মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩১ এম
ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন, সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন যে ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদ্বায়ী মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম, সিংগিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দৌলতপুর সলেমান খান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম, বড়গ্রাম আলিম মাদ্রাসার সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার কে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি দলের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির সন্নিকটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ছাত্রনেতারা। তাদের জন্য ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করেন তৎকালীন এএফপির ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির। বর্তমানে তিনি দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, এএফপির ঢাকা ব্যুরোতে তার ডেস্ক থেকে মাত্র এক গজ দূরে বসে শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই বিষয়ে জানতেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি। ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন শিশির নিজেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছাড়ার সময় তখনও দুই দিন বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা বাহিনী পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে কুখ্যাত ওই বাহিনী বিষয়টি জানতে পারলে শিশিরসহ এএফপির পুরো দলকে গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখার আশঙ্কা ছিল।
শফিকুল আলম আরও লেখেন, পুরো সময়জুড়ে শিশির অত্যন্ত শান্ত ও অবিচল থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি গোপনে ওই সময়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করতেও শুরু করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাহিত্যিক সুমন রহমান কর্তৃক সম্পাদিত ‘খালেদা জিয়া এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমকালীন বিশ্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অধিকারী নেতার উদাহরণ বিরল।
মন্ত্রী আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন পর্যায় থেকে যে শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে, তা তাঁর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাবের প্রতিফলন। তিনি তাঁর মহাপ্রয়াণকে মাও সে তুংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তির সঙ্গে তুলনা করে ‘পাহাড়ের মতো ভারী’ বলে উল্লেখ করেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত ‘খালেদা জিয়া এক মৃত্যুঞ্জয়ী মহীয়সী’ গ্রন্থটি তাঁর জীবন ও সময়কে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রন্থটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গ্রন্থাগারসমূহে গ্রন্থটি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জন রিডের ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’-এর ঐতিহাসিক উপমার উল্লেখ করে তিনি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে ‘দুনিয়া কাঁপানো বিশ দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দুর্নীতি, অনিয়ম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, গুম, মামলা, হামলা এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’—এই আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ আহ্বান দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেনিন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এ কে এম হাফিজুল্লাহ খান লিটন।
বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ভূমিকা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জোট গঠনের আলোচনা শেষে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে। তবে, তার বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়াগুলো থেমে থাকবে না। বরং, ক্ষমতা হারানোর পর বিদেশের আদালতে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত দায়মুক্তির সুরক্ষা কমে যেতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, হত্যা ও নিপীড়ন। নেতানিয়াহু যদি ক্ষমতা ছাড়েন, তবুও পরোয়ানাটি বহাল থাকবে, যদি না আদালত তা প্রত্যাহার করে। তবে, তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা না হলে বিচার শুরু করা সম্ভব নয়।
আইসিসির পাশাপাশি, তুরস্কেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা ও অনুপস্থিতিতে গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয় রয়েছে। গাজামুখী ত্রাণবহরে ইসরাইলের অভিযানের ঘটনায় নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধান হিসেবে নেতানিয়াহু কিছু দেশের জাতীয় আদালতে ব্যক্তিগত দায়মুক্তির সুবিধা পেতে পারেন। তবে, এই সুরক্ষা সাধারণত পদ ছাড়ার সঙ্গে শেষ হয়। এরপর, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিদেশি আদালতে বিচারের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। যদিও সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত কাজের জন্য কার্যগত দায়মুক্তির প্রশ্নটি আদালতভেদে বিবেচিত হতে পারে।
ফ্রান্স, ইতালি ও হাঙ্গেরি অতীতে নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে দায়মুক্তির যুক্তি তুলেছে। তবে, আইসিসি হাঙ্গেরিকে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার না করায় সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। তারপরও, তার গ্রেফতার নিশ্চিত নয়, কারণ আইসিসির নিজস্ব পুলিশ বাহিনী নেই; পরোয়ানা কার্যকরে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার করা ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ছাড়ার কারণে বন্ধ হবে না। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের দায় নিয়ে। মামলায় নেতানিয়াহুর বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত প্রমাণের অংশ হতে পারে। তবে, চূড়ান্ত রায় আসতে আরও কয়েক বছর লাগতে পারে।
ইসরাইলের অভ্যন্তরেও নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার চলমান। ২০২০ সাল থেকে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তিনটি মামলায় বিচার চলছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দোষ স্বীকার না করেই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ক্ষমার আবেদন করেন। তবে, আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে আদালতের বাইরে সমঝোতার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ হবে না। বরং, বিদেশি আদালতে ব্যক্তিগত দায়মুক্তি হারানোর কারণে তার আইনি ঝুঁকির ধরন বদলাতে পারে। তবে, গ্রেফতার, বিচার ও মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আদালত, রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং আইনি সিদ্ধান্তের ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলায় আদালত পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) শালিখা আমলি আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে বিচারক বর্ণালী রানী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত অবস্থায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা শালিখা উপজেলার বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে তাঁর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেন।
পরবর্তীতে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডকে সে সময় ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল।
নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শালিখা থানাকে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র থেকে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের জামাতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ