০৬:৩৪ পি.এম
গ্রেড ফোরের মধ্যেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী। ইংলিশ-মিডিয়ামের নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৬ সালে হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা হলো হাফেজ সাইয়েদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হাফেজ এস কে তানজিম আলম জাকি, হাফেজ মাহদি হাসান, মো. রবিউল হাসান এবং হাফেজ ফাহমিদ শাহরিয়ার তাম্মাম।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকেই স্কুলের মূলধারার ইংলিশ-মিডিয়াম একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেই হিফজ সম্পন্ন করেছে। স্কুলটিতে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলা, আইসিটি ও ইসলামিক স্টাডিজসহ নিয়মিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে কায়দা, নাজেরা ও হিফজুল কুরআনের শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুলের প্রকাশিত একাডেমিক কাঠামোতেও গ্রেড ১ থেকে ৫ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি Nazera ও Hifzul Qur’an Programme অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মো. রবিউল হাসান ইতোমধ্যে মিশরে গিয়েছে এবং বর্তমানে আল-আযহারের Pre-Azhar Programme-এ অধ্যয়ন করছে। এর আগে ভর্তি পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে রবিউল হাসানসহ রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তিন শিক্ষার্থী এ প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন: জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের উদ্যোগে দুই হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত
রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষা-পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, হিফজকে আলাদা কোনো আফটার-স্কুল কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা না করে নিয়মিত শিক্ষাজীবনের অংশ হিসেবে রাখা। শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী নতুন সবক, নিয়মিত মুরাজাআহ এবং একাডেমিক পাঠের মধ্যে একটি নির্ধারিত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
বাংলাদেশের প্রথম ফুল-টাইম হিফজভিত্তিক ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুল হিসেবে পরিচিত রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংলিশ-মিডিয়াম শিক্ষার সঙ্গে পূর্ণকালীন হিফজুল কুরআন, আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে এ পরিচয়ে আগেও সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিফজ কার্যক্রমের ফলও গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রথম, ২০২৪ সালে দ্বিতীয় এবং ২০২৫ সালে তৃতীয় হিফজ কনভোকেশন আয়োজন করে রূহ। স্কুলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে মাহদি হাসান হিফজ সম্পন্ন করার সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির ২১তম হাফেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মুনাইম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু কম বয়সে একটি শিশুর হিফজ সম্পন্ন করানো নয়। আমরা চাই, সে কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক শিক্ষা, ভাষাগত দক্ষতা, উত্তম চরিত্র এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করুক। গ্রেড ফোরের মধ্যেই পাঁচজন শিক্ষার্থীর হিফজ সম্পন্ন করা এবং তাদের একজনের আল-আযহারের Pre-Azhar Programme-এ মিশরে অধ্যয়ন শুরু করা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এর পেছনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও উস্তাদদের দীর্ঘদিনের শ্রম রয়েছে।”
আরও পড়ুন: মাস্টারদা সূর্যসেন হল অ্যালামনাই কমিটির সভাপতি ডাবলু, সেক্রেটারি পলাশ নির্বাচিত
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যেন দেশের প্রচলিত একাডেমিক ধারা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা—দুই পথেই এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই স্কুলটির একাডেমিক কাঠামো আরও উন্নত করা হচ্ছে।
ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত রূহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নিবন্ধন পেয়েছে। ২০২৫ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠানটিকে বিদেশি কারিকুলামের অধীনে সাময়িক নিবন্ধনের অনুমতি দেয়।
রূহ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের লক্ষ্য হিফজ এবং সাধারণ শিক্ষাকে দুটি পৃথক শিক্ষাধারা হিসেবে না দেখে এমন একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী কুরআনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেই পরবর্তী পর্যায়ের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
আরও পড়ুন: শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, তদন্ত কমিটি গঠন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন