০৫:১৯ পি.এম
বাংলাদেশ ও চিলির মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ায় আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্যে চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শ সভা আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি সইয়ের আশা করা হচ্ছে।
১২ আগস্ট স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় চিলিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (ব্রাজিলে আবাসিক) ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম চিলির প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্তের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্না উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
বৈঠকে চিলির প্রেসিডেন্ট গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার জন্য চিলির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জবাবে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্না বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই সফরের সময় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয়ে চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত করতে আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শ সভার আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে। এই সভা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি চূড়ান্তের ক্ষেত্রে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি
বাংলাদেশের এই প্রস্তুতির কথা শুনে চিলির প্রেসিডেন্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি একই সঙ্গে তার মেয়াদে বাংলাদেশ ও চিলির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে ১২ আগস্ট সকাল ১০টায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত চিলির সিনেটর রোহো এডওয়ার্ডস সিলভার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিনেটর এডওয়ার্ডস ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার কথা রাষ্ট্রদূতকে জানান এবং বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।
এদিকে, ১১ আগস্ট বিকেল ৫টায় চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেন্নার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকের শুরুতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালের ১ জুন চিলির স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন