০২:২৬ পি.এম
চীনের এক ব্যক্তি ফ্ল্যাট কেনার পর একটি প্রতারণার শিকার হন, যেখানে তিনি শুধু অর্থই হারাননি, হারিয়েছেন বাসস্থানও। যে ৩৪তম তলার ফ্ল্যাটটি তিনি কিনেছিলেন, পরে জানা যায় যে তার অস্তিত্ব নেই। কারণ পুরো ভবনটি ছিল মাত্র ৩২ তলা।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেন নামের ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরের কাছে একটি গ্রামে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন যে তিনি তথাকথিত ‘গ্রে-মার্কেট’ আবাসন প্রকল্পের একটি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
শেন ৯০ বর্গমিটার আয়তনের একটি ফ্ল্যাট প্রতি বর্গমিটার ২,৬৪৬ ইউয়ান দরে কিনেছিলেন, যা ওই এলাকার গড় বাজারমূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। কম দামের কারণ হিসেবে প্রকল্পটিকে ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশ তদন্ত শুরু
প্রতিবেদন অনুসারে, চীনে এ ধরনের আবাসন সাধারণত সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয় এবং সাধারণ আবাসিক প্রকল্পগুলোর মতো আইনি সুরক্ষা পায় না। ফলে এগুলো আইনগতভাবে পুনরায় বিক্রি করা যায় না এবং চীনের সম্পত্তি আইনে স্বীকৃত নয়। তবুও কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন।
২০১৩ সালে শেন প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান অগ্রিম পরিশোধ করেন। তার দাবি, ডেভেলপার তখন আশ্বাস দিয়েছিল যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদপত্র পরে সংগ্রহ করে দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের প্রকল্পের জন্য সেই অনুমোদন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
ফ্ল্যাটটি ২০১৫ সালে হস্তান্তরের কথা থাকলেও নির্মাণকাজে বিলম্ব ঘটে। পরে ২০১৭ সালে ডেভেলপার শেনকে জানান, সম্পূর্ণ ভবনে ৩২টি তলা রয়েছে, যার ফলে তার কেনা ইউনিটটি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ডেভেলপার তাকে ৩২তম তলায় একটি ফ্ল্যাট দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় সেই ফ্ল্যাটও দুই মাস পর অন্য এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।
এরপর শেন অর্থ ফেরতের দাবি জানালে ডেভেলপার আর্থিক সংকটের কথা বলে পুরো টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। ২০২০ সালে তিনি ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পেলেও পরে ডেভেলপারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফর শেষে আজ ঢাকায় আসছেন লিউ হাইশিং
পরবর্তীতে শেন বিষয়টি সালিশে নিয়ে যান। সালিশি কর্তৃপক্ষ ডেভেলপারকে তার বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান অগ্রিম অর্থ এবং ২৭ হাজার ইউয়ান সুদ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।
তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন সেই অর্থ পাননি। পরে স্থানীয় আদালত দেনাদারের বিরুদ্ধে ভোগব্যয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও আদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ডেভেলপারের নামে কোনো নিবন্ধিত সম্পদ বা ব্যাংক সঞ্চয় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফ্ল্যাট কেনার এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেন এখনও ঘরহীন এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণও পাননি। ঘটনাটি চীনে আইনি সুরক্ষাহীন কমদামি আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
আরও পড়ুন: দিশার সঙ্গে বিরোধের পর তাহসিফ টঙ্গীর মাঠে হেরোইন খুঁজতে যান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন