০৫:৩৫ পি.এম
ছবি: এনডিটিভি
বর্তমানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আজ থেকে কার্যকর হয়েছে ভারত এবং ওমানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। এই যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় কৌশলগতভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাসকাট সফরের সময় এই ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির আওতায় ভারতের শ্রমঘন খাতের রপ্তানি পণ্যগুলোর ওপর ওমান শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করছে।
আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধী: আন্দোলন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত ইন্ডিয়া জোটের, কর্মসূচি একদিন পেছানো
ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি নতুন বাজার উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে, রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে শিক্ষার্থী, কারিগর, নারী, কৃষক, জেলে ও মাঝারি শিল্পগুলোর (এমএসএমই) জন্য বৈশ্বিক সমৃদ্ধির পথ তৈরির উদ্দেশ্যে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ২৫ শতাংশ পরিবাহিত হচ্ছে, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চলমান সংঘাতের কারণে, হরমুজে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মতো, ওমান হরমুজ প্রণালির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। ওমানের উপকূলভাগের একটি বড় অংশ এই প্রণালির বাইরে সরাসরি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থিত।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানান, ওমানের এই কৌশলগত অবস্থানের কারণে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলেও সালালাহ এবং দুকম-এর মতো বড় বন্দরগুলো সচল থাকে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বা অস্থিতিশীলতার সময়, ওমান একটি নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য ও জ্বালানি পথ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিউনিখ স্মৃতিসৌধে ভাঙচুর ও চুরি
উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিগুলো থেকে ভারতের আমদানি ২০২৫ সালের এপ্রিলে যেখানে ১৫ বিলিয়ন ডলার ছিল, তা ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে কমে ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ভারতের রপ্তানি ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
তবে, ওমানের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। অপরিশোধিত তেল ও ইউরিয়া ক্রয় বৃদ্ধির ফলে, ওমান থেকে ভারতের আমদানি ২৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, ওমানে ভারতের রপ্তানি কমেছে মাত্র ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
সেপা চুক্তির আওতায়, মাসকাট তাদের ৯৮ দশমিক ০৮ শতাংশ শুল্ক লাইনে শূন্য-শুল্ক সুবিধা প্রদান করছে, যা ওমানে ভারতের মোট রপ্তানির ৯৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ কভার করে। এর আগে এই সুবিধা ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে, রত্ন ও অলংকার, টেক্সটাইল, চামড়া, পাদুকা, খেলাধুলার সামগ্রী, প্লাস্টিক, আসবাবপত্র, কৃষি পণ্য, প্রকৌশল পণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মোটরগাড়ির মতো প্রধান শ্রমঘন খাতগুলো সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
২০২৬ অর্থবছরে ওমানে ভারতের মোট রপ্তানি ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য যেমন পেট্রল (৭৮১ মিলিয়ন ডলার) ও ন্যাপথা (৭৪৬ মিলিয়ন ডলার)। এ ছাড়া, ক্যালসাইন্ড অ্যালুমিনা (২৭৭ মিলিয়ন ডলার), লোহা ও ইস্পাত পণ্য (২৩০ মিলিয়ন ডলার), যন্ত্রপাতি (১৭৮ মিলিয়ন ডলার) এবং চাল (১৬৭ মিলিয়ন ডলার) রপ্তানি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এনসিপিকে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী করতে হবে: আসিফ
এর আগে ওমানে ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি রপ্তানি পণ্যে গড়ে ৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ছিল ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। শ্রীবাস্তব জানান, এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে, ওমানের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে, তবে দেশটির জনসংখ্যা (৫৫ লাখ) ও জিডিপি (১১০ বিলিয়ন ডলার) তুলনামূলক ছোট হওয়ায়, রপ্তানি বৃদ্ধির একটি সীমা থাকবে।
বিনিময়ে ওমান ভারতে সরবরাহ করা জ্বালানি, সার ও শিল্প কাঁচামালে সুবিধা পাবে। চুক্তির অধীনে, ভারত তার ৭৮ শতাংশ শুল্ক লাইনে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস করবে।
২০২৬ অর্থবছরে ওমান থেকে ভারত ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার মধ্যে শীর্ষে ছিল অপরিশোধিত তেল (১.৬ বিলিয়ন ডলার), তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (১.২ বিলিয়ন ডলার) এবং সার (৮৪৩ মিলিয়ন ডলার)। এ ছাড়া, শিল্প কাঁচামাল হিসেবে, ওমান ৪৬৫ মিলিয়ন ডলারের মিথানল এবং ৪২৪ মিলিয়ন ডলারের অ্যামোনিয়া সরবরাহ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ যাতে ভারতে না লাগে, সেই চেষ্টা করছে সরকার: মোদি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন