মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫২ এম
কুড়িগ্রামের সাংবাদিক ও স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ জুবায়ের-এর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১টায় কুড়িগ্রাম শহরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়েরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের সাংগঠনিক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে।
এ কর্মসূচিতে কুড়িগ্রামে কর্মরত সকল প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ মাসের চলমান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক উভয় ধরনের অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, অস্ত্রের মজুদ হ্রাস পাচ্ছে, ফলে তেহরানে হামলা চালাতে পারছে না ওয়াশিংটন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে ইরানের সঙ্গে।
তবে এ ধরনের গণমাধ্যমের দাবি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক রয়েছেন যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপর, বিশেষ করে ‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ‘থ্যাড’ সিস্টেমে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মজুদ কমে যাওয়ার কারণে মার্কিন বাহিনীর সামনে উপস্থিত ঝুঁকি ব্যাপক হয়ে উঠছে। ফলে এই অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং তার বাইরের মিত্র দেশগুলোর ওপরও।
এদিকে মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান মজুদের ঘাটতির দাবি নাকচ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, যা প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি।’ তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ‘ক্রুকড জো বাইডেন’ (প্রতারক জো বাইডেন) এবং তার প্রশাসন ইউক্রেন ও ইউরোপকে বিনামূল্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দিয়ে দিয়েছে, যা ছিল তাদের বোকামির উদাহরণ।
তিনি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইউক্রেনে হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করে কথা বলেন। ট্রাম্প অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন আদৌ সময়মতো বাড়ানো সম্ভব কি না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা ইউরোপে এবং অন্যান্য অঞ্চলের মিত্রদের কাছে আরও বেশি অস্ত্র সরবরাহের কাজ শুরু করবেন। অন্যদিকে, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলও এ বিষয়ে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংকটের মুখে নেই।
পার্নেল আল-জাজিরাকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্টের পছন্দ দিয়া সময় ও স্থানে যে কোনো অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কিছু তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জনগণ এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে সক্ষমতার বিশাল ভাণ্ডার নিশ্চিত করতে হয়েছে এবং আমরা বিভিন্ন যুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছি।
সরবরাহ ঘাটতির খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সোমবার বেশ কিছু প্রতিবেদন বলছে, পরিস্থিতি হয়তো মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে বলা কথার চেয়ে গুরুতর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে যে, যুদ্ধের আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যে পরিমাণ ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ছিল, তার ৮০ শতাংশ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই অবস্থাকে ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ বলে অভিহিত করেছে।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দ্রুত এ ৮০ শতাংশ পরিসংখ্যান এবং এর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি সোমবার এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘সত্য নয়’ এবং ‘লজ্জাজনক’। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর ২৭ জুলাই প্রকাশিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই সময় পর্যন্ত সেনাবাহিনীর কাছে তাদের ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের এক-তৃতীয়াংশের সামান্য বেশি এবং ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক অবশিষ্ট ছিল।
সিএসআইএস-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থা যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। রয়টার্স এবং সিবিএস নিউজ পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, সামরিক বাহিনী তাদের ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর সিংহভাগ ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টরের বিপরীতে, অত্যন্ত নির্ভুল ও দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত আক্রমণাত্মক অভিযানে ব্যবহৃত হয়। দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় সকলই ব্যবহার করা হয়ে গেছে।
গোলাবারুদের ঘাটতির কারণে কোনো ঝুঁকির কথা ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। অথচ প্রশাসন তাদের ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা বাজেটে ৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং মজুত পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত ২১ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে।
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জুলাইয়ের শেষের দিকে জানায়, ওই মাসের সংঘাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ট্রাম্পের সরে আসার পেছনে অস্ত্র সরবরাহের উদ্বেগ ছিল অন্যতম কারণ।
জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) লড়াই থামানোর জন্য হলেও পরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক উভয় ধরনের অস্ত্রের ঘাটতির ফলে মার্কিন বাহিনী অরক্ষিত হয়ে পড়ে। মার্কিন মেরিন কোরের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, আক্রমণাত্মক এটিএসিএমএস এবং পিআরএসএম-এর ঘাটতির কারণে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লা আক্রমণের সক্ষমতা কমে যায়। ফলে বাহিনীকে কম দূরত্বের আক্রমণের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়, যা তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
ক্যানসিয়ান আরও বলেন, এটিএসিএমএস এবং পিআরএসএম-এর মজুদ ফুরিয়ে গেলে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যেমন আকাশপথ বা সমুদ্রপথ থেকে হামলা। সেক্ষেত্রে সম্ভবত ‘জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল’ অথবা ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে বা শত্রুর আকাশসীমার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ওড়াতে হবে। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রথমেই অকার্যকর করতে হতে পারে।
ক্যানসিয়ান বলছেন, বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পরিস্থিতি ‘অনেক বেশি গুরুতর’। তিনি বলেন, আমরা যখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা করছি, তখন দেখা যায় আমাদের হাতে খুব বেশি ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট নেই এবং এগুলোর কোনো ভালো বিকল্পও নেই। যদি আমাদের ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে যায়, তবে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়বে।
জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ১৭ জুলাইয়ের হামলার বিষয়টি আরও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওই হামলায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও জর্ডানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল এবং এর ফলে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন।
পাঁচ মাসের যুদ্ধের পর, যদিও ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়, তবে ক্যানসিয়ানের মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে তেহরানের পক্ষে মার্কিন ইন্টারসেপরগুলোর মজুদ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ করা সম্ভব নয়। তবুও মার্কিন মজুদের বর্তমান অবস্থায় ইরানি হামলা প্রতihত করতে প্রতিটি ইন্টারসেপরের ব্যবহার হওয়া মানে ‘চীন’-এর মতো সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
ক্যানসিয়ান বলেন, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অর্থ হলো চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র কমে যাওয়া। আমরা এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছি যেখানে ‘জয়েন্ট স্টাফ’ সত্যিই উদ্বিগ্ন।
এদিকে এনবিসি নিউজসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর দিয়েছে যে, যেসব ইরানি হামলায় ক্ষতির আশঙ্কা কম, সেগুলো প্রতিহত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে আরও সতর্ক ও বিচার-বিবেচনামূলক কৌশল গ্রহণ করেছে। এ কৌশলটি ইন্টারসেপটরের মজুদ রক্ষায় সহায়তা করবে, তবে এর ফলে ভুল হিসাব-নিকাশ বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত খবর মিত্রদেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের উদ্রেক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোর কাছে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং কিছুটা কম পরিমাণে ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করে থাকে। গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারকে অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ও সংশ্লিষ্ট সেবা বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, জর্ডান এবং ইসরায়েলকেও দীর্ঘদিন ধরে এসব অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্রদেশগুলোর কাছে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহে ইতোমধ্যে বিলম্ব হয়েছে; তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের জন্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে এখনো কোনো বিলম্বের কথা জানা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে ক্যানসিয়ান উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি হয়তো পরিবর্তিত হবে এবং নিজেদের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি সংখ্যক ইন্টারসেপর নিজের কাছে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে, রুশ হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ কমে যাওয়া নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে যাচ্ছেন। তিনি বারবারই ইউক্রেনে এই অস্ত্র উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন, কিন্তু বর্তমানে কেবল জাপান ও জার্মানিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৫ আগস্ট), জেলেনস্কি জানান, মিত্রজাতিগুলি কিয়েভকে বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর অনেক কম সরবরাহ করেছে; গত বছরের একই সময়ে এই সরবরাহের পরিমাণ ছিল মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ক্যানসিয়ানের মতে, বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপটরের স্বল্পমেয়াদী ঘাটতি দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন, অর্থ কোনো সমস্যা নয়, আসল সমস্যা হলো সময়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ফের ফিলিস্তিনের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। দেশটি এবারে জানান দিচ্ছে, সামরিক হামলা কিংবা নিষেধাজ্ঞা দ্বারা তাদের অবস্থান দুর্বল করা সম্ভব নয়। হামাসের নতুন পলিটব্যুরো প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক ফোনালাপে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নানা সংকট সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ইস্যু মুসলিম বিশ্বের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইরানের অব্যাহত সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ফোনালাপে আল-হাইয়াকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় অভিনন্দনও জানান ইরানি রাষ্ট্রপতি। তিনি একই সঙ্গে গাজার মানুষের সেবায় তার সফলতা কামনা করেছেন।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ প্রশংসার দাবিদার। তার কথায়, ইরানের হৃদয় সর্বদা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গেই রয়েছে। অতএব, তাদের প্রতি সব সম্ভাব্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি যোগ করেন, সম্প্রতি ইরান নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মুখে পড়েছে। কিন্তু তাতেও তেহরানের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার দাবি, ফিলিস্তিন ইস্যু এখনও ইরানের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও ইসলামী বিপ্লবের নেতা রা এই অবস্থান থেকে কখনো সরে আসেননি।
হামাসের পক্ষ থেকে ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়া। তিনি তেহরানে ইসমাইল হানিয়ারের শাহাদাতকে ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসাবে উল্লেখ করেন। আল-হাইয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলকে অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং জানান, নানা চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও ইরান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছে।
গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও আল-আকসা মসজিদের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন হামাস নেতা। অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হামাস অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে যে লক্ষ্য ইসরায়েল অর্জনে ব্যর্থ, আলোচনার টেবিলেও তা অর্জনে দেওয়া হবে না।
এছাড়া উল্লেখ্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরে হামাসকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সমর্থন দিয়ে আসছে। তেহরান রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি হামাসের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনও অব্যাহত রেখেছে। হামাসও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানকে অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পরও ব্যাপক বিরোধীতার মুখে রয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচনার মধ্যেই মরক্কোকে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি কাসাব্লাঙ্কায় আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যৌথ আয়োজক স্পেন ও পর্তুগালকে বাদ দিয়ে ইনফান্তিনো ফাইনালের মহারণের আয়োজনের প্রস্তাব আফ্রিকান দেশটিকে দিয়েছেন। মরক্কো প্রস্তাবিত ‘হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম’-এ ফাইনাল আয়োজনের লক্ষ্য স্থির করেছে; স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার।
পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার লুইস ফিগো ২০১৫ সালে ফিফা সভাপতি পদে লড়ার পরিকল্পনা করেও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ইনফান্তিনোর আচরণকে তিনি ‘সবচেয়ে নিচু মানের, প্রতারণাপূর্ণ এবং কাপুরুষোচিত স্বার্থপরতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
ডেইলি মেইল-এর একটি কলামে ফিগো লিখেছেন, “ফিফার সমস্যাগুলো নিয়ে আমি ১০ হাজার শব্দ লিখতে পারি। কিন্তু সমাধানের জন্য মাত্র তিনটি শব্দই যথেষ্ট, ইনফান্তিনোকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে।” ফাইনাল আয়োজনের এই পরিকল্পনা যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম যৌথ আয়োজক স্পেনের জন্য বড় ধাক্কা হবে। কারণ দেশটি সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা করছিল।
আগামী বছরের মার্চ মাসে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই নতুন প্রস্তাবটি ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক লবিং বা প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল-এর শীর্ষস্থানীয় কমিটির সদস্যরা সহ-সভাপতি ফৌজি লেকজা মরক্কোর নাগরিক ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ এই সময়ে তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে।
অন্যদিকে স্পেনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনটি এর আগে এক বিবৃতিতে বলেছিল, “সমস্যাটি কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে নয়। মূল সমস্যা হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা বা ‘গভর্নেন্স মডেল’, যা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে, জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য কমিয়ে দেয় এবং সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাবিত পক্ষগুলোকে পাশ কাটিয়ে যায়।” এসব কারণেই তারা মনে করেন, “জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আর ফিফার নেতৃত্বে থাকা উচিত নয়।”
স্পেনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, “বিশ্ব ফুটবলের এমন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন যা এর পরিচালনা ব্যবস্থাকে আধুনিক করবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করবে।” পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেছেন যে, “কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ক্রীড়াগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব আগেভাগে মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন মৌসুমের আগে ইউরোপীয় ফুটবলের দলবদল বাজারে উত্তাপের হাওয়া বইতে চলেছে। রিয়াল মাদ্রিদ একটি নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যার উদ্দেশ্য আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করা এবং টানা ব্যর্থতা থেকে বেরোনো। তাই আরবি লাইপজিগের আইভরিয়ান সেনসেশন ইয়ান দিওমান্দেকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তরুণ উইঙ্গার প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ইউরো (অ্যাড-অনসহ) মূল্যে আরবি লাইপজিগ থেকে রিয়ালে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ইয়ান দিওমান্দে ফিফা বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে অসাধারণ খেলে সকলের নজর কাড়েন। ওই টুর্নামেন্টে, তিনি দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন।
বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ইভরি কোস্ট ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। সেই ম্যাচে দিওমান্দে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কুরাকাওয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও তিনি একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। দেশের হয়ে খেলতে গিয়ে প্রতিটি ম্যাচে তিনি মাঠে ছিলেন এবং দলটি প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
গত মৌসুমে লাইপজিগের অধীনে দিওমান্দে ১৩টি গোল করেছেন এবং ১০টি গোলে সহায়তা করেছেন। তিনি আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে একটি হ্যাটট্রিকও করেন, যা বুন্দেসলিগার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হয়। এর আগে ১৯৬৫ সালে ওয়াল্টার বেখটোল্ড এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
জার্মানি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, দিওমান্দের এই চুক্তিতে ১২৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি নিশ্চিত ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তিতে কিছু শর্ত বা ‘অ্যাড-অন’ রয়েছে, যার ফলে ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটিকে আরও ১৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে হতে পারে।
১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার নতুন কোচ হোসে মরিনহোর সর্বশেষ সংযোজন। ২০২৬-২৭ মৌসুমের আগে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মরিনহো ইতিমধ্যে বার্নার্ডো সিলভা, ডেনজেল ডামফ্রিস, ইব্রাহিমা কোনাতে, কার্লোস এসপি এবং বিশ্বকাপজয়ী মার্ক কুকুরেয়াকে দলে যোগ দিয়েছেন।
দিওমান্দের আগমনের ফলে, শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য নিয়মিত উইঙ্গার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে তাকে, যদিও ভিনিসিয়াসের আর্সেনালে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন চলছে। ভিনিসিয়াস স্প্যানিশ রাজধানীতে আট মৌসুম কাটিয়েছেন এবং তার চুক্তির মেয়াদ এখন মাত্র এক বছর বাকি রয়েছে। বর্তমানে তিনি উচ্চ বেতনের দাবি জানাচ্ছেন।
যুক্তরাজ্য থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবরের ভিত্তিতে, রিয়াল মাদ্রিদ এই ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ডের জন্য উন্নত বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে, ভিনিসিয়াস ক্লাবের সমর্থকদের অত্যন্ত প্রিয় একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। তিনি ‘লস ব্লাঙ্কোস’-এর হয়ে দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও তিনটি লা লিগা শিরোপা সহ মোট ১৪টি বড় ট্রফি জিতেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ