০৭:৩৫ পি.এম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান অনুমোদিত পথেই জাহাজ চলাচল করতে হবে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কেবল তেহরান-নির্ধারিত পথই ব্যবহার করতে হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই অঞ্চলে একমাত্র যে আইনটি কার্যকর, তা হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনীর আইন। অন্যদিকে, আইআরজিসি নৌবাহিনীর হুঁশিয়ারির পর হরমুজ প্রণালী থেকে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ফিরতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়াও, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সতর্ক করে জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। জাহাজ চলাচলের তথ্য-উপাত্ত (ট্র্যাকিং ডেটা) থেকে দেখা যায়, সমুদ্রপথে যান চলাচল যুদ্ধের আগের তুলনায় সামান্য কম পর্যায়ে রয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে তুলনায় শুক্রবার এই প্রণালী দিয়ে কম সংখ্যক জাহাজ চলাচল করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওমান উপকূলের কাছে তাইওয়ানের পরিচালনায় থাকা একটি জাহাজে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিকের জন্য তাদের স্বেচ্ছায় সরে আসার কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
আরও পড়ুন: সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর
লএসইজি, মেরিনট্রাফিক এবং কেপলার-এর ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অন্তত চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার—যার মধ্যে তিনটি অত্যন্ত বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি অন্তর্ভুক্ত—উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও দুটি সুপারট্যাঙ্কার তেল সংগ্রহের জন্য প্রণালীতে প্রবেশ এবং প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি জাহাজ ওমান উপকূল হয়ে বেরিয়ে গেছে।
কেপলারের তথ্যমতে, শুক্রবার উভয় দিক মিলিয়ে মোট ১৩টি ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে। যেখানে গতকাল এই সংখ্যা ছিল ২৪ এবং বুধবার ছিল ২৭। সংঘাত শুরুর সময়ে এই জলপথে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজের চলাচল ছিল। এএক্সএসমেরিন-এর পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৪ জুন ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ারসহ মোট জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল ৬২টি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে সর্বাধিক দৈনিক সংখ্যা হলেও, গত বছরের একই দিনে রেকর্ড করা সংখ্যার সাথে তুলনা করলে তা মাত্র ৫৩ শতাংশ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, ‘অনুমতি ছাড়া’ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা অন্তত তিনটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আইআরজিসি-র সতর্কবার্তার পর ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তু (প্রজেক্টাইল) হামলার শিকার হয়েছিল। এর ফলে, হরমুজ প্রণালীতে অবস্থানরত ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় জাতিসংঘ।
তেহরান এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ দিয়ে চলাচলের বিরুদ্ধে একাধিকবার সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করেছে
সূত্র: আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন