এলইডি মনিটরসহ জিপিএস ট্র্যাকার, ফ্যান ও সোলার প্যানেলের ব্যাটারি এবং চোরাই মালামাল বিক্রির ৫ হাজার ২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে আরও ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

জরিমানা ও গ্রেপ্তার

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪১৮টি মামলার বিপরীতে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই, কাস্টমস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৯ টাকা জরিমানা আদায় ও সাজা দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযানে ৩৪ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ১৪ জন এজাহারনামীয় আসামি ও চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরি, মারামারি, সড়ক দুর্ঘটনা, অপহরণ, ধর্ষণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দস্যুতার বিভিন্ন ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্যও এপিবিএন জানিয়েছে।

পলায়নকালে এফডিএমএন সদস্যদের আটকের ঘটনাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার, একটি মামলা এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। জুয়া খেলার সরঞ্জামের পাশাপাশি ১ হাজার ৮৬০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও অভিযান

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২২টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্প এলাকা থেকে ৫৫ হাজার ৮৮০ টাকা, ৩০টি ইট ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএনের মাধ্যমে মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন ও নাগরিক সেবা সহজ করতে ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সউদীতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


সউদীতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

সউদী আরবে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের (২৫) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার বাবা আব্দুল বাছির ছেলের মৃত্যুর শোকে মুহ্যমান। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে অবস্থিত।

পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, আইনি সহায়তা নিশ্চিত না করে এবং বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এদিকে, গত ১৪ অক্টোবর রাতে নজরুলের মৃত্যুর খবর শুনে তার ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছির ও রহিমা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন নজরুল ইসলাম। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নেন। তবে সউদী আরব যাবার ৬ মাসের মধ্যেই সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মসজিদের ভেতর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।

নজরুলের মা রহিমা বেগমের দাবি, যে মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এছাড়া সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসও কোনো সহযোগিতা করেনি। তিনি দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জানিয়েছেন, নজরুলের মরদেহ বাড়িতে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে জেলা প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলের গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


টাঙ্গাইলের গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এক গৃহবধূকে (২৩) গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে ৬ জন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ. ন. ম. ইলিয়াস দ্বারা ঘোষণা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গহোড় গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রাজন মিয়া, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মো. নিলু মিয়ার ছেলে মো. আমির হামজা, কালিহাতী উপজেলার পৌলি এলাকার মোঃ নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিন, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল এলাকার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে বিপ্লব মিয়া, মঙ্গলহোড় মধ্যপাড়া এলাকার মোঃ মজনু মিয়ার ছেলে মোঃ রিফাত এবং মঙ্গলহোড় এলাকার মোঃ মোবারকের ছেলে আব্দুর রউফ।

সরকারি কৌশুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী গৃহবধূ দেলদুয়ার থানার আটিয়া গ্রামে তার ফুফু শিউলী বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি ফুফুর নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। ওইদিন রাতে মাদারজানি যাওয়ার পথে আসামিরা তাকে জোরপূর্বক মোহন টেক্সটাইল মিলের অফিস রুমে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং তার মোবাইল ও পার্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা দায়ের করেন। দেলদুয়ার থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আজিজুল হক হাওলাদার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে নারীদের হাইজিনের জন্য ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন গাজীপুরের ডিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


কালিয়াকৈরে নারীদের হাইজিনের জন্য ভেন্ডিং মেশিন উদ্বোধন গাজীপুরের ডিসির

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নারীদের হাইজিনের জন্য ভেন্ডিং মেশিনের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল করিম ভূঁইয়া। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচ তলায় এই উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

নুরুল করিম ভূঁইয়া এ সময় উল্লেখ করেন, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা এবং প্রতিটি গার্লস স্কুলে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে।

এর পূর্বে তিনি কালিয়াকৈর থানা, ভূমি অফিস এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফকরুল হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শামসুন্নাহার শিলা, উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুর নবী, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তালুকদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%