০৬:৩৫ পি.এম
কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল অন্তঃসত্তা নারী ও সাধারণ রোগীদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধার্থে কর্দমাক্ত সড়ক সংস্কারের জন্য। কিন্তু বাস্তবে সেই সরকারি টাকায় পাকা করা হয়েছে স্থানীয় এক নেতার বাড়ির প্রবেশপথ। ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির টাকা এভাবে নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দুই ধাপে ৪০০ মিটার রাস্তার সলিংকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামতগঞ্জ বাজারের মূল সড়ক থেকে উত্তর দিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করতে হবে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটি আগের মতোই অবহেলিত ও কর্দমাক্ত রয়ে গেছে। অন্যদিকে, বরাদ্দের টাকায় পাকা করা হয়েছে বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুদ্দিন শাহিন মালতিয়ার বাড়ির প্রবেশপথ।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে খাস জমিতে ১৮ দোকান, ইজারা না হওয়ায় বন্ধ রাজস্ব আদায়
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্ষা মৌসুমে কেরামতগঞ্জ বাজারসংলগ্ন চর মাদ্রাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা রোগীদের এই কর্দমাক্ত পথ দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা-নেওয়া করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জনকল্যাণমূলক কাজের বরাদ্দ ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার সবুজের কাছে কাজের অনিয়ম নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আগে যা হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার দরকার নেই। আমি আমার পকেটের টাকা দিয়ে হাসপাতালের সামনের রাস্তা পাকা করে দেব।"
চরফ্যাশন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, "আমি ঠিকাদারকে বারবার বলেছি, অন্য কিছু যা হয়েছে, অন্তত হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি যেন পাকা করা হয়। কিন্তু তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।"
তবে কাজ যথাযথভাবে না হওয়ার পরও বরাদ্দের অর্থ কেন আটকে দেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, "সরকারি কর্মকর্তারা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারেন না, এটা আপনাকে বুঝতে হবে।"
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ৩০
প্রকল্পের সভাপতি ও চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, "পিআইও ওয়ালিউল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে প্রকৃত ঘটনাটি জানা যাবে। তখন সমাধান করা যাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন