ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ঠিকাদার তালিকাভুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত ১৩৩ প্রতিষ্ঠান


ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ঠিকাদার তালিকাভুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত ১৩৩ প্রতিষ্ঠান

ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মিনি ঠিকাদার সাময়িক তালিকাভুক্তি প্রক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট এবং আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি নীতিমালা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টি প্রতিষ্ঠান কার্যত বঞ্চিত হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৬ মে ২০২৫ তারিখে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং ১৫ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে বিজ্ঞপ্তিতে আরইবির নির্দেশিকা (১০০-৫২)-এ উল্লেখ না থাকা কয়েকটি অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও লাইনম্যানের সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুরু থেকেই নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এসব শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ হাজার ৬শ’ ৩ পিস ভারতীয় মাদক উদ্ধার

আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেয় রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়। একই সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম। প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে কোনো নোটিশ না দিয়ে ঘোরানো হয় দিনের পর দিন অফিসে। অনেক ঠিকাদার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ সময় পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পূর্বে তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারকে নিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হিসেবে ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হাসান সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে তিনি পুরো তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন।

তাদের অভিযোগ, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গোপনে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব রংপুরে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানার পর রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সব প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে আবারও একই ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ১০ মে ওই ৩১টি এবং ২১ মে আরও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কালকিনিতে আন্তঃ ঠেংগামারা ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন, মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম

ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডারের মাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছি। এবারও নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে দূরের জেলার প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্বেও রাজনৈতিক তদবির ও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, “সেখানে ইঞ্জিনিয়াররাই বিষয়টি দেখাশোনা করেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার চার-পাঁচ মাস হয়ে গেছে। বিষয়টি আমার মনে নেই।”

ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঠিকাদার তালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই। যাচাই-বাছাই কমিটিতে আমি শুধু একজন সদস্য ছিলাম।”

আরও পড়ুন: পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, “মিনি ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি অতীতের। আগে কীভাবে হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “মোট ১৭৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সঠিক থাকায় প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠায়। আমি দুইবার নির্দেশনা দিয়েছি, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।”

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের আশঙ্কা, মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত রাখলে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎসেবায় ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন। বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বিলম্ব, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং গ্রাহক হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবছর নবায়ন ফি থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রাথমিকভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বিধি অনুযায়ী সাময়িক তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহ প্রেস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক বিএম আনোয়ার হোসেন আর নেই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ১৪ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


দেশের ১৪ অঞ্চলের নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্ক সংকেত জারি

দেশের ১৪টি অঞ্চল জুড়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সতর্কবার্তা রবিবার (৫ জুলাই) দিনেই প্রদান করা হয়েছে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার জন্য বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক গোপন পথের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক গোপন পথের সন্ধান

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। এই সব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে স্বাধীনভাবে যাতায়াত করছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের কাটানো অংশ এখন শুধু যাতায়াতের জন্য পথ নয়, বরং ইয়াবা পাচার, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কালবেলার একটি প্রতিবেদনে এসবের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে এমন কিছু পথ তৈরি করা হয়েছে যা মানুষের চলাচলের উপযোগী। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো অংশ সরিয়ে মুক্ত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র মতে, দিনের পাশাপাশি রাতের অন্ধকারেও এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি এবং শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কাটা অংশ দিয়ে প্রতিদিনই যাতায়াত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। এসব পথ বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং পুরো উখিয়া-টেকনাফের জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যারা অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।

উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেছেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পের বাইরের রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাওয়ার ফলে ইয়াবা পাচার, অপহরণের মতো নানা অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বেড়া নির্মাণই যথেষ্ট নয়, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেছেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সে বেড়া যদি কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি হয়, তাহলে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। বিষয়টি কেবল স্থানীয় নিরাপত্তার নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অবিলম্বে কাটা অংশ মেরামত ও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির জানাজা পড়ানো আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


খামেনির জানাজা পড়ানো আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী কে?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারে চার সদস্যের প্রথম জানাজা তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) এই জানাজায় বিশ্বের প্রায় ১০০ দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। জানাজার নামাজে বিশেষ ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী।

গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ সোবহানী ইরানে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তার বয়স বর্তমানে ৯৭ বছর। তিনি কোম সেমিনারির মুজতাহিদদের কাউন্সিলের একজন শীর্ষ সদস্য। কোম সেমিনারি দ্বাদশী শিয়া মতবাদের শিক্ষা ও গবেষণার দুটি প্রধান কেন্দ্রের একটি।

গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ সোবহানী ইরানের ইমাম সাদিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক। এর আগে তিনি কোমের সোসাইটি অব সেমিনারি টিচার্সের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলামী জ্ঞানের প্রায় সকল শাখায় তার গবেষণা ও অবদান ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার কাজ সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়িত হয়ে থাকে, এবং তিনি একজন অত্যন্ত প্রাজ্ঞ লেখক। তিনি ৩০০টিরও বেশি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ এবং প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, রোববারের এই জানাজার নামাজে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শোকাহত মানুষ এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসা সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনের গণবিদায় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে খামেনির জানাজার শোভাযাত্রা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হবে। এতে তেহরানের বিপুলসংখ্যক মানুষ এবং ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা সমর্থকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

এরপর মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজার জন্য কোম শহরে নেয়া হবে।

এছাড়া, ইরাকি কর্মকর্তাদের অনুরোধে বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার শিয়াদের পবিত্র শহর মাশহাদে তার মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

মনে রাখবেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্য—ড. মেসবাহ আল-হোদা (মেয়ে জামাতা), সাইয়্যেদেহ বুশরা হোসেইনি খামেনি (কন্যা), জাহরা হাদ্দাদ আদেল (পুত্রবধূ) এবং জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানি (নাতনি) নিহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে: গণপূর্তমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


কুমিল্লায় ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে: গণপূর্তমন্ত্রী

কুমিল্লায় ৫০০ বা ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।

শনিবার (৪ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লার উন্নয়ন অগ্রগতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নবিষয়ক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেছেন।

তিনি এই সময় উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ঢাকা-কুমিল্লা রেল কর্ডলাইন স্থাপনের প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। কুমিল্লায় ৫০০ বা ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, কুমিল্লার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কুমিল্লার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এবারও উন্নয়ন কার্যক্রম ভিত্তিক একটি চিত্রও ফুটে উঠবে। একটি বিভাগীয় শহরে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকে, কুমিল্লায় তার চেয়ে বেশি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%