হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি
০৮:১৮ পি.এম
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের অবস্থিত হলি কেয়ার হাসপাতাল লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমান আগামী ৭ দিনের মধ্যে বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে হাসপাতালটি সিলগালা করা হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে প্রায় ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল আজিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এই সময় তারা হলি কেয়ার হাসপাতাল, ইউনাইটেড ক্লিনিক এবং হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে হলি কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে পারেননি। হাসপাতালটিতে কোনো ল্যাব টেকনোলজিস্ট, পর্যাপ্ত সংখ্যক সেবিকা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান। এসব অনিয়মের কারণে হাসপাতালটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৭ দিনের মধ্যে সকল কাগজপত্র বৈধভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, ইউনাইটেড ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকেও ২ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যার পর হলি কেয়ার হাসপাতালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রামের অন্তঃসত্ত্বা নারী মনি নামে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের সময় গুরুতর চিকিৎসাগত জটিলতার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে যে, অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতির পেট কেটে সন্তান প্রসব না করিয়ে পুনরায় সেলাই দিয়ে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জরুরি মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় সফলভাবে প্রসূতির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। প্রসূতির স্বজনদের দাবি, হলি কেয়ার হাসপাতালের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর শরীরে ৮ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
প্রসূতির ভাই অভিযোগ করে বলেন, বরিশালে নেওয়ার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একবার খোঁজখবর নিলেও পরে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ বা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। বর্তমানে প্রসূতি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নবজাতকের শারীরিক অবস্থাও সন্তোষজনক নয় বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, হাসপাতালটির দায়িত্বজ্ঞানহীন চিকিৎসাসেবার কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। অভিযানের সময় হাসপাতালটি প্রায় রোগীশূন্য অবস্থায় দেখা যায়, যা স্থানীয়দের আস্থাহীনতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জনস্বার্থে হলি কেয়ার হাসপাতালের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনগত শর্ত পূরণ না করলে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে এনসিপির নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবীনদল একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবীনদল হোসেনপুর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি নতুন বাজার গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাপ্ত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবীনদল কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হোসেনপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সজিব মিয়া।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার সহ-সভাপতি আব্দুল আওয়াল, সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আলম অপু, হোসেনপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন, পৌর শাখার সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ইমন এবং সাধারণ সম্পাদক এয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃত্বর প্রতিনিধিরা।
বক্তারা BNP ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং শতভাগ আমদানি-বিকল্প বা ‘স্যাংশন প্রুফ’ যাত্রীবাহী বিমান এমসি-২১ এবং আঞ্চলিক এসজে-১০০ এর সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে।
এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন কয়েক দিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক এভিয়েশন প্ল্যান্ট আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে বিমান শিল্পে নিজেদের সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল করতে রোস্টেকের অধীন ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশন (ইউএসি) এই মাইলফলক অর্জন করেছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নিজস্ব বেসামরিক উড়োজাহাজ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নতুন রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে এই পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া।
ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ইরকুতস্ক এভিয়েশন প্ল্যান্টের রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর এমসি-২১-৩১০ বিমানটি ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট আকাশে ছিল।
এ সময় বিমানটি ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করে এবং ৬ হাজার মিটার (প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ ফুট) উচ্চতায় উড়ে।
পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষে প্রধান পরীক্ষামূলক পাইলট রোমান তাসকায়েভ বলেন, “গণউৎপাদন লাইনে তৈরি প্রথম বিমানটি অত্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং নির্ধারিত ফ্লাইট পরিকল্পনা পুরোপুরি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভাদিম বাদেখা জানান, ইরকুতস্ক কারখানায় প্রথম ধাপে ১৮টি এমসি-২১ বিমান উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, গত ২৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট পুতিনের কারখানা পরিদর্শনের পর সরকার প্রকল্পটির জন্য অতিরিক্ত উৎপাদন আদেশ অনুমোদন করেছে।
ওই সফরে পরীক্ষামূলক পাইলটরা এমসি-২১-এর ফ্লাইট পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
২০০৯ সালে এমসি-২১ প্রকল্প চালু করা হলেও শুরুতে ২০১৬ সাল থেকেই এর গণউৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সেসব যন্ত্রাংশের দেশীয় বিকল্প তৈরিতে বিলম্বের কারণে প্রকল্পটির সময়সূচি বারবার পিছিয়ে যায়।
তবে প্রকল্পের নির্মাতাদের দাবি, বর্তমানে এমসি-২১ সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ায় উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে।
এমসি-২১-৩১০-এ রাশিয়ার নিজস্ব পিডি-১৪ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, দেশীয় অ্যাভিওনিক্স, কম্পোজিট উপাদান এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার লক্ষ্য, এই বিমানকে দেশীয় এয়ারলাইনগুলোর জন্য এয়ারবাস এ৩২০ এবং বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো।
রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা শিল্পগোষ্ঠী রোস্টেক, যার অধীনে ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশন পরিচালিত হয়, জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এমসি-২১-এর পূর্ণাঙ্গ সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর কয়েক মাস পরই বিমানটির বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এমসি-২১ প্রকল্পের প্রধান নকশাবিদ ভিতালি নারিশকিন বলেন, পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চলাকালেই সমান্তরালভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার ফলে সার্টিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর বিমান সরবরাহ শুরু করতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
তার ভাষায়, “পরীক্ষা ও উৎপাদন একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার ফলে সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর গ্রাহকদের কাছে বিমান সরবরাহ শুরু করার ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এমসি-২১ শুধু একটি নতুন যাত্রীবাহী বিমান নয়; এটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার শিল্প সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতারও বড় পরীক্ষা।
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেশন সম্পন্ন হয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী গণউৎপাদন শুরু করা যায়, তাহলে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিদেশি নির্মাতাদের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।
পাশাপাশি দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বিমান শিল্প কৌশল বাস্তবায়নেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের বৃহত্তম শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর উপ-পরিচালক জুম্পেই তানিগুচির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
আজ সোমবার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে।
প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য হচ্ছেন জাপানের রিটসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি কোয়ো তোকুরিকি।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল এবং ড. মো. মনির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘ক্লিন ঢাকা ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যেখানে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়া, জনগণের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন এবং ‘ক্লিন ঢাকা ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গভীর আগ্রহ প্রকাশের জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মন্ত্রিসভা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই নতুন আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে।
এতে আরও বলা হয়, আইনটিতে গুম হয়েছে এমন ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের জন্য তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; যদি তা সম্ভব না হয় তবে রাষ্ট্র থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, এই আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য অনুমতি, পাঁচ বছর পরে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নকরণ এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, যদি মরদেহ পাওয়া যায় বা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ