০১:৩৩ পি.এম
শিশু মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় রায়ে একমাত্র আসামী আবুল হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুনের এই মামলায় বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আবুল হোসেন ওরফে ফটিক (২৯) জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর (বড় মসজিদপাড়া) গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।
মামলার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সকাল প্রায় ১১টার দিকে গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনসহ কয়েকজন শিশু হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা
এ সময় আবুল হোসেন মরিয়মকে শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাশের ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যান এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মরিয়ম ফিরে না আসায় অন্য শিশুরা বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে মরিয়মের স্বজনরা ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলার বিচার চলাকালে আসামী চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।
বিচারিক কার্যক্রমে মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত বুধবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ২০ জুলাই এই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
চার্জশিট, সাক্ষ্য-প্রমাণ, স্বীকৃতিমূলক জবানবন্দি এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছে। আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন