শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩১ পি.এম
ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশের ১৮ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য পাওয়া গেছে।
সাইবারস্টেশনের এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ব্রেইন স্টেশন–২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি ছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইবারস্টেশন ১৫টি খাতের মোট ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে এবং প্রায় সবকটির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। অন্যদিকে, তথ্য ফাঁসের হার সবচেয়ে বেশি ছিল প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান ন্যূনতম হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, ‘যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা প্রতিকারও করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্যগুলো ফাঁস হয়েছে এবং অপরাধীরা এসব তথ্যের অপব্যবহার করার আগেই যেন ব্যবস্থা নিতে পারে।’
ব্রেন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা সচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল তৈরির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের একটি প্যানেল আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে অনুষ্ঠানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনপুর গ্রামে বাউন বিলের পাশের একটি সরকারি জমি ব্যবহারের সুযোগ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাউন বিলের পাশের খোলা মাঠটি হাছনপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য স্থান। কৃষকেরা এ মাঠে ধান মাড়াই, ফসলের ধান শুকানোসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ করে থাকেন। এ ছাড়া মাঠে গবাদিপশু চারণ এবং শিশুদের খেলাধুলারও সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জায়গাটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের অভিযোগ, জমিটি বন্দোবস্ত দেওয়ার পর মাঠে যাতায়াতের ছোট রাস্তা ব্যবহার নিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সল আহমদ বলেন, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি বিভিন্ন কৃষিকাজে ব্যবহার করছেন। জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ব্যবহারের সুযোগ বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।
গ্রামের মোতাওয়াল্লি মোশাররফ আলী বলেন, এ জায়গাটি শুধু আমাদের গ্রামের মানুষের প্রয়োজন নয়, আশপাশের শাহপুর, আলমপুর ও মাইজবাড়ী গ্রামের মানুষেরও এটি প্রয়োজন। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা জরুরি।”
অন্যদিকে, বন্দোবস্ত নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়ে রাকিব আলীর ভাতিজা মিজানুর রহমান জমিসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখান। তাঁর দাবি, তাঁরা সরকারিভাবে জমিটি বন্দোবস্ত নিয়েছেন এবং কাউকে ব্যবহারে বাধা দেননি। মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জমিটির ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় কৃষিকাজ, গবাদিপশুর চারণ, শিশুদের খেলাধুলা ও যাতায়াতের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হোক।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বাসিন্দা শামসু মিয়া, আকবর আলি, আব্দুল জলিল, মোশাররফ আলী, জামির আলী, শামসুদ্দিন, আলী হোসেন, মসাদ্দর আলী, আম্বিয়া রহমান, আতাউর রহমান, সাজিদুর রহমান, একলাছ আলী, হাবিবুর রহমান, আব্দুল মালেক ও আকাশ মিয়াসহ শতাধিক লোকজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার অভিজাত ক্লাব এবং পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে সম্প্রতি অভিযান জোরদার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অবৈধ মাদক বিক্রি এবং অনুমোদনহীন কর্মকাণ্ড বন্ধে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলা হলেও, এর নেপথ্যে প্রভাবশালী একটি চক্রের চাঁদাবাজি ও চাঁদাদাবির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সর্বশেষ গত রাতে গুলশানের তথাকথিত 'জার্মান ক্লাব'-এ একটি অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি 'সেভেন্টি এইট রেস্ট হাউজ সোসাইটি' নামে নিবন্ধিত হলেও মূলত কোনো বৈধ বার লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অভিযানে ডিএনসি বিপুল পরিমাণ মদের বোতল জব্দ করে এবং ক্লাবের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ স্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর বিতর্ক।
'সমস্যা সমাধানের' নামে মাসোহারা দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বার ও ক্লাব মালিকের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারঘনিষ্ঠ লন্ডন ফেরত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ইশারায় এই সিরিজ অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি বার মালিকদের ডেকে নিয়ে 'সমস্যা সমাধান' করার নামে মাসিক নির্দিষ্ট অংকের টাকা (মাসোহারা) দাবি করছেন। চাঁদা না দিলে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী বার মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা দিতে হবে, অন্যথায় অভিযান থামবে না। আইনি ব্যবস্থার আড়ালে মূলত এটি একটি নতুন ধরনের র্যাকেট।"
ক্ষমতার অপব্যবহার ও লুটপাটের নতুন প্রতিযোগিতা
শুধু ক্লাব কেন্দ্রিক চাঁদাবাজিই নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভেতরে বদলি বাণিজ্য, জমি ও সম্পদ দখল এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ক্ষমতার পদে থাকা অনেকেই অনৈতিক উপায়ে অর্থ কমানোর মিশনে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে করুণ দিক হলো—যারা অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে মজলুম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, তারাই আজ ক্ষমতার চেয়ারে বসে 'জালিম'-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
দেশ পুনর্গঠন ও ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাগ্য বদলের এই মানসিকতায় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দেশবাসী আশা করেছিল পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সুশাসিত সমাজ গঠিত হবে, কিন্তু বাস্তবে তা নতুন রূপের দখলদারিত্ব ও লুণ্ঠনে রূপ নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে পুলিশের অভিযানে আটক সাতজনকে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হানিফ খান ও সিফাত খলিফা নামের দুই আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. অহিদুজ্জামান অহিদ তাঁদের পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আসামি পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার পাকদী এলাকার শাহীন বেকারির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর মডেল থানা-পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পাকদী এলাকার তাজন নেছা স্মৃতি সংঘ নামের একটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন—নান্না খলিফার ছেলে সিফাত খলিফা (২৫), হাবিবুর রহমানের ছেলে হানিফ খান (৪০), মৃত ডাবলু খলিফার ছেলে আরিফ খলিফা (২৯), মৃত রকিব খানের ছেলে শ্রাবণ খান (১৮), জাহাঙ্গীর আলম সরদারের ছেলে ইয়ারসিন সরদার (১৮), মনির মাতুব্বরের ছেলে রমজান মাতুব্বর (১৮) এবং মৃত দবির মুনশির ছেলে মো. মঈন মুনশি (২২)। তাঁরা সবাই পাকদী এলাকার বাসিন্দা।
আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিড়ের মধ্যে হানিফ খান ও সিফাত খলিফা হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে তাঁদের খুঁজতে পুলিশ আবারও পাকদী এলাকায় অভিযান চালায়। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. অহিদুজ্জামান অহিদ ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অহিদুজ্জামান দাবি করেন, পুলিশ ভুল করে ওই দুই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে রেখে গিয়েছিল। পরে অন্য একটি পিকআপ এসে তাঁদের নিয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, আসামিরা অন্য কোথাও যাননি এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো সমস্যা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকদী এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাগ্বিতণ্ডার সময় ভিড়ের সুযোগে ওই দুই ব্যক্তি হাতকড়াসহ সরে পড়েন। পরে তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ পুনরায় এলাকায় অভিযান চালায়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আসামি পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হানিফ খান ও সিফাত খলিফাকে হাতকড়াসহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় তিনি তাঁর মুঠোফোনে ওই দুই ব্যক্তির ছবি দেখান। তবে ছবিতে আটক অন্য পাঁচজনকে দেখা যায়নি।
ওসি আরও বলেন, ওই ক্লাবে মাদকের কারবার চলে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, "আমরা সবাই মিলে সহযোগীতা করে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাটাই এ মুহুর্তে খুব জরুরি। কারণ দেশের প্রয়োজন আছে, মানুষের জন্য নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "১৭ বছরের বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। আমি-আপনি আন্দোলন করে সরকার গঠন করেছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিলো না। আজকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নতুনভাবে শুরু করেছি। এই যাত্রা অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে। অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই টার্গেট পয়েন্টে পৌঁছাতে হবে।" মন্ত্রী বলেন, "সেজন্য যে যেখানে আছি না কেন, আমাদের দায়িত্ব হল সর্বাত্মক সহযোগীতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ঠিক রেখে সামনের দিনগুলো পার করার।" তিনি যোগ করেন, "দলমত নির্বিশেষে চেষ্টা করবো দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী করে রাখি। তাহলে অন্তত রুটিং ওয়ার্কও যদি আমরা করে যেতে পারি বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব।"
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানটি শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয়। এসময় ২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, "১৭-১৮ বছর বাংলাদেশে ভালো ইতিহাস ছিলো না। আমরা একেকজন একেকভাবে ওই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। আজকে একটা আমাদের স্বাভাবিক জীবন এসেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই স্বাভাবিক জীবন পাবো গত ৩ বছর আগেও আমরা এটা চিন্তা করিনি, কিন্তু আমরা পেয়েছি। এই স্বাভাবিবক জীবনটাই হল আমাদের ধরে রাখা।" তিনি বলেন, "ধরে রাখতে গেলে এতোদিন রাজনৈতিক যুদ্ধ করেছি, এখন আমাদেরকে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে অভাব আছে, অনটন আছে। এই অভাব অনটনের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে সেই স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত চলতে হচ্ছে।" তিনি প্রশ্ন করেন, "এরপরও যদি স্বাভাবিক জীবনটা না পাই, তাহলে আপনার শিক্ষা, অবস্থান, সচেতনতা, সমাজ কর্মী, মানব কল্যাণে নিযোজিত ব্যক্তি, এই যে আমার রাজনীতি এটার কি-বা মূল্য আছে?"
মন্ত্রী আরও বলেন, "সারাদেশে আমরা যেভাবে কাজ শুরু করেছি, এতোটুকু বলতে পারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মহতি উদ্যোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন।" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, "উনার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।" তিনি মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আপনারা দেখেছেন, তার সংগ্রামী জীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন, সবশেষ আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন।"
মন্ত্রী বলেন, "একই পরিবারের একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, একজন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন, আরেকজন এখন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা একেকজন একে ইস্যুতে কথা বলি। পার্লামেন্টে আমরা সুন্দর আলোচনাও করি। কিন্তু বাহিরে গিয়ে সেই আলোচনা আমরা অনেক সময় ধরে রাখতে পারি না।" তিনি সতর্ক করেন, "আবার আমরা একটু রেগে যাই, আমরা আবার অন্য কর্মসূচিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেটা অনেক সময় দেশের জন্য ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।"
লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ছাইফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন ও লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ