শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৭ এম
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় জীবনের প্রথম ভাষণ প্রদানের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
ড. খলিলুর রহমানের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনার সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় আমি আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।" তিনি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।" তিনি স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বীর ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের প্রতি তিনি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, "ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।" চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।"
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করে বলেন, "জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে, আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "একইভাবে, আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নফল সালাতের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য।
হাদিস অনুযায়ী, নামাজ মুমিন এবং অমুসলিমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষের পাপ এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব।
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাল, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো-
ফজর- ভোর ৪: ৩৪ মিনিট
জুমা- দুপুর ১১: ৫৪ মিনিট
আসর- দুপুর ৪: ১২ মিনিট
মাগরিব- সন্ধ্যা ৫: ৫৭ মিনিট
এশা- রাত ৭: ১০ মিনিট
সূর্যাস্ত: ৫.৫২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বিশেষ ভূমিকা না থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের জন্য দেশের জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা নেই, তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশের ওপর পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ COP-31 (কপ-৩১)-এ ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে।
তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশের বন্যা ও খরার প্রভাব থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে, পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।’ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবারে নারী-প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
শিক্ষাখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নৈতিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তি বাড়াতে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে প্রথমবারের মতো স্পোর্টসকে একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। তরুণ জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে জ্ঞান, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই বিভাজনে পরিণত না হয়।’
বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাকে সম্মান করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যেন প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
করোনাভাইরাস মহামারির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এমন সংকটে বৈশ্বিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য থাকে।
ভাষণের শেষ পর্যায়ে নাগরিকের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই যেকোনও সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব কমবেশি পড়ে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে এবং মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ পড়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
তারেক রহমান বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।" বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব— এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।" বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘের মঞ্চে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার প্রসঙ্গও উঠে আসে তারেক রহমানের বক্তব্যে। তিনি বলেন, "স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।" আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায়, তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।
বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ