ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুফল না মেলায় প্রশ্নের মুখে পৌনে ৩০০ কোটি টাকার খনন প্রকল্প


সুফল না মেলায় প্রশ্নের মুখে পৌনে ৩০০ কোটি টাকার খনন প্রকল্প

যশোরের ভৈরব নদী খননে পৌনে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখনও ন্যূনতম সুফল মেলেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, বিভিন্ন সংস্থার অপরিকল্পিত সেতু ও কালভার্টের কারণে নদীতে জোয়ার-ভাটা ফেরেনি। বরং নৌযান চলছে না। উল্টো কচুরিপানা ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদী। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে বারবার তাগিদ দিয়েও মিলছে না কোনো প্রতিকার।

জানা যায়, গঙ্গা থেকে উৎপত্তি হয়ে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে ঐতিহাসিক ভৈরব নদ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বাঁধ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি অবৈধ দখলে নদী একসময় নাব্যতা হারিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবির মুখে, মৃতপ্রায় ভৈরব নদীতে জোয়ার-ভাটা ফেরাতে খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা

২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি যশোরের চৌগাছা থেকে অভয়নগরের আফরাঘাট পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার নদী খননের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২৭৯ কোটি ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিপুল এই ব্যয়ের পর নদীজুড়ে এখন কেবল কচুরিপানা আর ময়লার ভাগাড় দেখা যাচ্ছে।

কেবল ময়লা-আবর্জনা নয়, খননের পরও এই নদীকে ঘিরে রয়েছে বাঁধ, অপরিকল্পিত কালভার্ট ও ব্রিজ। কিন্তু খননের আগে নদীতে জোয়ার-ভাটা ফেরানোর এবং নৌযান চলাচলের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। অথচ তার কোনো কিছুই বাস্তবে ঘটেনি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবের কারণে পুরো উদ্যোগটি ভেস্তে গেছে।

যশোর সদর উপজেলার নূরপুর এলাকার বাসিন্দা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, 'তিন-চার বছর হয়েছে আমাদের এই নদী খনন হয়েছে। কিন্তু জোয়ার-ভাটা আসে না। এমনকি পানিও সরে না। বিশেষ করে ছোট ছোট কালভার্টের কারণে নদী কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। এই জায়গায় একটি ব্রিজ হওয়ার কথা, কিন্তু সে ব্রিজটাও হচ্ছে না। সরকারি লোকজন কোনো কাজই করছে না।'

আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি

নওদাগাঁ গ্রামের এস এম সোহেল জানান, 'আমাদেরকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, এ নদীতে জোয়ার-ভাটার একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে—কিন্তু আমরা বাস্তবে তার কোনো কিছু দেখতে পারলাম না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের। সরকারি দফতরগুলো সমন্বয় করে কাজ না করায় রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা গচ্চা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা দেখছি যে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, উপজেলা পরিষদসহ যে সব সরকারি দফতর সমন্বয় করে এই নদী খননের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দূর করবে, সে সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করেনি। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে একটি বাঁধ দেয়া হয়েছে। বাঁধটা কিন্তু কয়েকটি জায়গায় একটি মাত্র নয়, নদীর অসংখ্য জায়গায় এ ধরনের বাঁধ দৃশ্যমান। এখানে দুটো ছোট কালভার্ট রয়েছে। এখান থেকে পানি সঠিকভাবে প্রবাহিতও হচ্ছে না। ইতোমধ্যে একটি কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। জনসাধারণ এখানে চলাফেরা করতে গিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি চাই সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করুক। তাহলে এই নদী খননের সঠিক সুফল পাওয়া যাবে।'

ভৈরব বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য তসলিমুর রহমান জানিয়েছেন, 'দীর্ঘকাল ধরে যশোরবাসীর আন্দোলনের পর ভৈরব নদ খনন হয়েছে। কিন্তু খননের মূল দাবি, উজানে নদীর সংযোগ, তা এখনও পূরণ হয়নি। খননের সময় এই ভৈরবের ওপরে চিহ্নিত ৫৩টি সংকীর্ণ সেতু অপসারণ করা হয়নি। যেমন আমাদের দড়াটানা, কাঠেরপুল ব্রিজ। এর ফলে ৮টি সেতু নির্মাণের কারণে মামলা হয়েছে এবং জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেছেন, 'খননের সময় নদীর তীর উদ্ধার ও দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। সবমিলিয়ে ভৈরবের যে পরিপূর্ণ সুফল পাওয়া উচিত, তা আমরা এখনো উপভোগ করছি না। এই সুফল পেতে হলে উজানে নদী সংযোগ দিতে হবে, সংকীর্ণ সেতুগুলি উৎখাত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে নির্মিত হবে তাও নদীমারা সেতু যাতে না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে। তাহলেই ভৈরব নদ পুনরুদ্ধার হবে।'

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ভৈরব বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু জানিয়েছেন, 'যশোরবাসীর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভৈরব নদ খনন জন্য ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সে টাকার অনেকটাই হরিলুট হয়েছে। খননের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে নদীর দুই পার খনন হয়েছে, মাঝখানে বুক উঁচু। আরও বড় সমস্যা হল স্থানান্তরের জন্য উজানে নদী সংযোগ করা হয়নি, ফলে খনন কার্যকর হচ্ছে না।'

তিনি বলেছেন, 'একটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় নেই। সংকীর্ণ কালভার্ট এবং সেতুর কারণে খনন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এর পরেও খনন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ফলে আমাদের নদীর যে খরস্রোতা আইন, সেটি পালন করা হয়নি। স্বাভাবিক কারণে খননের তেমন কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেই।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা মনে করি যে নদীর খরস্রোতা আইন মেনে নদীকে রক্ষা করতে উজানের মাথাভাঙ্গার সঙ্গে নদী সংযোগ করে জোয়ার-ভাটা তৈরি করার প্রয়োজন। তাহলেই ভৈরব নদীর গুরুত্ব দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ছোট ছোট খাল এবং পুরো সুন্দরবনে থাকবে। এটি কারণ ভৈরব নদী এই অঞ্চলের প্রধান নদী। এজন্য উজানের মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ এবং খরস্রোতা আইন বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি এবং এ মুহূর্তেই দরকার।'

এই বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেছেন, 'আমরা স্বীকার করছি নদীর ওপর যে অপরিকল্পিত কিছু ব্রিজ ও কালভার্ট রয়েছে, সেগুলোর কারণে নদী আবার ভরাট হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে বারবার তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছি না। ভৈরবের ওপর সবচেয়ে বেশি স্থাপনা এলজিইডির। তারা কিছু উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা থমকে আছে।'

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি ১১-দলীয় জোটের

তিনি আরও বলেন, 'যদি দ্রুত এসব স্থাপনাগুলো অপসারণ করা না হয়, তাহলে যশোর শহরের দড়াটানা থেকে চৌগাছার তাহেরপুর পর্যন্ত ৫৭ কিলোমিটার নদী তার সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।'

এ বিষয়ে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, 'ভৈরব নদীর ওপর এলজিইডি, সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের অনেকগুলো স্ট্রাকচার আছে। এলজিইডির স্ট্রাকচারের মধ্যে আমাদের বর্তমানে বসুন্দিয়া ব্রিজ নির্মাণ জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডারে চলে গেছি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি। আর বাকি স্ট্রাকচারগুলো পুনরায় সার্ভে করে সঠিক ডিজাইন এবং ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রেখে ডিজাইন করার প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।'

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ভৈরব নদীর ওপর মোট ৫৪টি অপরিকল্পিত কালভার্ট ও ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে এলজিইডি'র ২৬টি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৪টি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের ১৯টি, রেলওয়ের একটি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের একটি এবং বিএডিসির তিনটি।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ বিকেলে আসছে এলপিজির নতুন মূল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ এম


আজ বিকেলে আসছে এলপিজির নতুন মূল্য

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আজ বাড়বে নাকি কমবে, তা জানা যাবে আজ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টায় চলতি মাসের জন্য নতুন এই দাম ঘোষণা করা হবে।

এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত জুলাই (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, চলতি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঘোষণা করা হবে।

আজকের দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহীদ প্রকৌশলী ভবনের (৬ষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দর ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া এলপিজির নতুন দর ঘোষণা সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, ২ জুন দিন ছিল, যখন বিইআরসির পরিবর্তন অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেই সাথে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজ দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, এমনটি জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস। এই সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা হয়ে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।

দিনে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে এই তথ্য। পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের প্রভাবে কমেছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের প্রভাবে কমেছে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে—এমন একটি ইঙ্গিতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ব্রেন্ট এবং পশ্চিম টেক্সাস মধ্যবর্তী সূচকের উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম নেমে এসেছে গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৩৮ ডলার বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অপর দিকে, পশ্চিম টেক্সাস মধ্যবর্তী সূচকের অপরিশোধিত তেলের দাম ৯২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৫৮ ডলারে নেমে এসেছে। দুই সূচকই মার্চের পর সর্বনিম্ন দামে লেনদেন শেষ করেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পৃথকভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা যথাক্রমে ‘খুব ভালো’ এবং ‘অত্যন্ত ভালো’ভাবে এগোচ্ছে।

রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কমে যায়।

স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, কাতারে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে তেলের দাম আরও কমেছে এবং সামনে আরও কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ‘খুব ভালো’ অবস্থায় রয়েছে এবং কাতারে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোও ইতিবাচক হয়েছে।

সরাসরি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র এবং ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে দোহায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান।

তবে অন্তর্বর্তী সমঝোতার ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনো পার্থক্য রয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।

প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পরিবহনের সম্ভাবনায় বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তার মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশ্বে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি তেল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩৮ লাখ ব্যারেল কমে ৪০ কোটি ৮৪ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটি সর্বনিম্ন মজুত। ৪ জুলাইয়ের ছুটিকে সামনে রেখে দেশটির শোধনাগারগুলোর চাহিদা বাড়ায় এই মজুত কমেছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকদের ৪৫ লাখ ব্যারেল কমার যে পূর্বাভাস ছিল, প্রকৃত হ্রাস তার চেয়ে কম।

রয়টার্সের আরেক জরিপে দেখা গেছে, টানা পাঁচ মাস বাড়ার পর এবং ইরান-সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের তেলের দামের পূর্বাভাস কমিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল থাকায় দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে।

এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৪৫ ডলার কমেছে, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে প্রায় ৩১ ডলার, যা ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদোন্নতি আন্দোলন অব্যাহত, উপাচার্যের প্রতিশ্রুতিতে অনাস্থা বেরোবি কর্মকর্তাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসফিকুল হাসান,বেরোবি প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


পদোন্নতি আন্দোলন অব্যাহত, উপাচার্যের প্রতিশ্রুতিতে অনাস্থা বেরোবি কর্মকর্তাদের

উপাচার্যের আশ্বাসের পরও অনাস্থা প্রকাশ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে তারা কর্মসূচির সময়সীমা কমানোর নিয়েছেন তারা।

বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা।

তারা জানান, আগামীকাল থেকে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কর্মসূচির সময় কমানো হয়েছে।

আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর কাছ থেকে একাধিকবার আশ্বাস পেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ আলোচনাতেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আশ্বাসের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। ফলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

তারা আরও বলেন, শুরুতে কর্মবিরতি এবং পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর করা হতে পারে।

এর আগে, গত ২৮ জুন নির্ধারিত পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত না হওয়ায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সেদিনের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%