০২:০৪ পি.এম
ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর টাইর ও এর আশপাশের এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলায় মঙ্গলবার ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শহরটি খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরাইলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এক বন্দুকধারী সেনাদের ওপর গুলি চালালে, তাকে তারা হত্যা করে।
টাইর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
আরও পড়ুন: আজ ৬ ঘণ্টা টোলমুক্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, টাইর ছাড়াও দক্ষিণ লেবাননের আরও এক ডজনের বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরাইল তার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টাইরের কাছে এক হামলায় তিন জন নিহত হন।
এতে দক্ষিণাঞ্চলে ওই দিনের মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছেছে।
ওই হামলায় আরও নয় জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। এর আগে আট জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি: ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালানো হয়েছে
সোমবার ইরান সতর্ক করে বলেছিল, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করবে। এর একদিন পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল।
তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসানে যে কোনো সমঝোতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে লেবাননকে এ সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে।
মঙ্গলবার হিজবুল্লাহ লেবানন কর্তৃপক্ষকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার আহ্বান জানায়।
তাদের মতে, তেহরানের সমর্থন থেকে লেবাননের উপকৃত হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ২৫০ ফুটের বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা, আদালত স্থগিত
কয়েক দিন আগে দক্ষিণ বৈরুতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের জবাবে ইরান ইসরাইলে হামলা চালায়।
গত সপ্তাহে লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ইরানকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এর আগে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
-বাসিন্দাদের সরে যাওয়া-
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ইসরাইলের সতর্কবার্তার পর টাইরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বাসিন্দারা শহর ছাড়তে শুরু করেন।
উত্তরমুখী সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়।
আরেক সংবাদদাতা জানান, টাইর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় শহর সিডনে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
অনেকেই তড়িঘড়ি করে গাড়ির ছাদে মালপত্র বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে আজ যেসব সড়ক দিয়ে যাবে বিএনপির শোভাযাত্রা
মার্চের ২ তারিখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালানোর পর নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে টাইর শহরে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
টাইর সিটি কাউন্সিলের সদস্য ওয়ালিদ আল-তাওয়িল বলেন, ‘এলাকাটি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। কেউ মালপত্র গুছিয়ে চলেম যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার অনেকে ইতোমধ্যে চলে গেছেন। হাতে গোনা কয়েকজন এখনো রয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, অধিকাংশ মানুষ সিডন অথবা বৈরুতের দিকে চলে গেছেন।
জাহরানি নদী টাইর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে। গত মাসে নদীর দক্ষিণের সব এলাকাকে ‘যুদ্ধাঞ্চল’ ঘোষণা করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
আরও পড়ুন: অভিশংসনের পর গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া
-বাড়ছে হতাহতের সংখ্য-
এনএনএ জানায়, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারির আগে টাইরের উপকণ্ঠে একটি হামলা চালানো হয়। পরে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও শহরের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সতর্কবার্তার আগের ওই হামলায় অন্তত আট জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে তখনও জীবিতদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছিল।
১৯৯০ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অন্যান্য সংগঠন অস্ত্র সমর্পণ করলেও হিজবুল্লাহ তা করেনি।
বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে সংগঠনটি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৬৬ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননে ২৯ জন ইসরাইলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রথম যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই তা মেনে চলেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন